রাশিয়ার ৬৯টি পণ্যবাহী বড় জাহাজকে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরে ভিড়তে না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এই জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৪ জানুয়ারি একটি নির্দেশনা কার্যকরের জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। নৌ মন্ত্রণালয় থেকে পরদিন সেই নির্দেশনা দেশের সব সমুদ্রবন্দরে কার্যকরের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশে এক সঙ্গে এত জাহাজ নিষিদ্ধ করার ঘটনা এটিই প্রথম।
সম্প্রতি রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের নির্মানাধীন রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের পণ্য নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে। মার্কিন দুতাবাস বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করলে সরকার জাহাজটিকে বন্দরে ভিড়তে বাধা দেয়। এরপর 'উরসা মেজর' জাহাজটি পণ্য না নামিয়েই বাংলাদেশ ত্যাগ করে এবং কলকাতার হলদিয়া বন্দরে গিয়ে ভিড়ে। সেই ঘটনার পর হৈ চৈ হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার এই নির্দেশনা দিল।
চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'গতকাল বুধবার বিকেলে আমরা এই নির্দেশনা পেয়েছি। তালিকায় থাকা সব জাহাজই রাশিয়ান। এখন জাহাজগুলো যাতে দেশের বন্দরে ভিড়তে না পারে সেজন্য সতকর্তা হিসেবে আমরা বাংলাদেশে কর্মরত তিন শতাধিক শিপিং এজেন্সিকে একটি নির্দেশনা দেব। একই সঙ্গে বন্দরও ব্যবস্থা নেবে।'
বন্দরের এক মেরিন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বাংলাদেশমুখী কোনো জাহাজ বন্দরে পণ্যবোঝাই করার আগে অবশ্যই বাংলাদেশের নৌ পরিবহন দপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমতি বা ওয়েভার সনদ নিতে হয়। ফলে নৌ পরিবহন দপ্তর সনদ না দিলে সেই জাহাজের বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশের সুযোগ নেই। এরপর জাহাজটি বন্দর জলসীমায় পৌঁছলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই বিষয়টি দেখভাল করে। আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেয়েছি। এজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষও সতর্ক রয়েছে।'
নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার সাতটি কম্পানির ৬৯টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে তেল পরিবহনকারী ট্যাংকার, সাধারণ পণ্যবাহী কার্গো ভ্যাসেল, গাড়ি পরিবহনকারী রো রো ভ্যাসেল, ড্রেজার, টাগসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্যাটাগরির জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজকে শুধু বন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাই নয়, একই সঙ্গে জ্বালানি তেল সরবরাহ (বাংকারিং), রিফুয়েলিং, সাময়িক নিবন্ধন থেকে শুরু করে সব ধরণের পরিষেবা প্রদান থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পত্রটি চট্টগ্রামসহ দেশের সব সমুদ্রবন্দরে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়াও অন্যান্য সামুদ্রিক পরিষেবা নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ পতাকা নিবন্ধনকারী সংস্থার মাধ্যমে জাহাজগুলোর জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী যেকোনো ধরণের রেজিস্ট্রেশন প্রদান না করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বন্দরের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
নিষিদ্ধ জাহাজগুলোর মধ্যে অবরোনলজিস্টিকা ট্রিপল জিরোর তিনটি, এসসি সাউথ এলএলসির চারটি, জয়েন্ট স্টক কম্পানি নর্দান শিপিং কম্পানির ২৭টি, ট্রান্সমরফ্লট এলএলসির ১৬টি, এম লিজিং এলএলসির তিনটি, মেরিন ট্রান্স শিপিং এলএলসির একটি এবং নর্ড প্রজেক্ট এলএলসি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মালিকানাধীন জাহাজের সংখ্যা ১৫টি।