সাবান লাগবে না, এমনিই ঝকঝকে হবে বাসনপত্র! কায়দা জানলে অবাক হবেনই
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 9 January, 2023, 3:05 PM
সাবান লাগবে না, এমনিই ঝকঝকে হবে বাসনপত্র! কায়দা জানলে অবাক হবেনই
ভিনিগার দিয়েও বাসন ধোয়া যেতে পারে অনায়াসে। খাবার খেতে ভাল কখন হয়? এর প্রথম উত্তরটা সহজ- ভাল রান্না হলে তবেই! দ্বিতীয়টাও সবাই জানেন, তবে মনে রাখেন না। কোনও পদ বিশেষ কোনও বাসনে সুন্দর করে সাজিয়ে দিলেও কিন্তু তার স্বাদ যেন শতগুণে বৃদ্ধি পায়।
তবে যাঁরা খেতে আর খাওয়াতে ভালোবাসেন তাঁরা যে বাসন মাজতেও ততোধিক ভালোবাসবেন- সে কথা সাহস করে বলা যায় না। কারণ বাসন মাজা একটা ঝকমারির কাজ। শীতকালে কনকনে ঠাণ্ডা জলেও বাসন মাজতে ভাল লাগে না। আবার গরমে ঘামতে ঘামতেও বাসন মাজতে ভাল লাগে না। তার মধ্যে যদি আবার দেখা যায় যে বাসন মাজার সাবান ফুরিয়ে গিয়েছে, তাহলে মেজাজ সপ্তমে চড়তে আর দেরি হবে না। তবে বাসন মাজার সাবান ফুরিয়ে গেলেও চিন্তার কিন্তু কিছু নেই। কারণ সেটা ছাড়াও অন্য অনেক কিছু দিয়েও দিব্যি মেজে নেওয়া যায় বাসন। আর মজার কথা হল সেই সব উপাদান বাড়িতেই হাতের নাগালে পাওয়া যায়। আর সেগুলোর দামও এমন কিছু বেশি নয়। এবার আর কথা না বাড়িয়ে দেখে নেওয়া যাক সেগুলো কী কী।
প্রথমে বাসনপত্র গরম জলে ধুয়ে নিয়ে তার উপরে অল্প একটু বেকিং সোডা ছড়িয়ে দিতে হবে। সোডা থেকে বুদবুদ ওঠা শুরু হলে বাসনের উপর স্পঞ্জ বুলিয়ে দিতে হবে। যদি বাসনপত্রে বেশি মাত্রায় তেল মশলা লেগে থাকে তাহলে বেকিং সোডা ৫ থেকে ৬ মিনিট রাখতে হবে। মাজা হয়ে গেলে আরও একবার গরম জলে ধুয়ে নিতে হবে।
কোনও কিছুর উপর ভরসা না থাকলে নিজেই বানিয়ে নেওয়া যায় ঘরোয়া সাবান। তার জন্য লাগবে সামান্য কিছু উপকরণ। এক কাপ গরম জল, ২ টেবিল চামচ নুন আর একটা গোটা লেবুর রস। একটা চামচ দিয়ে সবকিছু ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণ বাসনের উপর ছড়িয়ে দিয়ে ঘষে নিতে হবে। নুন খাবারের টুকরো পরিষ্কার করবে আর লেবুর রস বাসন থেকে বাজে গন্ধ দূর করবে।
প্রাকৃতিক ভাবে বাসন ধোয়ার যে যে উপায় আছে এটি হচ্ছে তার মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। বাসন মাজার সাবান আবিষ্কার হওয়ার অনেক আগে থেকেই কাঠকয়লা দিয়ে বাসন মাজার রেওয়াজ ছিল। কাঠকয়লা দিয়ে মাজলে বাসন পরিষ্কার হয়, বাজে গন্ধ দূর হয় এবং জীবাণুও দূর হয়। কাঠকয়লার গুঁড়ো বাসনের উপর সরাসরি ছড়িয়ে দিয়ে স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে বাসন মাজা যায়। মাজা হয়ে গেলে গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
চাল ধোয়া জলে আছে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আর সেই দুটি উপাদান হল স্টার্চ ও সাইট্রিক অ্যাসিড। এই দুটো উপাদানই বাসন থেকে তেল মশলা তুলতে দারুণ কাজে দেয়। প্রথমে একটা বড় পাত্রে চাল ধোয়া জল নিতে হবে। তার মধ্যে বাসন ভিজিয়ে রাখতে হবে অন্তত আধ ঘণ্টা। তার পর বাসন মাজা হয়ে গেল গরম জলে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে বাসন ধোয়ার পরে সরাসরি গরম জলের কলের নিচে রাখলে ভাল হয়। কারণ চাল ধোয়া জলের একটি বিশেষ গন্ধ থাকে যা সরাসরি জলের নিচে রাখলে চলে যাবে।
বেকিং সোডা দিয়ে বাসন মাজার কথা আগেই বলা হয়েছে। বেকিং সোডার সঙ্গে লেবুর রস মেশালে আরও ভাল কাজ হবে। একটা পাত্রে তিন টেবিল চামচ বেকিং সোডা নিতে হবে। এর মধ্যে লেবুর রস মেশাতে হবে। একটা মিশ্রণ তৈরি করতে যতটা লেবুর রস লাগে ততটাই দিতে হবে। এবার এই মিশ্রণে স্পঞ্জ চুবিয়ে নিয়ে সেটা দিয়ে বাসন মাজতে হবে। সোডা ও লেবুর যুগলবন্দী খুবই শক্তিশালী কারণ এই মিশ্রণ বাসন থেকে গন্ধ ও ময়লা দুটোই দূর করে দেবে।
ভিনিগার দিয়েও বাসন ধোয়া যেতে পারে অনায়াসে। তবে সরাসরি ভিনিগার দেওয়া যাবে না। তার জন্য যেটা করতে হবে সেটা হল প্রথমে একটা স্প্রে বোতল নিতে হবে। সেই স্প্রে বোতলে এক কাপ জল আর চার থেকে পাঁচ টেবিল চামচ ভিনিগার মেশাতে হবে। এবার স্প্রে বোতল ভাল করে ঝাঁকিয়ে নিয়ে সেটা বাসনের উপর ভাল করে স্প্রে করে দিতে হবে। কয়েক মিনিট রেখে দেওয়ার পর স্পঞ্জ দিয়ে বাসন মেজে নিতে হবে। তারপর গরম জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে।