হুজুর যেখানে যেখানে মেরেছে, সেই জায়গা বেহেস্তে যাবে
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 2 April, 2022, 6:34 PM
হুজুর যেখানে যেখানে মেরেছে, সেই জায়গা বেহেস্তে যাবে
‘বাবা কাঁদিস না, হুজুর যেখানে যেখানে মেরেছে সেই জায়গা বেহেস্তে যাবে। একটু যন্ত্রণা সহ্য কর, আমি হুজুরকে ফোন দিচ্ছি। তিনি এলে তোর সব ব্যথা ঠিক হয়ে যাবে।’
এভাবেই শান্তনা দিচ্ছিলাম। কিন্তু রাত গভীর হলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে আমার ১৩ বছর বয়সী মাদরাসায় পড়ুয়া ছেলে সাইফুল ইসলাম। পরে রাতেই নির্যাতনকারী শিক্ষক বাড়িতে এসে আহত সাইফুলকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কৌশলে আমার ছেলেকে ডায়রিয়ার রোগী হিসেবে ভর্তি করান তিনি। এরপর সাইফুল আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অশ্রুসিক্ত চোখে এভাবেই নিজ সন্তানজকে নির্যাতনের কথা জানাচ্ছিলেন মাদরাসাছাত্র সাইফুলের মা মাজেদা বেগম। সাইফুল ঐ উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের ডঙ্কুপাড়া গ্রামের সোবাহানের ছেলে। সে রসুলপুর কামাল উদ্দিন হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) সকালে প্রধান গেট দিয়ে না এসে বেড়ার উপর দিয়ে মাদরাসায় প্রবেশ করায় ক্ষিপ্ত হন শিক্ষক জামাল উদ্দিন। পরে সাইফুলকে ডেকে নিয়ে টুনি (বাঁশের কঞ্চি) দিয়ে অমানসিক নির্যাতন চালান তিনি। পরে শরীরে আঘাত ও জ্বর নিয়ে বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে সবকিছু জানায় সাইফুল। মা গ্রাম্য চিকিৎসক দিয়ে ছেলের চিকিৎসা করান। পরে রাত ১টার দিকে সাইফুল আরো অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুয়াকাটা হাসপাতালে নিয়ে যান শিক্ষক জামাল। চিকিৎসক সাইফুলকে দ্রুত কলাপাড়া হাসপাতালে পাঠান। সেখানে সাইফুলকে ডায়রিয়ার রোগী হিসেবে ভর্তি করে সটকে পড়েন অভিযুক্ত শিক্ষক। বর্তমানে কিশোর সাইফুল চিকিৎসাধীন অবস্থায় যন্ত্রণায় কাতড়াচ্ছে।
সাইফুলের বাবা সোবাহান জানান, ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন কোথাও হার ভেঙেছে কিনা। এদিকে তাদের বাড়িতে গিয়ে কোনো মামলা না করতে হুমকি দিয়েছেন নির্যাতনকারী শিক্ষক জামালের শ্বশুর আবুল কালাম।
মহিপুর থানার ওসি খন্দকার আবুল খায়ের জানান, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।