ফেসবুকে টিপ পড়া ছবি দিয়ে দেশব্যাপি নারীদের প্রতিবাদের ঝড়
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 3 April, 2022, 2:22 PM
ফেসবুকে টিপ পড়া ছবি দিয়ে দেশব্যাপি নারীদের প্রতিবাদের ঝড়
ঢাকার রাস্তায় ‘টিপ পরায়’ হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার। তার অভিযোগ, ‘হেঁটে কলেজের দিকে যাওয়ার সময় হুট করে পাশ থেকে মধ্যবয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা একজন- ‘টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দেন তাকে। ওই মধ্যবয়সী ব্যক্তির গায়ে পুলিশের পোশাক। ঘটনার প্রতিবাদ জানালে এক পর্যায়ে তার পায়ের ওপর দিয়েই বাইক চালিয়ে চলে যান সেই ব্যক্তি।
এর প্রতিবাদে ফেসবুকে টিপের পক্ষে সরব হয়েছেন হাজারও মানুষ। টিপ পরা ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা। তবে প্রতিবাদকারীরা এটাকে ‘শুধু টিপ পরা’র বলছেন না। তারা বলছেন, টিপের উপর এমন আঘাত- বাঙালি সংস্কৃতির উপর আঘাত, নারীর স্বাধীনতার উপর আঘাত। নারীকে নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে আটকে ফেলার ষড়যন্ত্র মেনে না নেওয়ার ঘোষণা এই প্রতিবাদ।
বাংলাদেশ যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি অধ্যাপক অপু উকিল লিখেছেন, ‘টিপের সঙ্গে এই উপমহাদেশের অনেক প্রাচীন সম্পর্ক রয়েছে। আমি কপালে টিপ পরতে খুব ভালোবাসি। শুধু ভালোবাসাই নয়, আমি বিশ্বাস করি, টিপের সঙ্গে আমার সংস্কৃতি এবং আস্থা জড়িয়ে রয়েছে।’
বাচিক শিল্পী রীআ হাকিম লিখেছেন, ‘টিপ আমার পরিচয়, টিপ আমার সংস্কৃতি।’
ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, ‘এদেশ যতদিন না হবে আফগানিস্তান, টিপ হবে বাঙালি নারীর একান্ত-পরিধান।’
ঘটনার প্রতিবাদে নিজের বেশ কিছু টিপ পরা ছবি পোস্ট করে সাংবাদিক ড. জোৎস্নালিপি লিখেছেন, ‘আমি টিপ পরতে ভীষণ ভালোবাসি! তাই আমার প্রতিদিনের সাজের তালিকায় প্রথম পছন্দ টিপ।’
এই ভার্চুয়াল প্রতিবাদে একাত্মতা জানিয়েছেন পুরুষরাও। সংস্কৃতিকর্মী অরূপ রাহী টিপ পরা ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘নাহ, পুরুষ হয়ে টিপ পরলেই বোঝা যাবে না বিপরীত লিঙ্গের উপর ‘৯৯ ভাগের দেশে’ চলা পুরুষতান্ত্রিক পুলিশি। এই পুলিশি সমাজের ‘পুরুষরা' শুধু আত্মীকরণই করে না, নিজেরাও ভুগতে থাকে পুরুষ পারফর্ম করতে গিয়ে। অবশ্য সেটা সবাই টের পায় না বা বোঝে না, কেন কীভাবে তারা পুরুষতন্ত্রে ভুগছে।’
শুধু প্রতিবাদ নয়, অভিযুক্ত অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন প্রতিবাদকারীরা। অ্যাক্টিভিস্ট মনজুন নাহার লিখেছেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োজিত একজন পুলিশের এহেন নিকৃষ্ট আচরণের প্রতিবাদ করি আর বিচার চাই। তাকে গ্রেফতার করা হোক।’
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে উন্নয়নকর্মী ফারহানা হাফিজ লিখেছেন, ‘ধীরে ধীরে আমাদের বোধ, মনন, আচার, ব্যবহার গ্রাস হচ্ছে, সংকোচিত হচ্ছে; কার দ্বারা— তার উত্তর গতকাল টিপ পরা নারীটির পায়ের উপর পুলিশ পোশাক পরিহিতের বাইক চালিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পাওয়া যায়। খুব সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় এসব করে আসার আশকারা পেয়ে আসছে। তাদের প্রথম টার্গেট নারী এবং মাধ্যম অবশ্যই পোশাকের রাজনীতি। কারণ এদেশের উন্নয়ন গতিধারায় নারীরা জোয়ার এনেছে, তা রুখে দিলেই তাদের অর্ধেক কার্যসিদ্ধি হয়।’
সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাসুদা ভাট্টি লিখেছিন, ‘টিপটা সবুজ, যা বাংলাদেশকে নির্দেশ করে সব সময়। কিন্তু কারা যেন বাংলাদেশকে (টিপকে) মুছে দিতে চায়। কালকেই লিখছিলাম- কারা এই নিষ্ঠুর সমাজ তৈরি করছে? অনেকেই অনেক কথা বলেছেন, এই যে দেখুন কারা সমাজকে আরও কট্টর, হিংসাশ্রয়ী করে তুলছে। একটা টিপকে মেনে নিতে যাদের কষ্ট হয় তারা নারীর স্বাধীনতাকে মানবে কেন? ওদিকে একদল করছেন, হিজাব-বোরকা-ছবি না তোলার আন্দোলন, ভগিনীগণ আপনারা কি টিপ পরার স্বাধীনতার পক্ষেও দাঁড়াবেন? নাহলে আপনাদের দাবিতে কেন টিপ-ওয়ালারা গলা মেলাবে বলুন?’