|
ফেলানী হত্যাকান্ডের ১৩বছর,দ্রুত বিচার দেখতে চায় ফেলানীর পরিবার
আহম্মেদুল কবির,কুড়িগ্রাম
|
![]() ফেলানী হত্যাকান্ডের ১৩বছর,দ্রুত বিচার দেখতে চায় ফেলানীর পরিবার ফেলানীর গরীব পরিবারের পক্ষ থেকে ফেলানীর রুহের মাগফেরাতের জন্য মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে তারা। ২০১১ ইং সালের ৭ জানুয়ারি ওই দিন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-র গুলিতে নিহত ফেলানী দীর্ঘ সাড়ে চার ঘন্টা কাঁটাতারে ঝুলে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়। এই নির্মম হত্যাকান্ডের বিষয়টি সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত। পরে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতে ১৮১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদর দফতরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হয়। বিএসএফ এর বিশেষ কোর্টে দুই দফায় বিচারিক রায়ে খালাস দেয়া হয় আত্মস্বীকৃত অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে। ফেলানীর পরিবার ওই রায় প্রত্যাক্ষান করে ভারতীয় মানবাধীকার সংগঠন মাসুম এর সহযোগিতায় ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে দুটি রীট পিটিশন করেন। ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে রীট পিটিশনের শুনানী কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। পরে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ করোনা শুরুর আগে শুনানীর দিন ধার্য হলেও শুনানী হয়নি এখনো। রীট আবেদনের ১ যুগ পার হয়ে ১৩ বছরে গড়ালেও এখনো সুষ্ঠু বিচার পায়নি ফেলানীর পরিবার। উল্লেখ্য যে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামের দরিদ্র নূরুল ইসলামের ও জাহানারা বেগমের বড় মেয়ে ফেলানী। ফেলানীর পিতা নূরল ইসলাম কাজের উদ্দেশ্যে ভারতের নিউ বংগাইগাও ভাওলা গুড়িতে একটি মুদির দোকান দিয়ে সেখানেই স্বপরিবারে থাকতেন। ভারতে থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয়। মেয়েকে বিয়ে দেয়ার উদ্দ্যেশে বংলাদেশে আসার জন্য ৭ জানুয়ারী শুক্রবার মেয়ে ফেলানী সহ ভোর ৬ টা ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্তে মই বেয়ে কাঁটাতার টপকিয়ে ফেলানীর বাবা প্রথমে বাংলাদেশ প্রবেশ করে। পরে মেয়ে ফেলানী কাঁটাতার টপকিয়ে পার হতে চেষ্টা করলে এ সময় ভারতীয় বিএসএফ'র গুলিবিদ্ধ হয় কিশোরী ফেলানী। গুলি বিদ্ধ হয়ে আধাঘন্টা ধরে ছটফট করে কাঁটাতারেই ঝুলন্ত অবস্থায় নির্মমভাবে মৃত্যু হয় তার। এরপর সকাল পৌনে ৭ টার দিকে ফেলানীর নিথর দেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকে দীর্ঘ সাড়ে ৪ঘন্টা। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়ে এখন রীট পিটিশনের শুনানির অপেক্ষায় মামলাটি ভারতরে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি এনভি রামানা ও বিচারপতি মোহন এম সান্তনা গৌদ্ধারকে নিয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে শুনানীর জন্য আইটেম নম্বর-৩ হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। অথচ সুপ্রীম র্কোট থেকে বিবাদীকে শোকজ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা শোকজের জবাব দিয়েছেন। কিন্তু পরর্বতীতে আর শুনানী অনুষ্ঠিত হয়নি। কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড.এস,এম, আব্রাহাম লিংকন জানান, ভারতের মহামান্য সুপ্রিমকোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার রায় তালিকাভূক্ত রয়েছে। সেটি যত দ্রুত শুনানি হবে ততই মামলাটির অগ্রগতি হবে। ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি রীটের শুনানি করতে যদি হাজার বছর সময় লাগে সেখানে মানুষ বিচার পাবে কীভাবে। আমি বেঁচে থাকতেই আমার মেয়ে ফেলানী হত্যার বিচার দ্রুততম সময়ে দেখতে চাই। তিনি আরো জানান, কয়েকদিন আগে শুনলাম শুনানি হবে। তবে কবে হবে এর কোন তারিখ পাইনি।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
অল্প বৃষ্টিতে পানিতে সয়লাব খড়িয়া কাজিচর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র
বনশ্রী সোসাইটি নির্বাচন: এগিয়ে বাতেন-দুলাল পরিষদ, যুগ্ম শিক্ষা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে রাশেদ আকন
রেজাউর রহমান ফাহিম বনানী থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত
বাঘাইছড়িতে বাঘাইহাট জোনের উদ্দ্যোগে বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান
