‘পদ নিয়ে লড়াই’ নামে এখন একটি সিনেমা নির্মাণ করলে নিশ্চিত হিট হতো! কারণ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পদ নিয়ে সিনেমার শিল্পীদের লাড়াইটা সাধারণ মানুষ যে দারুণভাবে উপভোগ করছেন। ‘সাধারণ সম্পাদক’ পদ নিয়ে নিপুণ-জায়েদের লড়াইটা শেষ পর্যন্ত আদালতে গিয়েই সমাধান হলো।
প্রথমে জায়েদ, পরে নিপুণ, পরে আবারও জায়েদ। যেখানে সিনেমা হল বন্ধ, বন্ধ সিনেমা মুক্তি সেখানে এক নির্বাচন নিয়ে যা হচ্ছে, তাতেই বিনোদন পাচ্ছে সাধারণ দর্শক! নির্বাচনপরবর্তী মিশা-জায়েদ প্যানেলের দুটি বিজয়ী পদের ফল ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগেই সৃষ্টি হয়েছে সংকট। গত ২৮ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পর ২৯ তারিখ ভোরে ফল ঘোষণা করা হয়। আপিল করেন নিপুণ। আগের ফল ঠিক রেখেই নিপুণের আপিলের নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু অসন্তুষ্ট নিপুণ ভোট কেনার অভিযোগ এনে জায়েদ ও চুন্নুর প্রার্থিতার ফল বাতিল চেয়ে আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত চেয়ে চিঠি পাঠায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় হয়ে পুনরায় আপিল বিভাগের কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকনির্দেশনা আসে।
সেখানে বলা হয়, আপিল বিভাগের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এর পর দুই প্যানেলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এ দিকনির্দেশনায় শনিবার বিকালে আলোচনার জন্য বিএফডিসিতে বসেন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান। সেখানে নিপুণ থাকলেও ছিলেন না জায়েদ। তিনি আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন না থাকার কথা। সেদিন জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আপিল বোর্ড। পরের দিন রবিবার মিশা-জায়েদ প্যানেলের সভাপতি পদে পরাজিত সাবেক সভাপতি মিশা সওদাগর সদ্য জয়ী সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনকে শপথবাক্য পাঠ করান। পরে ইলিয়াস কাঞ্চন শপথবাক্য পাঠ করান নিপুণসহ বাকিদের। এ পর্যন্ত পড়ে মনে হতেই পারে তা হলে তো ঠিকই আছে। কিন্তু না!
জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার বিবাদীদের এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর পর কী ঘটবে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। কেউ কথা বলছেও না। তবে শপথবাক্য পাঠের দিন কথা বলেছেন মিশা। তিনি বলেন, ‘পেছনের দিকে কী ঘটেছে, সেদিকে আমরা না তাকাই। পেছনে কী ঘটেছে, সেদিকে তাকাব না। আমরা আজ থেকে ভবিষ্যতে কীভাবে সুন্দর সমৃদ্ধ শিল্পী সমিতি গড়ে তোলা যায়, সেদিকে লক্ষ করব। সেই ব্যবস্থা আমরাই করব। এবার সভাপতি হয়েছেন আমাদের প্রাণপ্রিয় ইলিয়াস কাঞ্চন। আপনাকে অনুরোধ করব সবাইকে নিয়ে এমন কাজ করবেন, এমন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করবেন, যা আগে হয়নি। সবার মধ্যে কোনো বাধা যেন না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আমি বিশ্বাস করি, আপনি আলোকিত মানুষ। আপনার আলোয় সমগ্র শিল্পী সমাজ আলোকিত হবে। সেই বিশ্বাস আমার আছে।’
নির্বাচনে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল। তিনি বলেন, ‘শিল্পী সমিতি নিয়ে এত মাতামাতি ও আলোচনার মূল কারণ হচ্ছে, ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো কাজ নেই। হাতেগোনা কিছু সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। শিল্পীদের হাতে কাজ নেই। ফলে তাদের সব মনোযোগ সমিতির দিকে। আজ যদি একের পর এক সিনেমা নির্মিত হতো, তা হলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। সবাই কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকত। সমিতির দিকে মন দেওয়ার সময় পেত না।’