সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত দেশজুড়ে আলোচিত সিনেমা ‘হাওয়া’ আইনের আওতায় আসতে যাচ্ছে। হাওয়া সিনেমায় আইন ভেঙে খাঁচায় বন্যপ্রাণী প্রদর্শন ও হত্যার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকালে একটি টেলিভিশনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক ছানাহউল্লাহ পাটোয়ারী।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও দর্শকদের রিভিউ থেকে জানতে পেরেছি হাওয়া চলচ্চিত্রে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আমাদের ইন্সপেক্টরদের দায়িত্ব দিয়েছি।
তিনি আরও জানান, তারা চলচ্চিত্রটি দেখে দ্রুত প্রতিবেদন দিবেন। বন্যপ্রাণী আইন লংঘনের সত্যতা পেলে আমরা আইন যা বলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।
এর আগে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত চলচ্চিত্রটির রিভিউতে জানা যায়, এই চলচ্চিত্রে একটি পাখিকে হত্যা করে চিবিয়ে খেয়েছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। বিস্তারিত বর্ণনা করে বলা হয়, মাছ ধরা বোট নয়নতারার সরদার চান মাঝি একটা পাখি পোষে। নিজে জলপানের সময় পাখির খাঁচার খুরিতেও সে জল ঢেলে দেয়। নিয়ম করে খেতে দেয় পাখিটিকে। আবার পথ হারিয়ে এই শালিককে উড়িয়ে দেয় সে। পোষা পাখির ফিরে না আসায় আশা খোঁজে। তারপর পাখি ফিরে আসে। সেটিকে পুড়িয়ে উদরস্থ করতেও সময় লাগে না চানের। হলভর্তি দর্শক চোখমুখ কুঁচকে ‘চান’ চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীর চিবিয়ে চিবিয়ে পোষা পাখির হাড়মাংস খাওয়া দেখেন। তীব্র রোমাঞ্চ আর ঘৃণা নিয়ে তাকান। দৃশ্যটি তাদের মাথায় গেঁথে যায় অনেক দিনের জন্য। এই রিভিউটি শেয়ার করে সেদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয় প্রাণীপ্রেমিরা। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে থেকে দাবি তোলা হয় যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারই প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দেশজুড়ে মুক্তি পায় ‘হাওয়া’ সিনেমাটি। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া মাঝি ও জেলেদের জীবন ঘিরে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তির আগে থেকেই বেশ সাড়া জাগায়। তরুণ নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এই সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, নাজিফা তুষি ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুমন আনোয়ার, সোহেল মণ্ডল, নাসির উদ্দিন।