ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২৬ ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
অবিশ্বাস্য এই বেঁচে যাওয়া
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 17 July, 2022, 1:22 PM

অবিশ্বাস্য এই বেঁচে যাওয়া

অবিশ্বাস্য এই বেঁচে যাওয়া

প্রায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না বেগমকে (৩২) ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন দিনমজুর জাহাঙ্গীর আলম। সঙ্গে ছিল ছয় বছরের মেয়ে সানজিদাও। হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর পর বিপরীত পাশে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করানোর জন্য রাস্তা পার হচ্ছিলেন। আর তখনই দ্রুতগামী ট্রাক চাপা দেয় তিনজনকেই।


একে একে মারা যান তিনজনই। তবে মৃত্যুর আগে প্রসব হয়ে যায় রত্নার। মায়ের গর্ভ ছেড়ে আসা নবজাতকটি পৃথিবীর আলো দেখলেও তা যেন তার সারা জীবনের জন্য অন্ধকার।
      

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল পৌর শহরের হাসপাতালের সামনে ঘটে এ দুর্ঘটনা। ময়মনসিংহগামী তাজ ও মাহী এন্টারপ্রাইজের একটি মালবাহী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ২০৩৫৮০) চাপা দেয় নবজাতকটির মা-বাবা ও বোনকে। ভূমিষ্ঠ হওয়া ওই মেয়ে নবজাতকটি জাহাঙ্গীর-রত্না দম্পতির চতুর্থ সন্তান। জাহাঙ্গীর ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি গ্রামের বাসিন্দা।


বেঁচে যাওয়া নবজাতকটি স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কমিউনিটি বেইসড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। শিশুটির একটি হাত ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পরে ময়মনসিংহ লাবীব হাসপাতালের পরিচালক মো. শাহজাহান ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিশুটিকে তাঁর হাসপাতালে নিয়ে অর্থোপেডিক সার্জন সোহেল রানার মাধ্যমে হাতে প্লাস্টার করে সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন। শিশুটির অন্য কোথাও সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক শাহজাহান।


শাহীন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমি মহাসড়কের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। তিনজন একসঙ্গে একটু দাঁড়িয়ে যখন রাস্তা পার হচ্ছিল তখন অন্যদিক থেকে আসা একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে তিনজনই ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এ সময় গর্ভবতী নারীর পেট থেকে বাচ্চাটা অর্ধেক বের হয়ে যায়। আমরা কয়েকজন দৌড়ে গিয়ে দেখি স্বামী-স্ত্রী দুজন মারা গেছেন। ছোট শিশু সানজিদাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায়। এ সময় আমরা নবজাতক শিশুসহ তার মাকে কাছেই হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার শিশুটির নাড়ি কেটে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিবিএমসিতে পাঠান। ’


রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিহতদের বাড়ি গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। বাড়িতে থাকা দুই শিশুসন্তানসহ পরিবারের সবাই আহাজারি করছে। ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনির মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন জাহাঙ্গীরের বাবা প্রতিবন্ধী বাবলু মিয়া। রাত ৯টায় নিহত তিনজনের জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।


জাহাঙ্গীরের চাচাতো ভাই আরিফ রব্বানী বলেন, রত্না বেগম অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর প্রসবের সময় দুই দিন পার হয়ে যাওয়ায় তিনি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করাতে আসেন। এরপর সেখান থেকে ফেরার পথে একটি ট্রাক তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই পরিবারের ওই তিনজনের মৃত্যু হয়। তবে এ সময় আঘাত পেয়ে ওই নবজাতক ভূমিষ্ঠ হয়।


লাবীব হাসপাতালের পরিচালক শাহজাহান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে আমার হাসপাতালে ভর্তি করি। আমার স্ত্রীই তাকে লালন-পালন করছে। শিশুটির ডান হাতের দুটি অংশ ভাঙা দেখা গেছে। একজন অর্থোপেডিক সার্জনের মাধ্যমে হাতের প্লাস্টার করেছি। এখন নবজাতকটি ভালো আছে। ’


জাহাঙ্গীরের বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবলু মিয়া নিহতদের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। সেই সঙ্গে দোষী ট্রাকচালকের শাস্তির দাবি জানান।


অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শিশুটিকে দেখতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক এনামুল হক হাসপাতালে যান। বাইরে উৎসুক জনতা হাসপাতালে ভিড় জমায়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status