ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
কেমন আছেন ঘোড়াঘাট উপজেলার সেই নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা
বিপ্লব বিশ্বাস
প্রকাশ: Wednesday, 9 November, 2022, 6:51 PM

ওয়াহিদা খানম

ওয়াহিদা খানম

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর ইউএনও হিসেবে ঘোড়াঘাটে যোগদান করেছিলেন তিনি। হামলায় গুরুতর আহত ওয়াহিদা খানম সুস্থ হবার পর গত ২০২০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে বদলী করা হয় পরিকল্পনা কমিশনে। বর্তমানে ওয়াহিদা খানম পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের স্কাইসোয়াম উইং এর সিনিয়র সহকারী প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

পুলিশ ও র‍্যাবের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য:
ঘটনার পরপরেই পুলিশ ও র‍্যাব সহ অন্যান্য সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ভাই পুলিশ পরিদর্শক শেখ ফরিদ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা করে। ঘটনার দিন দুপুরে ইউএনও’র সরকারী বাস ভবনের নৈশ্য প্রহরী নাহিদ হাসান পলাশ (৩৮) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ। এর একদিন পর ৪ সেপ্টেম্বর দিনের বেলা সান্টু চন্দ্র দাস (২৮) ও নবিরুল ইসলাম (৩৫) নামে আরো দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। একইদিন সন্ধায় ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের তৎকালীন আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম (৩৭) কে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকের লোকজন। পরে জানা যায় র‌্যাব তাকে আটক করেছে। এছাড়াও ওইদিন দিবাগত রাতে পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ একটি দল পাশ্ববর্তী হাকিমপুর উপজেলা থেকে ঘোড়াঘাট পৌর যুবলীগের সদস্য আসাদুল ইসলাম (৩৬) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

৪ সেপ্টেম্বর সন্ধায় রংপুর র‌্যাব-১৩ ব্যাটালিয়নে সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক কমান্ডার রেজা আহম্মেদ ফেরদৌস জানান, “আটক যুবলীগ নেতা আসাদুল ইসলাম সহ সান্টু ও নবিরুল ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। চুরির উদ্দেশ্য তারা ইউএনও’র বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। তবে ইউএনও ওয়াহিদা খানম টের পেয়ে বাঁধা দেওয়ায় তার উপরে হামলা করা হয়েছে।”

এর প্রায় এক সপ্তাহ পর ১২ সেপ্টেম্বর ইউএনও’র বাড়ির সাবেক মালি রবিউল ইসলাম এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশের জিজ্ঞাবাদে স্বীকার করে। এর পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ কার্যালয়ের সম্মুখে সম্মেলন করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, “ওই হামলায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মচারী রবিউল ইসলাম। তিনি জানান, ১০ সেপ্টেম্বর আমরা রবিউলকে গ্রেপ্তার করেছি। তার দেওয়া তথ্যের ওপর ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের অদুরে পাশ্ববর্তী একটি পুকুর থেকে হামলায় ব্যবহারিত একটি হাতুরি উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজের সঙ্গে তাকে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

মামলার অগ্রগতি:
প্রথম অবস্থায় মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান ঘোড়াঘাট থানার বর্তমান পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম। কিছুদিন পর মামলাটি দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর হয়। তখন মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে ডিবির তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক ইমাম আবু জাফর। পরে তিনিই আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ইমাম জাফর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও অধিকতর তদন্তের জন্য আদালতে আসামী রবিউল ইসলামকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। এসময় আদালত দুই দফায় আসামী রবিউলের ৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

আদালতে মূল আসামী ও স্বাক্ষীদের জবাবনবন্দী:
এই মামলায় দিনাজপুরের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন মামলার মূল আসামী, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাড়ির চাকুরিচুত্য মালি রবিউল। এছাড়াও এই মামলায় আদালত ঘোড়াঘাট থানার তৎকালীন ওসি আমিরুল ইসলাম, প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ঘোড়াঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম, সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওসি ইমাম আবু জাফর এবং ঘটনার পরে ঘোড়াঘাট থানায় পদায়ন হওয়া ওসি আজিম উদ্দিনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। মামলাটিতে আদালত মোট ৫১ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।


জবানবন্দীতে আসামী রবিউল বলেন, “আমি দিনাজপুরের ডিসি স্যারের বাড়িতে মালি হিসেবে কর্মরত ছিলাম। স্যারের স্ত্রীর সাথে একটি বিষয় নিয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়ায় ডিসি স্যার আমাকে ঘোড়াঘাটে বদলী করে। এরপর ঘোড়াঘাটের ইউএনও স্যারের বাড়িতে আমি মালি হিসেবে কাজ শুরু করি। আমি মালি হিসেবে কাজ করলেও, তার গাড়িতে চড়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় যেতাম।

একদিন গাড়িতে থাকা ইউএনও স্যারের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে আমি ১৬ হাজার টাকা চুরি করি এবং ছুটিতে বাড়িতে যাই। তার ব্যাগ থেকে টাকা হারানোর বিষয়টি স্যার বুঝতে পারেন। স্যার দাবি করেন তার ব্যাগ থেকে ৬০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। এই টাকা ফেরত না দিলে তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলা করা, ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দেওয়া অথবা চাকুরি থেকে সাময়িক বহিস্কার করার হুমকি প্রদান করেন। পরে আমার বড় ভাই সহ পবিবারের লোকজন ইউএনও স্যারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দেন। প্রাপ্তি স্বীকারের রশিদ মূলে স্যার সেই টাকা গ্রহন করেছেন।

এরপরেও ইউএনও স্যার দিনাজপুরের ডিসি স্যারকে বিষয়টি জানালে তিনি আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। কিছুদিন পরে আমাকে স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করা হয়। ১৬ হাজার চুরি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছি। তারপরেও আমার চাকুরি চলে যাওয়ায় আমি ইউএনও স্যারের উপর হামলার পরিকল্পনা করি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি ২ সেপ্টেম্বর দিনে ঘোড়াঘাটে যাই। রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতর দিয়ে গিয়ে আমি ইউএনও স্যারের বাড়ির প্রাচীর টপকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করি। সেখানে কবুতরের ঘরে থাকা মই দিয়ে বাড়িটির দ্বিতীয় তলার টয়টেলের ভেন্টিলেটর দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করি। টয়লেটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় আমি দরজা খোলার চেষ্টা করলে ইউএনও স্যার শব্দ শুনে কে কে বলে চিৎকার করে। এরপর দরজা ভেঙ্গে আমি ভিতরে প্রবেশ করি এবং হাতুরি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করি। পরে সে বিছানার উপর লুটিয়ে পড়ে এবং বাবা বাবা বলে চিৎকার করে। চিৎকার শুনে তারা বাবা অন্য ঘর থেকে স্যারের ঘরে আসে। আমি তাকেও আঘাত করি। এরপর চাবি দিয়ে আমি আলমিরা ভেঙ্গে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যাই।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status