ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ ১ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলাদেশের 'বড় মানুষ' ডা. জাফরুল্লাহ
অ্যডভোকেট ইমরুল কায়েস
প্রকাশ: Tuesday, 18 April, 2023, 11:55 PM

বাংলাদেশের 'বড় মানুষ' ডা. জাফরুল্লাহ

বাংলাদেশের 'বড় মানুষ' ডা. জাফরুল্লাহ

ড. জাফরুল্লাহকে চিনতে ও চেনাতে এবং জানতে ও জানাতে খুব বেশী দেরী হয়ে গেছে, এবং এটা জাতিগত ব্যর্থতা ও লজ্জার বিষয়। মিডিয়াও জাফরুল্লাহকে বেচে থাকতে জনতাকে চেনাতে চায়নি। মরার পর বাধ্য হয়ে সকলে সকালের কাক ডাকার মত এক সাথে কা কা করছে। ড. জাফরুল্লাহ এদেশের সেরা মুক্তিযোদ্ধা ও দেশযোদ্ধা এবং সবচেয়ে বড় দেশ প্রেমিকের প্রমাণ দিতে পেরেছেন। তিনি বাংলাদেশের "বড় মানুষ' উপাধি যোগ্য, যাকে অতিক্রম করা যায়না।

এবার মূল কথায় ফিরি। কেন ডা. জাফরুল্লাহর দেহ মেডিকেলের ছাত্ররা নেয়নি, যখন পরিবারের লোকজনই দিতে রাজী। সবাই বলবে ছাত্রদের ঐ কথা, স্যার সম্মানিত তাই ছুরি চালানো সম্ভব নয়। আসল ব্যপারটা তা নয়। ছাত্ররা যদি সম্মানের বিষয়টা বুঝতো,তাহলে জাফরুল্লাহ বেচে থাকতে উনার দেহদানের বিষয়টি প্রত্যাহার করতে বলতেন। ছাত্ররা সেটা বলেনি। তাহলে মৃত্যুর সাথে সাথে কয়েক ঘন্টার মধ্য ছাত্ররা সেটা বুঝলো কিভাবে। 

সেটাই বলছি, জাফরুল্লাহ এদেশের তথাকথিত ধর্ম এড়ানো মর্ডারেট মুসলিম নামে ইসলাম বহির্ভূত মুসলিম দাবীকারীদের একটি পরিবারের বাসিন্দা। সেই সূত্রে তিনি ইসলাম সম্পর্কে মনোযোগী হতে পারেননি। তবে তিনি ইসলাম বিরোধী ছিলেননা। অজ্ঞতাবশত ব্যক্তিগত ধারণার উপর ইসলামের কতিপয় বিধানের উপর বিরুপ ভাব কথা প্রসংগে কথার কথায় জনসম্মুখে প্রকাশ করে বসেন,এবং এটা নিয়ে ব্যপক সমালোচনা শুরু হয়। কিন্তু যেহেতু তিনি ভালো মানুষ তাই তিনি দ্রুত বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করেন এবং বুঝতে সক্ষম হয়ে জনসম্মুখে বক্তব্যর জন্য ক্ষমা চেয়ে তওবা করেন এবং ইসলামকে জানার চেষ্টা করবেন বলে ঘোষণা দেন।

আমি মনে করি, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার এই তওবা কবুল করে ইসলামের জন্য উনার মনকে প্রশস্ত করে দেন। যে কারণে জাফরুল্লাহ শেষ বয়সে অসুস্থ শরীরে ইসলমাকে জানার জন্য পড়াশুনা শুরু করেন। আর ইসলামি মতে,কোন ব্যক্তি অন্তরখুলে তওবা করে ইসলামের অনুসরণ শুরু করলে মহান স্রষ্টা তার পিছনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। ডা. জাফরুল্লাহ সেই কাতারে পড়েছেন বলে আমার দৃঢ় বিস্বাস। শুধু তাই নয়, যেহেতু জাফরুল্লাহ সারা জীবন সাধারণ মানুষ ও দেশের জন্য ভালো কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন তাই মহান স্রষ্টা নিজ দয়ায় জাফরুল্লাহর হৃদয়কে নরম করে দিয়ে ইসলামে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন এবং হেদায়েত দিয়ে পুরষ্কৃত  করেছেন। এখন এমন একজন হেদায়েত প্রাপ্ত ব্যক্তির লাশ মেডিকেলে টেবিলের উপর থাকতে পারেনা। সেই কারণে মেডিকেল ছাত্রদের মনে মহান স্রষ্টা ঐ অনুভূতির সৃষ্টি করে দিয়েছেন, এবং লাশকে কবরে প্রেরণ করেছেন।

জাফরুল্লাহ ইসলাম বিরোধী চক্রের সাথে জড়িত ছিলেননা। এদেশে অসংখ্য জ্ঞানী বিদ্যান ইসলাম বিরোধী চক্রের সাথে জড়িত হয়ে মরেছেন যাদের একজনও ক্ষমা বা তওবার কথা বলতে পারেনি। যদি ও তারা মরার পর কবরে ঠাই নিয়েছেন কিন্তু তাতে লাভ হবেনা পরকালে। আর জাফরুল্লাহ ক্ষমা ও তওবা করেও কবরে ঠাই নিতে চাননি,কিন্তু মহান স্রষ্টা তাকে কবরে ঠাই দিয়েছেন,তাই পরকালে জাফরুল্লাহ কল্যানপ্রাপ্ত হবেন বলে দৃঢ় আশাবাদী। ডা. জাফরুল্লাহ একজন প্রকৃত তওবাকারী বলেই দেখতে পাচ্ছি,দোয়া করি পরকালে তিনি ভালো থাকুক। মহান স্রষ্টা মৃত ঈমানদার এর সম্মান কিভাবে রক্ষা করেন তা এক্ষেত্রেও দেখা গেলো। ডা জাফরুল্লাহ মৃত্যুর পর নিজের অনিচ্ছা সত্বেও সম্মানিত হলেন মেডিকেলের ছুরি চাকু আর টেবিল এড়িয়ে কবরকে পেয়ে।

পরবর্তীতে উনার সন্তানদের নিয়ে হওয়া সমালোচনার জবাব দেয়ার চেষ্টা করবো। 

লেখা: আই কে রিসার্চ একাডেমী স্বদেশী প্রেসক্রিপশনে স্বদেশ গবেষণা

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status