বাবার অপমানকারীকে শায়েস্তা করতে গিয়েই খুন হন মহসীন
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 8 May, 2022, 12:53 PM
বাবার অপমানকারীকে শায়েস্তা করতে গিয়েই খুন হন মহসীন
বাবাকে চরম অপমান কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না মহসীন সরকার। সালিশে বিষয়টি মীমাংসা হলেও অপমানকারী আরিফকে শায়েস্তা করার ফন্দি আঁটেন তিনি। তবে প্রতিশোধ নেয়া হলো না, আরিফের পাল্টা আক্রমণে খুন হন মহসীন।
ঘাতক আরিফ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া পুলিশের কাছেও একই তথ্য দিয়েছেন তিনি।
গত সোমবার (২ মে) সন্ধ্যায় খুন হন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম ছেলে মো. মহসীন সরকার। তিনি বিডি ফুডসহ একাধিক কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর ছিলেন। পৌর এলাকার রাধানগরে নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পাশেই নতুন বাড়ি করছিলেন মহসীন।
পুলিশ জানায়, আদালতে জবানবন্দিতে আরিফের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। এছাড়া সে পুলিশের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।
নিহত মহসীন সরকারের বাবা শহিদুল ইসলাম আখাউড়া থানায় মামলা করার তিনদিন পর আরিফকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্বাগত সৌম্যর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আরিফ।
জবানবন্দিতে আরিফ জানায়, প্রবাসে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীকে নিয়ে কুৎসা রটায় মহসীনের পরিবার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহসীনের বাবাকে অপমান করে আরিফ। বিষয়টি মীমাংসা হলেও মেনে নিতে পারছিলেন না মহসীন। এরই জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আরিফের ওপর আক্রমণ চালান মহসীনসহ কয়েকজন। আরিফ তখন ফলসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। স্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী একটি ছুরিও কিনেছিলেন। হামলার সময় ঐ ছুরি দিয়ে তিনি এলোপাতাড়ি আক্রমণ করেন।
তবে মহসীনের সঙ্গে থাকা মো. শফিউল আলম নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেলে করে তারা রাধানগর খেকে খলাপাড়া যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন মহসীন। ঐ সময় ৫-৬ জন এসে মহসীনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আখাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার জানান, কৌশল অবলম্বন করে আরিফকে ধরা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে নিজ বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। আদালতে দেওয়া আরিফের স্বীকারোক্তি যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।