প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অবসর ভাঙলেও তামিম আছেন বিশ্রামে। আগামী দেড় মাস কোনো ম্যাচ খেলবেন না টাইগার ওপেনার। দলের সঙ্গে যোগ দেবেন এশিয়া কাপের আগমুহূর্তে।
এদিকে বিশ্রামের কারণে দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সঙ্গে না থাকলেও খেলেছেন প্রথম ম্যাচ। বৃষ্টি আইনে দলের ১৭ রানে হারের ম্যাচে তিনি ২১ বলে করেছিলেন ১৩ রান। তার অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে আরও বাজেভাবে। ১৪২ রানে হেরে সিরিজ খুইয়েছে লিটনরা। টাইগাররা এখন হোয়াইটওয়াশের শঙ্কায়। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দল যখন কীভাবে মান বাঁচানো যায় সে পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত, তখন তামিমের অবস্থান কোথায়? কী করছেন টাইগার ওপেনার?
জানা গেছে, তামিম বর্তমানে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। দল থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলেও একেবারে অন্তরালে নেই তিনি। শনিবার (৮ জুলাই) টাইগার ওপেনার এক বছরের জন্য চুক্তি সেরেছেন বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) তিনি খেলবেন ফরচুন বরিশালের হয়ে। আপাতত অন্য কোনো ব্যস্ততা নেই। তার সব ধ্যান-জ্ঞান এখন নিজেকে ফিট করা নিয়ে।
তামিম দীর্ঘদিন ধরেই কোমরের ব্যথায় ভুগছিলেন। চোটের কারণে গত মাসে আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি খেলতে পারেননি। চোটের প্রভাব ছিল আফগান সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও। আগামী দেড় মাস তামিম তাই নিজেকে পুরোপুরি ফিট করে তুলতে কাজ করবেন। এছাড়া অফফর্ম কাটিয়ে তুলতে চালিয়ে যাবেন ব্যক্তিগত অনুশীলন। তার আগে নিজের মধ্যে আনতে হবে মানসিকভাবে দৃঢ়তা। কারণ গত কয়েকদিন বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি।
২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলে অবসর নেয়ার কথা থাকলেও, হুট করে গত ৬ জুলাই সংবাদ সম্মেলন ডেকে চোখের পানিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে বসেন তিনি। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি কিছু না জানালেও, দেশের একটি দৈনিককে সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দেন বিসিবির অপমানজনক আচরণের কারণেই তার এমন সিদ্ধান্ত। আকার-ইঙ্গিতে বোঝান যে তার থেকে অধিনায়কত্ব কেড়ে নিতে পাঁয়তারা করছে বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা, যা তার কাছে অপমানজনক মনে হয়েছে।
এর বাইরে ফিট না হয়েও আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্য তাকে নিয়ে গণমাধ্যমে করা বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের তীর্যক মন্তব্যও একটি কারণ হতে পারে। কারণ পাপনের মন্তব্যের পরের দিনই অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তামিম। যদিও এমনটি পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে অস্বীকার করেছিলেন পাপন। আহ্বান জানিয়েছিলেন তামিমকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার।
৬ জুলাই রাতে ২ ঘণ্টা বিসিবি কর্মকর্মাতের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে পাপন বলেছিলেন, ‘তামিমের অবসরের সিদ্ধান্ত একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। ওয়ানডে দলে সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকে আমাদের দরকার আছে। কথাটা যদি ও’র সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাহলে আমি খুশি হব। আমরা সেটার জন্য অপেক্ষা করছি। ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফিরে আসুক। আমরা এটাই চাই।’
এর মধ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে তামিমের সঙ্গে ডেকে নেন পাপন ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে। প্রায় ৩ ঘণ্টার বৈঠক শেষে নিজের সিদ্ধান্ত বদলান তামিম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধান আবার অবসর ভাঙেন তিনি।
গণভবন থেকে বের হয়ে তামিম বলেন, (৭ জুলাই) দুপুরবেলায় আমাকে প্রধানমন্ত্রী তার বাসায় দাওয়াত করেছিলেন। ওনার সঙ্গে অনেকক্ষণ আমরা আলোচনা করেছি। উনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন খেলায় ফিরে আসতে। আমি আমার রিটায়ারমেন্ট এই মুহূর্তে তুলে নিচ্ছি। কারণ আমি সবাইকে না বলতে পারি, কিন্তু দেশের যিনি সবচেয়ে বড় ব্যক্তি, তাকে না বলা আমার পক্ষে অসম্ভব। তাতে অবশ্যই পাপন ভাই ও মাশরাফী ভাইয়ের বড় ভূমিকা ছিল। মাশরাফী ভাই আমাকে ডেকে নিয়েছেন। পাপন ভাই সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেড় মাসের জন্য একটা ছুটিও দিয়েছেন।’