|
জমি ৭.১১ শতাংশ 'আদালতের বারান্দায় খোয়ালেন ১২ লক্ষ টাকা' শেষে সফল সমাপ্তি
হুমায়ুন কবির
|
![]() হুমায়ুন কবির, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দিনশেষে এটাই আমার মানসিক প্রশান্তি মামলাটি সাক্ষী পর্যায়ের। মামলার নথিটি হাতে নিয়ে দেখলাম জালজালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া দলিল তৈরি করায় মামলাটির উদ্ভব হয়েছে। আদালতে উভয় পক্ষই হাজির। বাদীর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ব্যক্তিটি মাঝবয়সী অপরদিকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ব্যক্তিদ্বয় বয়োবৃদ্ধ। আসামিদ্বয় বৃদ্ধ হলেও বেশ স্মার্ট দেখাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম আপনারা কি করেন। একজন আসামি বললেন মাননীয় আদালত আমি NSI এর সাবেক সদস্য, আরেকজন আসামি বললেন আমি সাবেক সেনা সদস্য। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলাম। তারপরেই একজন আসামি বললেন যে জাল দলিলের কথা বলে এই মামলা করা হয়েছে সেই দলিল অনুসারে আমরা কোন জমি দাবী করি না বা দলিলটাও আমরা তৈরি করি নাই কিভাবে তৈরি হয়েছে তাও জানিনা। এবার বাদীর দিকে তাকাতেই বাদী বললেন মাননীয় আদালত আসামিরা সম্পর্কে আমার চাচা। তাদের ইন্ধনে তাদের বাবা এই জাল দল তৈরি করেছে এবং তারা এই জাল দলিল অনুসারে জমি দাবী করছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিজ্ঞ আইনজীবীদের বললাম আপনাদের বক্তব্য শুনি। উভয় পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীদ্বয় বললেন মাননীয় আদালত এই মামলার বাদী এবং আসামীরা পরস্পর আত্মীয়-স্বজন তাদের মধ্যে একাধিক মামলা আছে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসলে সমাধান করা সম্ভব। বিজ্ঞ আইনজীবীসহ উভয়পক্ষকে নিয়ে বসলাম। উভয় পক্ষের মধ্যে বিবদমান বিষয়বস্তু চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় বাদী পক্ষ ৭.১১ শতাংশ জমি পেতে হকদার। আসামিদ্বয়ও বাদীর দাবির সাথে একমত পোষণ করলেন এবং মেনে নিলেন। বাদি আমাকে বললেন মাননীয় আদালত এই জমির জন্য বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমায় আমি মোট ১২ লক্ষ টাকা খরচ করেছি কিন্তু আজকে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আমি আমার প্রাপ্ত অংশটুকু আপনার মাধ্যমে বুঝে পেলাম। মহান আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন। আসামিরাও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন শেষ বয়সে বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমায় আদালতের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে আমরাও খুব ক্লান্ত। আমি তাদের মধ্যে অনুসরণাবোধ স্পষ্ট তো দেখতে পাচ্ছিলাম।তাদের উদ্দেশ্যে বললাম ভালো থাকার জন্য, শান্তিতে থাকার জন্য, সুখী জীবনযাপনের জন্য সামান্যতম ত্যাগ স্বীকার করবেন এবং যে বিষয়গুলো নিজেদের মধ্যে বসেই সমাধান করা সম্ভব সেগুলো আদালত পর্যন্ত গড়াবেন না। যা আপনি করতে পারেন তা অন্যের উপর ছেড়ে দিবেন না। বিশেষ দ্রষ্টব্য: উভয় পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীর আন্তরিকতা ও সহযোগিতার কোন কমতি ছিল না। লেখক: হুমায়ুন কবির, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (রাজশাহী)
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
