|
রাবিতে দুদকের অভিযান
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() রাবিতে দুদকের অভিযান এদিন নির্মাণাধীন হলটিতে অভিযান চালিয়ে কিছু তথ্য সংগ্রহের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে রেজিস্ট্রারের দপ্তরে বৈঠকে বসেন দুদকের কর্মকর্তারা। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক তারিকুল হাসান, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম আজাদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী খন্দকার শাহরিয়ার রহমান। বৈঠক শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন এ এইচ এম কামারুজ্জামান হলের অডিটোরিয়ামের ছাদ ভেঙে পড়ে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের হটলাইন নাম্বারে (১০৬) প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা এই অভিযানে এসেছি। ভবনটির নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি আছে কি না পরীক্ষা করার জন্য নিরপেক্ষ প্রকৌশলীসহ আমরা পরিদর্শন করেছি। আমরা কিছু রেকর্ড সংগ্রহ করেছি। রেকর্ডগুলো এবং প্রকৌশলীদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা কমিশনকে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবো। এরপর কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, নির্মাণকাজে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। এই ভবনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন অন্যান্য কাজের রেকর্ডও আমরা সংগ্রহ করে দেখবো যে, তাদের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৪ হাজার বর্গমিটার জায়গা নিয়ে নির্মিত এই হলটি ১০ তলাবিশিষ্ট হবে। ভবনের মধ্যে থাকবে তিনটি ব্লক। প্রায় ১ হাজার আসনবিশিষ্ট এ হলের সব কক্ষই হবে দুই আসন বিশিষ্ট। পুরো ভবনে ৪টি লিফটের ব্যবস্থা থাকবে। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ওঠানামা করতে পারবেন। প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই হল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন এই হলের নির্মাণকাজ করছে। এর আগে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান হলের এক অংশের ছাদ গত ৩০ জানুয়ারি ধসে পড়ে। এতে ৯ জন নির্মাণ শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেই রাতেই জরুরি সভা ডেকে ওই ঘটনার কারণ নির্ধারণে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেসময় তদন্ত করে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নির্মাণকাজে গাফিলতি খুঁজে পায় তদন্ত কমিটি। ফলে ওই প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রকৌশলীকে প্রত্যাহার ও আহত শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসাব্যয় ও পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিতে বলা হয়। এরপর গত ৩১ মার্চ থেকে ভবনটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়। প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বালিশকাণ্ডে বেশ আলোচিত ছিল তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদেরই একটি ‘মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। বালিশকাণ্ডের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় আবারও আলোচনায় আসে এই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
দেশ বদলায়, মানুষ বদলায়,তবুও বদলায় না ৮০-তে পা রাখা ছাহেরা বেগমের দুঃখভাগ্য
শফিকুল ইসলাম বেবুকে সদস্য সচিব করে কুড়িগ্রাম জেলা ক্রিড়া সংস্থার ৭ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠিত
শেরপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহে ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে র্যালি ও আলোচনা সভা
ফুলবাড়ীতে উন্নত ভুট্টা বীজে বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি
