প্রকাশ: Monday, 6 December, 2021, 9:25 AM সর্বশেষ আপডেট: Monday, 6 December, 2021, 9:34 AM
এক নির্বাচনেই ২০ বছর মেয়র
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচনে সর্বশেষ কবে ভোট দিয়েছেন তা অনেক ভোটারেরই মনে নেই। ২০ বছর আগে চেয়ারম্যান পদের (বর্তমান মেয়র) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল জয়ী হন। কিন্তু পৌর এলাকার সীমানা জটিলতায় এতদিন নির্বাচন হয়নি। এ সুযোগে একবার নির্বাচন করেই জামাল চার মেয়াদের সমান সময় পার করেছেন, এই দায় কার ? প্রশ্ন সবার।
আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় পৌর নির্বাচনে তিনিই (জামাল) নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।
বর্তমান মেয়র ও নৌকার প্রার্থী জামাল বলেন, মামলার কারণে এতদিন নির্বাচন হয়নি। সম্প্রতি আদালত বিরোধপূর্ণ এলাকা বাদ রেখে নির্বাচন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর নির্বাচন কমিশন তফশিল ঘোষণা করায় শনিবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড মেয়র পদে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত হয়েছে- যিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন, তার পক্ষেই সবাই কাজ করব। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই ভোট করবে বলে আমি আশাবাদী। এদিকে ১৩ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্য থেকে জামালকে বেছে নেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৪ এপ্রিল ঝিকরগাছা পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। ২০০১ সালের ২ এপ্রিল ঝিকরগাছা পৌরসভার প্রথম ও সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ বছর পর ২০০৬ সালের ১২ মে এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও নির্বাচন হয়নি। পৌর এলাকার সীমানা নিয়ে বিরোধে হাইকোর্টে তিনটি মামলা করেন পৌরসভার কাওরিয়া গ্রামের মোয়ালেম আলীর ছেলে শাহিনুর রহমান, মল্লিকপুরের অলিউল্লাহ মুন্সীর ছেলে সাইফুজ্জামান এবং বামনআলী গ্রামের নেয়াব মোড়লের ছেলে সাহাদত হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়-দরিদ্র মানুষের বাস এলাকা পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে বেশি কর দিতে হবে। এ কারণে ওই এলাকার মানুষ পৌর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চান না। মামলা হলে নির্বাচন স্থগিত করেন হাইকোর্ট। তবে সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ এলাকা বাদ রেখে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন আদালত। নির্বাচনের তফশিল ঘোষিত হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ঝিকরগাছা পৌর মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ১৪ জন। তারা হলেন- ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, সহসভাপতি ও বর্তমান মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল, সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান মুছা, সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক নাসিমুল হাবিব শিপার, সাবেক প্রচার সম্পাদক মোর্তজা ইসলাম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মাজহারুল ইসলাম প্রিন্স, আওয়ামী লীগ নেতা আমানুল কাদির টুল্লু, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছেলিমুল হক সালাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম বাপ্পি, ঝিকরগাছা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইমরানুর রশিদ, জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহানা আক্তার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইমামুল হাবিব জগলু ও ইমতিয়াজ আহমেদ শিপন।
২০ বছরের বেশি সময় ধরে মেয়র পদে দায়িত্ব পালনকারী জামালকে আবারও মনোনয়ন দেওয়ায় তার অনুসারীরা খুশি হয়েছেন। তবে দলের একটি বড় অংশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। তবে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।