ডাক্তার পরিচয়ে ১৪ নারীকে বিয়ে করে গ্রেপ্তার, খোঁজ মিলল আরো ৩ স্ত্রীর
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 17 February, 2022, 2:48 PM
ডাক্তার পরিচয়ে ১৪ নারীকে বিয়ে করে গ্রেপ্তার, খোঁজ মিলল আরো ৩ স্ত্রীর
ভারতের সাত রাজ্যে ১৪ নারীকে বিয়ে ও তাঁদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনজীবী থেকে শুরু করে চিকিৎসক, নার্স, সেনাবাহিনীতে কর্মরত নারীসহ মোট ১৪ জনকে বিয়ে করেছেন তিনি এবার আরো খোঁজ মিলেছে তার তিন স্ত্রীর। এ নিয়ে তার স্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। খবর এনটিটিভির। দেশটির ওডিশা রাজ্যের ভুবনেশ্বর থেকে গতকাল গত সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতের দিল্লি, পাঞ্জাব, আসাম, ঝাড়খণ্ড এবং উড়িষ্যাসহ সাত রাজ্যে ১৪ জনকে বিয়ের অভিযোগে পুলিশের জালে প্রথম ধরা পড়েন বিয়েপাগল ওই ব্যক্তি।
ভুবনেশ্বরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ঊমাশঙ্কর দাশ জানান, অভিযুক্তের আরো তিন স্ত্রীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মোবাইল ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হবে এবং তার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করা হবে।
উড়িষ্যার জগতসিংপুর জেলার একজন ছাত্র অভিযোগ করেছেন, ভুয়া ডাক্তার তাকে একটি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১৮ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বাড়ি ওডিশা রাজ্যের কেন্দ্রাপাড়া জেলার পাটকুরা থানার একটি গ্রামে। তিনি বেশিরভাগ সময় ওডিশার বাইরে থাকতেন। তাঁর টার্গেট ছিল বেশিরভাগ মধ্যবয়সী নারী এবং বিবাহবিচ্ছেদপ্রাপ্তরা। তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য কাজ করা একজন ডাক্তার হিসাবে পরিচয় দিয়ে বিবাহ সাইটগুলোর মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিবাহ-সম্পর্কিত ওয়েরবসাইটগুলোতে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে নারীদের সঙ্গে আলাপ শুরু করতেন। তিনি শিকার হিসেবে বেছে নিতেন মাঝবয়সি অবিবাহিত নারী ও ডিভোর্সিদের। এভাবে একে একে তার ফাঁদে পড়েছেন চিকিৎসক, আধাসেনায় কর্মরত নারী, আইনজীবী এমনকি উচ্চশিক্ষিত নারীরাও।
অভিযুক্ত প্রথম বিয়ে করেন ১৯৮২ সালে। দ্বিতীয় বিয়ে করেন ২০০২ সালে। ভুবনেশ্বরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ঊমাশঙ্কর দাশ জানান, প্রথম এবং দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর মোট পাঁচ সন্তান। ২০০২ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিবাহ-সম্পর্কিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নারীদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করার পর বিয়ে করতেন। ঘটনাচক্রে, যত জনকে তিনি বিয়ে করছেন, কেউই তার আগের বিয়ের ব্যাপারে কিছুই টের পাননি।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার আরো বলেছেন, কেবল বিয়ে করাই অভিযুক্তের মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল না। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল চাকরিজীবী নারীদের বিয়ে করে তাঁদের টাকাপয়সা আত্মসাৎ করা। প্রতিবারই তিনি বিয়ের পর স্ত্রীদের টাকা হাতিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছেন।
কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের জুলাইয়ে একজন শিক্ষিকা ভুবনেশ্বরে অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এক ব্যক্তি তাঁকে ২০১৮ সালে দিল্লিতে বিয়ে করে ভুবনেশ্বরে নিয়ে আসেন। ওই ব্যক্তি বেশ কয়েক বার বিয়ে করেছেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন ওই নারী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে পুলিশ।
পুলিশ বলেছে, অভিযুক্তের কাছ থেকে ১১টি এটিএম কার্ড, চারটি আধার কার্ড এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। নারীদের ফাঁসিয়ে বিয়ে করে টাকা হাতানো ছাড়াও আরো প্রতারণার কাজে জড়িত ছিলেন অভিযুক্ত। এর আগে যুবকদের চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়েও প্রতারণা করার অভিযোগে হায়দরাবাদে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।