|
তিস্তা ব্যারাজ জুনেই কেন খুলে দেওয়া হয়: আসল কারণ কী?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ছবি: সংগৃহীত আজ বুধবার (২৪ জুন) সকাল থেকেই তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। দেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে তিস্তার পানি কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি বা সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপকূলীয় এবং চরাঞ্চলের নিছু এলাকার বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজ থেকে আসা পানির চাপ সামলাতেই বাংলাদেশ অংশের তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটই খুলে রাখা হয়েছে। নদী গবেষক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, বছরের এই সময়ে তিস্তা ব্যারাজ খুলে দেওয়ার পেছনে ৩টি প্রধান কারণ রয়েছে: মৌসুমি বায়ু ও অতিবৃষ্টি: জুন মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে (যেমন সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ) মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে। এর ফলে এই অঞ্চলগুলোতে অত্যন্ত ভারী ও টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। উজানের দেশের পানি ছেড়ে দেওয়া: বাংলাদেশের ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে ৫৪টি এসেছে ভারত থেকে। বর্ষার শুরুতে ভারতের গজলডোবা বাঁধ এলাকায় যখন অতিরিক্ত পানির চাপ তৈরি হয়, তখন নিজেদের এলাকাকে বন্যার হাত থেকে বাঁচাতে ভারত বাঁধের গেটগুলো খুলে দেয়। সেই পানি তীব্র গতিতে ভাটির দেশ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ব্যারাজের সক্ষমতা রক্ষা: উজান থেকে ধেয়ে আসা এই বিপুল পরিমাণ পানির চাপ বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজ একা ধরে রাখতে পারে না। ব্যারাজটি মূলত তৈরি করা হয়েছে শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজের জন্য, বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়। তাই ব্যারাজের নিজস্ব কাঠামোকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে ৪৪টি গেটের সবগুলোই একসঙ্গে খুলে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রাখায় বাংলাদেশের নদীগুলো শুকিয়ে ভরাট হয়ে যায় এবং নাব্য হারায়। আবার বর্ষায় হঠাৎ সব গেট খুলে দেওয়ায় নদীগুলো সেই অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে পারে না, যার ফলে প্রতি বছর এই সময়েই উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও তীব্র নদীভাঙন দেখা দেয়। সূত্র: বিবিসি নিউজ বাংলা
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
