|
মায়ের গ্রেপ্তার ঠেকাতে কিশোরীর ‘আত্মহত্যা’, মিরপুরে আসলে কী ঘটেছে?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() মায়ের গ্রেপ্তার ঠেকাতে কিশোরীর ‘আত্মহত্যা’, মিরপুরে আসলে কী ঘটেছে? নিহত বৈশাখীর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, যে ঘরে সে আত্মহত্যা করে সেই ঘরের দরজার হাতুড়ি দিয়ে পিটানো হয়েছে। ঘরের মধ্যে ফ্যান ঝুলানো রডের মধ্যে একটি ওড়না ঝুলে আছে। ওই ওড়না গলায় পেঁচিয়েই আত্মহত্যা করে বৈশাখী। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ওই ওড়না চারতলা থেকে তিনতলায় বৈশাখীকে এনে দেয় পুলিশ। পুলিশের এসআই জহির চারতলা থেকে ওড়না এনে এসআই ফেরদৌসের হাতে দেয়। পরে সে তা জানালা দিয়ে বৈশাখীর কাছে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী বৈশাখীর ছোট বোন ফাতেমা (১১) ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলে, আমরা নিচে খেলা করছিলাম। তখন সোর্সরা পুলিশ নিয়ে আসে। আমাদের মেইনগেটে তালা লাগানো ছিল। পুলিশ সেটা খুলতে বলে না হলে ভেঙে ফেলবে। তাই আমার নানি গেট খুলে দেয়। তখন পুলিশের এসআই ফেরদৌস ও জহির বাসায় ঢুকেছে। তাদের সঙ্গে সোর্সরা ছিল। সে বলে, আমার মা, বোন চার তলায় ছিল। তারা বৈশাখীকে তিন তলায় নিয়ে আসে। তখন সিঁড়িতে থাপ্পড়, লাথি ও ঘুষিও দেয়। পরে রুমের মধ্যে তাকে আটকিয়ে বাইরে থেকে তালা দিয়ে দেয়। তখন আমার বোন বলছে, আপনি যদি দরজা না খুলেন তাহলে আমি ফাঁসি দিমু। এটা আমি ৪ তলায় গিয়ে আমার আম্মুরে বলতে যাই। তখন দেখি সোর্সরা আমার আম্মুর সঙ্গে জোরাজুরি করে। তখন জহির আবার ৪ তলায় আসে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি আমার বোন কই। সে বলে তোর বোনকে রাখছি জায়গা মতো। ফাতেমা বলে, জহির জোর করে নিচে নামায় মা’কে। সোর্সরা জোরাজুরি করে আমার আম্মুর জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলছে। আম্মু তখন লজ্জায় দৌড়ে পাশে নানুর বাসায় যায়। তখন ফেরদৌস দৌড়ে এসে বলছে বৈশাখী ফাঁসি দিছে। তিনতলায় ফেরদৌসের সামনেই ফাঁসি দিছে। জানালা দিয়া দেখলাম লাশ ঝুলে আছে। ফেরদৌস একা ছিল বাইরে। সে তালা খুলে নাই। আমার বোন বলছিল, তালা খুলে দেন নইলে আমি ফাঁসি দিমু। কিন্তু তারা খুলে নাই। বৈশাখীর ভাই আতাউর রহমান আকাশ বলেন, রড দিয়ে তিন তলার রুমের দরজার তালা ভেঙেছে পুলিশ। পরে তারা বৈশাখীকে ওই রুমে ঢুকাইছে। আমি মানুষের কাছে শুনে বাসায় এসে জানালা দিয়ে দেখি বৈশাখী ফাঁসি দিছে। তখন আমি চিৎকার দিছি। তিনি জানান, মাদক কারবারের জন্য এক বছর আগে গ্রেপ্তার হইছিল তার মা লাভলী। লাভলীর ছোট পান্না বলেন, আমরা বাড়ির বাইরে ছিলাম। পুলিশ, সোর্স ভিতরে ঢুকে মেইন গেট আটকে দেয়। ওপরে যখন আমার বোন চিল্লাচিল্লি করছে তখন আমরা খোলার জন্য মেইন গেট পিটাইছি। গেট খোলার পর একজন বলছে বৈশাখী ফাঁসি দিছে। পরে গিয়ে দেখি বৈশাখী ঝুলে আছে। তিনি বলেন, তারা মাদকের অভিযান করতে এসে আমার বোনের কাছে ৫ লাখ টাকা চাইছে। এক বছর ধরে আমার বোন মাদক ব্যবসা করে না। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আর মাদক ব্যবসা করে না। পুলিশ ঘটনাস্থলে কিছু পায় নাই। তবে এসব ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার জসীম উদ্দীন মোল্লা বলেন, তদন্তের জন্য ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর আমরা বিস্তারিত জানাবো। পুলিশের পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল হাসান ফিরোজ বলেন, পুলিশের একটি টিম মাদকের অভিযান চালাতে তাদের বাসায় যায়। সেখানে সাদাপোশাক ও পুলিশের পোশাক পরিহিত সদস্য ছিল। অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করা হলে লাভলীকে আটক করতে চায় পুলিশ। তখন তার পরিবারের লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বৈশাখী তৃতীয়তলায় দরজা লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। তবে এই ঘটনায় পুলিশের দায় আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, লাভলীর বিরুদ্ধে সাতটি এবং বৈশাখীর বিরুদ্ধে চারটি মাদকের মামলা আছে। এরা পুরো পরিবারটিই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ওইদিন অভিযানের ঘটনায় আমাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তাদের ঘরে ইয়াবা ও গাঁজা পাওয়া গেছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
