সরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজের টেন্ডার নেয় ‘এসএ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক দ্বীন ইসলাম কাজ পেলেও সেটি নিজে না করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করাতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতারণা চক্রের সদস্যরা ‘এসএ এন্টারপ্রাইজের’ নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংক হিসাব নম্বর খুলে ৩৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছেন পিডব্লিউডি ও ব্যাংকের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মালিকের ভূমিকা পালন করেছেন কলেজছাত্রী দিলারা। এই চক্রের মূলহোতা তার স্বামী রমজান হোসেন।
রাজধানীর কোতয়ালী থানায় করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমন প্রতারণা চক্রের সন্ধান পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সংস্থাটি জানায়, প্রতারণার চক্রের মূলহোতা ও সহযোগীসহ ৪ জনকে রাজাধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি লালবাগ বিভাগ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– চক্রের মূলহোতা রমজান হোসেন ও তার স্ত্রী মোছা. দিলারা, আবু কাওসার ও জসিম উদ্দিন।
জানা যায়, মামলার পর পুলিশ ভুয়া ঠিকাদার রমজান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পর তার স্ত্রী দিলারাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ২৪ লাখ টাকা ও অন্যান্য মালামাল জব্দ করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে প্রতারণা চক্রের মূলহোতা রমজান ও কাওসার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া দিলার ও জসিম পুলিশ হেফাজতে দুদিনের রিমান্ডে রয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক দ্বীন ইসলাম। সুনামগঞ্জের পিডব্লিওডি’র একটি ঠিকাদারি কাজ নেন। পরে কাজ করার জন্য এসএ এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে সাব ঠিকাদার জসিম উদ্দিনকে অথোরাইজেশন দেওয়া হয়। তিনি আবার কাজ করার জন্য রমজান হোসেন ও আবু কাওসারের সঙ্গে ৭ শতাংশ কমিশনে চুক্তিবদ্ধ হন। রমজান ও কাওসার ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার কাজ করে বাকি কাজ অসম্পূর্ণ রেখে পিডব্লিউডি অফিসে ঘুষ দিয়ে ১৫ লাখ টাকার বিল তুলে নিয়ে পালিয়ে যান। এদিকে পিডব্লিউডি থেকে বাকি কাজ শেষ করতে বললে জসিম বাকি কাজ শেষ করেন।
হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতারণা করে টাকা তোলার কাজে রমজানের স্ত্রী দিলারা তাদের সহযোগিতা করেন। এই কাজ ছাড়াও সুনামগঞ্জ পিডব্লিউডি’র ৩৪ লাখ টাকার আরও একটি কাজের বিল তুলতে সহায়তা করেন দিলারা। তারা এসএ এন্টারপ্রাইজের নামে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করে। যার মালিক হিসেবে সুমি আক্তার মাহমুদা নামে একটি এনআইডি কার্ডে দিলারার ছবি ব্যবহার করে পূবালী ব্যাংক বাসাবো শাখায় অ্যাকাউন্ট খুলে। এ কাজে তাদের সহায়তা করে ব্যাংকের ওই শাখার কর্মকর্তা পলাশ।
তিনি বলেন, আত্মসাৎ পরিকল্পনায় জড়িত আগের বকেয়া কাজ করা সাব ঠিকাদার জসিম উদ্দিন তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। রমজান ও কাওসার মিলে সুনামগঞ্জ পিডব্লিউডি অফিসে থেকে এসডি আশরাফ হোসেন, এসও মো. এনামুল, আবুল হাসান এবং হিসাব রক্ষক লতাকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে চারটি চেকে ৩৪ লাখ টাকার বিল পাস করিয়ে নেয়। পরে সিলেট শাখা থেকে ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৪৫ টাকা তুলে নেয়। সেই টাকা স্ত্রীর দিলারার ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের হিসাব নম্বরে জমা দেয়। বাকি ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৪৫ টাকা রমজান নিজের কাছে রাখেন।
ডিবিপ্রধান বলেন, এসব ঘটনায় পিডব্লিউডি’ অফিস ও ব্যাংকের কিছু অসাদু কর্মকর্তা জড়িত। আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।