ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২৭ মে ২০২৬ ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
টি-টোয়েন্টি থেকে তামিমের অবসর, হোয়াইট ওয়াশেও খুশি নন
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 17 July, 2022, 12:18 PM

টি-টোয়েন্টি থেকে তামিমের অবসর, হোয়াইট ওয়াশেও খুশি নন

টি-টোয়েন্টি থেকে তামিমের অবসর, হোয়াইট ওয়াশেও খুশি নন

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন তামিম ইকবাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই করার পর নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি। ছয় মাসের স্বেচ্ছা বিরতি শেষ হওয়ার আগেই সরে দাঁড়ালেন তিনি।


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে কোনো কিছু বলেননি তামিম। তবে সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট পরই নিজের ফেসবুক পেজ থেকে আসে অবসরের ঘোষণা। ফেসবুকের ওই পোস্টে তামিম লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আজকে থেকে আমাকে অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করুন। ধন্যবাদ সবাইকে।’


আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তামিমের অভিষেক ২০০৭ সালে, কেনিয়ার বিপক্ষে। এ সংস্করণে ৭৮ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৭৫৮ রান করেছেন তিনি ২৪.০৮ গড় ও ১১৬.৯৬ স্ট্রাইক রেটে। ৭টি অর্ধশতকের সঙ্গে ১টি শতকও আছে তাঁর। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ধর্মশালায় ওমানের বিপক্ষে তামিম খেলেছিলেন অপরাজিত ১০৩ রানের ইনিংস। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের একমাত্র শতক হয়ে আছে সেটি।


২০২০ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন এ বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। চোটের কারণে এরপর বেশ কিছু দিন বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। এরপর তরুণদের সুযোগ করে দিতে ও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণ জানিয়ে গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি।


এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টানা ১০ ওয়ানডেতে হারানো, তৃতীয়বারের মতো সিরিজে ধবলধোলাই, নিজে সিরিজসেরা হওয়া। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে কোনো ম্যাচ না জেতার পরও এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো। তবে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল এ জয়গুলো নিয়ে ঠিক রোমাঞ্চিত নন,  রাখতে চান না খুব উঁচু জায়গাতেও।


গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে স্পিনাররা সহায়তা পেয়েছেন বেশ ভালোই। বাংলাদেশও একাদশ সাজিয়েছে সেভাবেই। প্রতি ম্যাচেই একজন করে পেসার কমিয়ে খেলানো হয়েছে বাড়তি একজন স্পিনার, শেষ ম্যাচে তো ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো এক পেসার নিয়েই নামে বাংলাদেশ। তামিম খুব বেশি রোমাঞ্চিত নন এ কারণেই, ‘আমি এ জয়গুলোকে খুব উঁচুতে রাখতে চাই না। এটা নিয়ে খুব বেশি রোমাঞ্চিত না। কারণ স্পিনারদের জন্য খুব বেশি সহায়তা ছিল। এ কারণে দুনিয়া জিতে ফেলেছি, (ব্যাপারটা অমন) না। ভালো উইকেটে খেললে আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে।’



শেষ ওয়ানডের আগে তামিম ও প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বেঞ্চের শক্তিমত্তা পরীক্ষা করে দেখার কথা বললেও ‘ডেড রাবার’-এ বাংলাদেশ নেমেছে নিজেদের পূর্ণ শক্তিমত্তা নিয়েই। কেন এ ম্যাচেও এমন সিদ্ধান্ত, ম্যাচশেষের সংবাদ সম্মেলনে তামিম ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, ‘আমি চেয়েছিলাম। তবে ম্যানেজমেন্ট বলেছে পুরোশক্তির দল চায়। আমরা জানতাম একই উইকেটে খেলা, ফলে একটাই পরিবর্তন আসতে পারে। একজন পেসারের জায়গায় তাইজুলকে খেলানো, আমিও এটা বুঝতে সক্ষম হয়েছি। কারণ কথা ছিল দল যখন ভালো করছে, তখন সেভাবেই শেষ করা উচিত।’



তবে সামনে এগোতে হলে নিয়মিত একাদশের বাইরের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য বাজিয়ে দেখা ছাড়া উপায় নেই, তামিম মনে করিয়ে দিয়েছেন সেটি, ‘সামনে যেতে হলে বেঞ্চের শক্তি দেখতেই হবে। নাহলে কীভাবে বুঝতাম তাইজুলের এই গুণ আছে, বা মোসাদ্দেকের বোলিংয়ের এই সামর্থ্য আছে। কোনো না কোনো সময় দেখতেই হবে। হয়তো একসঙ্গে পাঁচজনকে করবেন না, এক-দুই জন করে করতে হবে। ওয়ানডেতে বিশ্বের বড় দলগুলো কিন্তু এভাবেই করে, সিরিজ জিতলে খেলোয়াড় বদলায়। আমাদের আরেকটু সাহস দেখিয়ে করতে হবে। আবার আমরা এর আগে করিওনি। ফলে একটা দ্বিধা থেকে যায় সবসময়। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে আপনারা দেখতে পাবেন।’



শেষ ম্যাচে এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গড়েছে সিরিজে নিজেদের সর্বোচ্চ স্কোর। বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরাও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এ ম্যাচেই। তামিম বলছেন, জয়ের ব্যবধান আরও বড় হলে ভালো লাগত তাঁর, ‘ উন্নতির শেষ নেই। উইকেট কঠিন ছিল, খেলার অযোগ্য ছিল না। ৭ বা ৮ উইকেটে যদি জিততাম, তাহলে উন্নতি হয়েছে বলতাম। কারণ একটা সময় নিশ্চিত ছিল না ম্যাচ কোনদিকে যাচ্ছে। এসব ছোটখাট বিষয়ে উন্নতি করতে হবে। আরও ভালো দল, ভালো উইকেটে খেললে কী হবে বলা তো যায় না। বোলিং ব্যাটিং,সবখানেই উন্নতি লাগবে। জিতছি বলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়নি। ধীরে ধীরে সমাধান করছি। জিততে শুরু করলে মানুষ দূর্বলতা লুকিয়ে ফেলে। আমি সেভাবে ভাবি না। চেষ্টা করছি, আশা করি সামনে ভালো হবে।’


ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে আগামী বছরের বিশ্বকাপ লক্ষ্য করেই এগোচ্ছেন, সেটিও জানিয়েছেন তামিম, ‘২০২৩ বিশ্বকাপই লক্ষ্য। সে প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছি। কিন্তু আমি খুব বেশিদূর তাকাতে চাই না। কারণ কী হয় না হয়, কখনোই জানি না। কে চোটে থাকে, কে থাকে না থাকে। (তবে) আমরা ধারণা পাচ্ছি।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status