|
জামায়াত নেতা কর্মীদের সরাতে সাউন্ড গ্রেনেড কাঁদানে গ্যাস, ছেলের পাশেই কবর
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() জামায়াত নেতা কর্মীদের সরাতে সাউন্ড গ্রেনেড কাঁদানে গ্যাস, ছেলের পাশেই কবর রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভেতরে ও সামনের সড়কে রাতভর জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। এ সময় কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুরো হাসপাতাল এলাকা। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে হাসপাতাল ও শাহবাগ এলাকা ত্যাগ করে বিভিন্ন দিকে চলে যান। কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা চলে আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে। এ ঘটনায় বেশ কিছু নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জামায়াত-শিবিরের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন। পরে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স পুলিশের কড়া পাহারার মধ্যে শাহবাগ এলাকা ছাড়ে। তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে পিরোজপুরে বড় ছেলের কবরের পাশেই দাফন করা হবে জানিয়েছে জেলা জামায়াত নেতা। সংশ্লিষ্টরা জানান, জানাজা শেষে দ্রুত দাফন করার নির্দেশ দিয়েছে প্রসাশন। মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সকালে জেলা পুলিশ সুপারের বরাতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি মো. জহিরুল হক জানান, হুজুরের লাশ নিয়ে ইতোমধ্যেই লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি পিরোজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে লাশ পৌঁছানোর পর দ্রুত জানাজা শেষ করে দাফন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে শাহবাগ এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা জড়ো হন। শাহবাগ মোড় থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের (সাবেক শেরাটন হোটেল) মোড় পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নেন তাঁরা। তাঁদের অবস্থানের কারণে সড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ![]() জামায়াত নেতা কর্মীদের সরাতে সাউন্ড গ্রেনেড কাঁদানে গ্যাস, ছেলের পাশেই কবর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ছিলেন। তিনি জামায়াতের রাজনীতির পাশাপাশি ওয়াজ করা বা ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগের মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ঢাকায় তাঁর শাহীনবাগের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা হয়। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। সেই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় সহিংসতায় অনেক মানুষ হতাহত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। তাঁর আপিলের ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেন ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। সেই রায়ে সাজা কমিয়ে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আপিল বিভাগের রায়ও পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। কিন্তু সেই আবেদনে আপিল বিভাগের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেই থেকে তাঁকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছিল। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে জামায়াতে ইসলামী শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তিনি ১৯৮২ সালে জামায়াতের রুকন (দলটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য) হন। ১৯৮৯ সালে তিনি জামায়াতের মজলিশে শুরার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাঈদী ২০০৯ সাল থেকে জামায়াতের নায়েবে আমিরের পদে ছিলেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
খাগড়াছড়িতে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের ফাইনালে পুলিশ লাইন্স স্কুল চ্যাম্পিয়ন, সাইফাতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
মহালছড়িতে শিক্ষা ও সম্প্রীতির বার্তা দিলো নবাগত জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ আল-জাবির আসিফ
বাঘাইছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০০ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ
তেঁতুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির দ্বি- বার্ষিক নির্বাচন
