ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬ ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুয়েটে হিজবুত তাহরীর ও ছাত্রশিবির ‘ঠেকানোর’ দাবি ১৭ শিক্ষার্থীর
শামীম শেখ
প্রকাশ: Monday, 29 April, 2024, 10:15 PM

বুয়েটে হিজবুত তাহরীর ও ছাত্রশিবির ‘ঠেকানোর’ দাবি ১৭ শিক্ষার্থীর

বুয়েটে হিজবুত তাহরীর ও ছাত্রশিবির ‘ঠেকানোর’ দাবি ১৭ শিক্ষার্থীর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) হিজবুত তাহরীর ও ইসলামী ছাত্রশিবির যাতে কার্যক্রম চালাতে না পারে, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষালয়টির একদল শিক্ষার্থী।

সোমবার ২৯ এপ্রিল, বিকালে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান ছাত্রলীগ সমমনা হিসেবে পরিচিত ১৭ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছয়জন এক মাস আগে বলেছিলেন, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকাবস্থায় ‘গোপনে’ হিযবুত তাহরীর, ইসলামী ছাত্রশিবির সক্রিয় আছে।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “আমরা বুয়েট ক্যাম্পাসে হিজবুত তাহরীর ও শিবিরের মতো মৌলবাদী সংগঠন যে সক্রিয়, তার অভিযোগ করেছিলাম। আমাদের অভিযোগের সত্যতা বুয়েটের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। সেই সিসিটিভি ফুটেজে যাদের দেখা গেছে তাদের বিরুদ্ধে খুব তাড়াতাড়ি বাবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা উপাচার্যের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

"তারা কি বুয়েটের নাকি বাইরের- এই বিষয়টি নিয়ে আমরা সন্দিহান। যদি তারা বুয়েটের বাইরের হয়, তবে তারা বুয়েটের অভ্যন্তরে প্রবেশ কীভাবে করলো? আর যদি বুয়েটের হয়, তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তাদের পরিচয় উল্লেখ করে তাদেরকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হোক।"

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরার ফাহাদকে রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটে নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি। 

এরপর ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে আসা বুয়েটের ২৪ জন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৪ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে বুয়েট সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়জন সদস্য ছিলেন, যে কমিটি সম্প্রতি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “আমরা ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দ্বারা আমরা প্রায়ই অনলাইন ও সরাসরিভাবে হেনস্তা ও অপমানের শিকার হয়েছি। ২০২৩ সালের ৩১ এ জুলাই সুনামগঞ্জে আটককৃত ২৪ বুয়েট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়, আমরা একটি মানববন্ধনের মাধ্যমে তার সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করি।

“এই মানববন্ধনের পরেই বিষয়টি বদলাতে শুরু করে, মানববন্ধনে দাঁড়ানোর কারণে সকল ছাত্রদের ডেকে ডেকে জবাবদিহিতা চাওয়া হয়। বিভিন্নভাবে হলে সিট বাতিল অথবা টার্ম বহিষ্কারের ভীতি প্রদর্শন করা হয়। অরিত্র ঘোষ এবং মিশু দত্তকে আনুমানিক সময় রাত ১১ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত আহসান উল্লাহ হলের কমন রুমে এবং মাঠে জবাবদিহিতা চাওয়া হয়। সবাইকে ডেকে এনে সবার সামনে আমাদের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া, একেই সঙ্গে ক্যাম্পাস এ কিছু মানুষ দ্বারা অসংলগ্ন আচরণ- আমাদের অপমানের শামিল।"

এর আগে সংবাদ সম্মেলনকারীরা সোশাল মিডিয়ায় অবমাননা ও র‍্যাগিংয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন।

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার মধ্যে গত ২৮ মার্চ গভীর রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ একদল নেতাকর্মী বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। 

আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ছয় দফা দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম রাব্বীকে বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ’ ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকের অপসারণ। 

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পুরকৌশল বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম রাব্বীর হলের সিট বাতিল করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, রাব্বীই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতাদের সমাগম ঘটিয়েছিলেন। 

পরে রাব্বীর রিট আবেদনে হলের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয় হাই কোর্ট। তার আলাদা আবেদনে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতির ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞাও স্থগিত করে উচ্চ আদালত। তাতে প্রকৌশল শিক্ষার এই বিদ্যাপীঠে ছাত্র রাজনীতি ফেরার পথ খোলে।

ঈদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খোলার আগে গত ১৬ এপ্রিল বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পদে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুরকৌশলের অধ্যাপক মোহাম্মদ আল আমিন সিদ্দিককে। তার পরও শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরেননি।

ছাত্রলীগ সমমনাদের নেতৃত্বে থাকা বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আশিক আলম বলেন, “বুয়েটের আরও অনেক শিক্ষার্থী ছাত্ররাজনীতির পক্ষে। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা প্রকাশ্যে বলতে পারছে না।

“ছাত্র রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিলে সামাজিকভাবে হেনস্থা ও বয়কট করা হয়। তাই শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসছে না। তবে এখন তারা সাহস পাচ্ছে, ছাত্ররাজনীতির পক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, এটা আরও বাড়বে।"

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status