নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর এক সমর্থককে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে। এলাকায় থাকলে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী সাগর আলীর অভিযোগ, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আক্কাছ আলীর সমর্থকরা গত মঙ্গলবার রাতে তার বাড়িতে এসে এ হুমকি দেন। স্থানীয় বাজারে সাগরের মুদি দোকানও বন্ধ রাখতে বলা হয়।
সাগরের বাড়ি ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে। হুমকির ঘটনায় তিনি বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত এবং থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হায়দার আলীর প্রচারে অংশ নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতা আবু জাফর বলেছেন, 'আপনারা কি নিজের স্ত্রীর মাথায় সিঁদুর পরাতে চান? যদি সিঁদুর পরাতে চান, তাহলে নৌকায় ভোট দেন।' ভোটারদের উদ্দেশে তার দেওয়া এমন বক্তব্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন।
চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে আগামী রোববার নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হবে। হুমকি পাওয়া সাগর আলী বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছি। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক ঘোষপাড়া গ্রামের শরিফ উদ্দিন ও রওজাপাড়া গ্রামের মকলেছুর রহমান রুবেলসহ ১০-১২ জন বাড়িতে এসে আমার অনুপস্থিতিতে স্ত্রীকে বলেন- 'বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে আপনার স্বামী যেন এলাকা ছেড়ে চলে যায়। নির্বাচনের পরের দিন বাড়িতে ফিরে আসবে। এ সময় মুদি দোকান বন্ধ থাকবে। কথা না শুনলে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হবে।' একইভাবে বুধবার সকালে বাজারে আমার মুদি দোকানে এসে তারা প্রকাশ্যে একই কথা বলেন।
সাগর বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ জানালেও রিটার্নিং কর্মকর্তা ও থানা থেকে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে আছি। দোকানও খুলতে পারছি না।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু জানান, গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচনী এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে আমার পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
শরিফ উদ্দিন ও মকলেছুর রহমান রুবেল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আক্কাছ আলীও সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, নির্বাচন ঘিরে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আত্রাই থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করছি। নির্বাচন ঘিরে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে তৎপর আছি।
'যদি সিঁদুর পরতে চান, তাহলে নৌকায় ভোট দেন'
বুধবার বিকেলে জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হায়দার আলীর পক্ষে আয়োজিত পথসভায় জামায়াত নেতা আবু জাফর নৌকায় ভোট না দেওয়ার জন্য ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, 'যদি সিঁদুর পরতে চান, তাহলে নৌকায় ভোট দেন।' আবুল কালাম সোনার নামে জামায়াতের আরেক নেতাও এ সময় বক্তব্য দেন। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন হায়দার আলীর ভাই ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি হুমায়ন রেজা।
বিদ্রোহী প্রার্থী হায়দার আলীর পথসভায় জামায়াত নেতাদের দেওয়া এমন বক্তব্য শোনার পর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অনেকের অভিযোগ, হায়দার আলীর পক্ষে কাজ করছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর বলেন, সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেওয়ার জন্য সরকারবিরোধী চক্র অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মাছুম আহম্মদ ভুঞা বলেন, ভাদসা ইউনিয়নে নির্বাচনী পথসভায় জামায়াত নেতার দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।