ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২০ জুলাই ২০২৪ ৫ শ্রাবণ ১৪৩১
আপনাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এত মারামারি কেন হয়?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 2 July, 2024, 8:16 PM

আপনাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এত মারামারি কেন হয়?

আপনাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এত মারামারি কেন হয়?

৪৪তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১১ হাজার ৭৩২ প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা চলবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত। প্রার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার জন্য আগে যাঁরা মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে সফল হয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা প্রথম আলোয় প্রকাশ করা হচ্ছে। নিয়মিত আয়োজনের আজ দশম পর্বে মৌখিক পরীক্ষার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন ৪৩তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত (মেধাক্রম ২১) জাফর আহাম্মদ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন জাফর আহাম্মদ। ৪৩তম বিসিএসে তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল প্রশাসন ক্যাডার, দ্বিতীয় পুলিশ ক্যাডার। মৌখিক পরীক্ষায় প্রায় ৩২টি প্রশ্ন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৫টির উত্তর দিতে পারেন।

জাফর আহাম্মদ বলেন, ‘৪৩তম বিসিএস আমার প্রথম বিসিএস ভাইভা। পিএসসিতে প্রথম ভাইভা হওয়ায় মিশ্র অনুভূতি কাজ করছিল। মনে ভয় থাকলেও নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ভাইভা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি, ভালো অনুভূতি হচ্ছিল। কেমন প্রশ্ন হবে, উত্তর কেমন হবে—এসব চিন্তা মাথায় এলেও ভাইভা কক্ষে প্রবেশের পর সব স্বাভাবিক মনে হলো। হাসিমুখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিয়েছি, যেসবের উত্তর পাইনি, সেগুলোর ক্ষেত্রে সরি বলেছি।’

মৌখিক পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশের পর জাফর আহাম্মদকে বলা হয় আপনার পড়াশোনা চট্টগ্রাম বিদ্যালয়ে। বাড়ি হাতিয়া। আচ্ছা বলুন, আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা হয়? এত বেশি মারামারি কেন হয়? উত্তরে জাফর আহাম্মদ বলেন, ‘স্যার কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ভালো হয় আর মারামারির মূল কারণ গ্রুপিং।’

আপনি হলে ছিলেন? উত্তরে না বলার পর ভাইভা বোর্ড জাফরকে বলেন, তাহলে আপনি মারামারির আসল কারণ জানবেন না। হাতিয়া একটি দ্বীপ, মাতারবাড়ীও একটি দ্বীপ। মাতারবাড়ীতে সরকারের কয়েকটি প্রকল্পের নাম বলুন?

জাফর আহাম্মদ উত্তর দেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র। গভীর সমুদ্রবন্দর বলা হয় কেন? তিনি বলেন, এখানে বন্দরের গভীরতা অনেক বেশি। এখানে বড় বড় জাহাজ সহজে ভিড়তে পারে। পানির অনেক নিচ পর্যন্ত জাহাজ ডুবে থাকতে পারে। এ জন্য গভীর সমুদ্রবন্দর বলা হয়।

বঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধন কত তারিখে? টানেলটি করতে কোন দেশ সহযোগিতা করছে? জাফর আহাম্মদ উত্তর দেন, বঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধন ২৮ অক্টোবর। টানেলটি করতে চীন/জাপান সহযোগিতা করেছে। ঠিক কোন দেশ সাহায্য করেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম না।

ইপিজেড কী? বাংলাদেশে কয়টি ইপিজেড আছে? জাফর বলেন, ইপিজেড হলো এক্সপ্রোর্ট প্রসেসিং জোন। বাংলাদেশে মোট ১০টি ইপিজেড আছে। সরকারি ৮টি, বেসরকারি ২টি।

আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কোনো প্রজেক্ট আপনার সবচেয়ে ভালো লেগেছে? উত্তরে পদ্মা সেতুর কথা বলেন জাফর। জাফর আহাম্মদ বলেন, ‘অনেক ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করেও বিশ্ববাসীকে আমরা আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছি এই প্রকল্পের মাধ্যমে। পদ্মা সেতুর অবদান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, দক্ষিণবঙ্গে আমূল পরিবর্তন এনেছে। যোগাযোগব্যবস্থা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিল্পায়ন, কৃষি ক্ষেত্রে অগ্রগতি সর্বোপরি ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের জাতীয় জিডিপিতেও অবদান রাখছে।’


ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য কত? উত্তর দেন, ১৯ দশমিক সামথিং কিলোমিটার। দশমিকের পরের সংখ্যা মনে ছিল না। জাইকার কয়েকটি প্রকল্পের নাম জানতে চাইলে জাফর বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মেট্রোরেলের কথা মনে পড়ছে শুধু।’

যুদ্ধের পর কোনো দেশ আমাদের সাহায্য করেছে বেশি? জাফর আহাম্মদ উত্তর দেন, জাপান। তখন ভাইভা বোর্ড বলে, ঠিক আছে, ওরা তো আমাদের বন্ধু, স্পেসিফিক আর কোনো দেশ? তিনি ভারতের কথা বলেন।

রপ্তানি কোনো দেশে বেশি করে বাংলাদেশ? কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে? জাফর আহাম্মদ বলেন, ‘রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে বেশি করে বাংলাদেশ আর ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অনেক দেশের সঙ্গেই আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।’


ইউনেসকো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট কয়টি? জাফর আহাম্মদ এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর না জানায় বলেন, সরি স্যার, সংখ্যাটি মনে নেই। এরপর ইপিজেড–সংক্রান্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসপুট এবং সিবিএ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। অর্গানাইজেশনে হেলথ-সেফটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্কারদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা। যেকোনো দুর্ঘটনায় এবং অসুস্থতায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ঝুঁকির পরিমাণ কমিয়ে আনা।

প্রতিষ্ঠানগুলো এ নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করে? এমন প্রশ্নের উত্তরে জাফর আহাম্মদ বলেন, যথাযথ নীতিমালা প্রণয়ন করা। ওয়ার্কারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা। রিস্ক এনালাইসিস করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ফার্স্ট এইডের ব্যবস্থা রাখা।

হেলথ অ্যান্ড সেফটির বিষয়টি কোথায় বলা আছে? তিনি শ্রমিক আইনের কথা বলেন। আউটসোর্সিং কী? এর উত্তরে বলেন, এটা এমন একধরনের প্রক্রিয়া যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে। কাঠ থেকে টেবিল বানানো হয়েছে, এটা কী ধরনের ইউটিলিটি? এই প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকায় বোর্ডকে দুঃখিত বলেন জাফর আহাম্মদ।

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: [email protected]
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status