|
‘নামের মিল থাকায়’ পাসপোর্ট মেলেনি এক বছরেও
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ‘নামের মিল থাকায়’ পাসপোর্ট মেলেনি এক বছরেও ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে দেখা। তিনি জানান, দুবাইপ্রবাসী বড় ভাইয়ের মাধ্যমে সেখানকার গাড়ি সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠানে ১০ জন লোক নেওয়ার কথা। এর মধ্যে ৫ জন চলে গেছেন। ইমরান বলেন, “এই ১০ জনের একজন আমি। ১০/১২ দিনের মধ্যে যেতে না পারলে ‘ভিসা’র সুযোগ নষ্ট হয়ে যাবে। অথচ ঢাকার পাসপোর্ট অফিস থেকে জানাল আরও এক মাস লাগতে পারে।” চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের আবুল কালামের ছেলে ইমরান গত ৫ জানুয়ারি জরুরি ফি দিয়ে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের জন্য চট্টগ্রামের মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করেন। তাকে ১৪ জানুয়ারি পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে বলা হয়। নির্ধারিত সময় পাসপোর্ট অফিসে গেলে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘সমস্যা হয়েছে, পুলিশের তদন্তের প্রয়োজন।’ এরপর পাসপোর্ট অফিসে এই কর্মকর্তা থেকে ওই কর্মকর্তার কাছে ছোটাছুটি করে কুলকিনারা করতে পারেননি তিনি। প্রায় ছয় মাস পর তিনি জানতে পারেন, চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিস তার ও নোয়াখালীর এক ইমরানের বিষয়ে সঠিক তথ্য যাচাইয়ে পুলিশের বিশেষ শাখাকে (এসবি) চিঠি দিয়েছে। প্রায় দুই মাস তদন্ত করে এসবি প্রতিবেদন তৈরি করে তার অনুলিপি ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে পাঠায়। চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিসের মতামত প্রতিবেদনের অনুলিপি হাতে পেয়েই বৃহস্পতিবার ভগ্নিপতি একরামুল হককে সাথে করে ঢাকায় ছুটে আসেন ইমরান। একরামুল হক বলেন, “প্রতিবেদন নিয়ে এক কর্মকর্তার সাথে দেখা করেছি। চট্টগ্রাম অফিস থেকে তিনি প্রতিবেদন পেয়েছেন বলে জানালেন এবং আরও এক মাস অপেক্ষা করতে বললেন।” একমাস অপেক্ষার অর্থ আবেদনের বছর পেরিয়ে যাবে; যে নিয়োগে দুবাইতে যাওয়ার কথা তারও মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে বলে জানান একরামুল। চট্টগ্রামের মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক আবু সাইদ জানান, চট্টগ্রামের ইমরানের নাম, জন্ম তারিখ ও বাবার নামের সঙ্গে নোয়াখালীর আরেকজনের হুবহু মিল থাকায় ‘এই সমস্যার’ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, নোয়াখালীর ইমরান আগেই পাসপোর্ট নিয়েছেন। চট্টগ্রামের ইমরান পাসপোর্ট করতে এলে নাম, বাবার নাম এবং বয়স এক হওয়ার কারণে প্রযুক্তিগত সিস্টেম ‘ডেমোগ্রাফিক মডিউল’’ তার পাসপোর্ট আটকে দিয়েছে। “এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিচয় পুনর্বার নিশ্চিত হতে বা একই ব্যক্তি কিনা তা যাচাই করতে হয়। এ কারণে কিছুটা সময় লেগে যায়।” এসবি ও চট্টগ্রামের মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রামের ইমরানের জন্ম ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি। আবার নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা ইমরান হোসেনের বাবা এবং জন্ম তারিখ একই। তবে তাদের মায়ের নাম মিল নেই। চট্টগ্রামের এসবির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২ জুন চট্টগ্রামের বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের চিঠি পেয়ে চট্টগ্রামের ইমরান ও নোয়াখালীর ইমরান একই ব্যক্তি কিনা নিশ্চিত হতে তদন্তের জন্য নোয়াখালীর এসবিকে চট্টগ্রামের এসবি অনুরোধ জানায়। তবে যাচাই করে চট্টগ্রামের ইমরানের পরিচয় নিশ্চিত হলেও নোয়াখালীর ইমরানকে পাসপোর্টে দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যায়নি। এর পর ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিস থেকে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে চট্টগ্রামের ইমরানের পাসপোর্ট কেন্দ্রীয়ভাবে ‘ডেমোগ্রাফিক মডিউল’ থেকে অবমুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বলা হয়। আবু সাইদ বলেন, “ইমরানের পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রধান কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।” চট্টগ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার সকালেই ঢাকায় এসেছিলেন ইমরান ও একরামুল। এক মাস পরে পাসপোর্ট পাওয়ার কথা শুনে সন্ধ্যায় তারা ভগ্নহৃদয় নিয়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা দেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
নাঙ্গলকোটে মধ্য বয়সী এক লম্পটের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ
বাগমারায় অবৈধ পুকুর খননবিরোধী অভিযান, ৩ ভেকু অকেজো, দুইজনের কারাদণ্ড
সাতক্ষীরায় রাফাতের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
