|
ওমিক্রনে এপর্যন্ত মৃত্যু নেই, শুধুই শঙ্কা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ওমিক্রনে এপর্যন্ত মৃত্যু নেই, শুধুই শঙ্কা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা মাইকেল রায়ান জানান, এখনই এর সংক্রমণ ক্ষমতা নিয়ে কিছু বলার সময় হয়নি। তবে যেভাবে স্ট্রেনটি ছড়িয়ে পড়ছে, তা সাবধান হওয়ার মতোই। আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় ওমিক্রনের প্রবেশ ঘটেছে দু’দিন আগে। জানা গেছে, স্ট্রেনটির স্থানীয় সংক্রমণও শুরু হয়ে গেছে এই দুই দেশে। অর্থাৎ এখানে এমন কেউ সংক্রমিত হয়েছেন, যারা সম্প্রতি বিদেশ সফর করেননি। স্থানীয় এলাকাতেই কারও থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা জানিয়েছে, এই স্ট্রেনে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বারের জন্য কোভিড সংক্রমিত হচ্ছেন অনেকে। বাচ্চাদের সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা বেশি। পাঁচ বছরের নীচে শিশুদের সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটি কতটা শক্তিশালী তা জানতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। এটি গুরুতর অসুস্থতার কারণ কি-না এবং এর বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন রয়েছে সেটি যাচাই করে দেখা হবে। ![]() ওমিক্রনে এপর্যন্ত মৃত্যু নেই, শুধুই শঙ্কা অমিক্রন নিয়ে এমন ধারণায় ক্রমেই বেশি আত্মবিশ্বাসী হচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও করোনা মহামারিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। এতে বিশ্বজুড়ে করোনার নতুন এ ধরনটি নিয়ে চলা আতঙ্কের মধ্যে কিছু স্বস্তির ভাবও দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে পরামর্শ দিয়েছে আতঙ্কিত না হওয়ার। ডব্লিউএইচও বলেছে, দেশগুলোকে ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরোপ ও আতঙ্ক ছড়ানোর পরিবর্তে সতর্ক আশাবাদী হওয়া প্রয়োজন। কেননা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যত বেশি খবর সংগৃহীত হচ্ছে, তাতে এই ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে যে করোনার নতুন ধরন অমিক্রন আগের বিপজ্জনক ডেলটা ধরনের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী নয়। খবরে বলা হয়, অমিক্রনে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ![]() ওমিক্রনে এপর্যন্ত মৃত্যু নেই, শুধুই শঙ্কা বিজ্ঞাপন অমিক্রন প্রথম শনাক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। এর পর থেকে দ্রুতই এটির সংক্রমণ অন্তত ২৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সারা বিশ্বেই দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ধরনটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা ঘোষণা করে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সারা বিশ্বকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিতে বলে সংস্থাটি। পরিস্থিতি যখন এমন, তখন সারা বিশ্বের ব্যবসা–বাণিজ্য আরেক দফা ধাক্কা খাওয়ার উপক্রম। সংক্রমণ এড়াতে বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সীমান্ত বন্ধ, বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের ওপর নজরদারি, বাড়তি করোনা পরীক্ষাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, জার্মানি, ইতালি, চেক প্রজাতন্ত্র, ইসরায়েল এসব দেশের কয়েকটি। একই রকম পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। অমিক্রনের ভয়াবহতা সম্পর্কে দক্ষিণ আফ্রিকার মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি বলেছেন, ‘দেশগুলোর এই প্রতিক্রিয়া চিকিৎসাগত দৃষ্টিকোণ থেকে যথাযথ মনে হলেও তা যুক্তিযুক্ত নয়।’ যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের প্রতিক্রিয়াকে ‘শুধুই হইচই’ বা অতিরিক্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ![]() ওমিক্রনে এপর্যন্ত মৃত্যু নেই, শুধুই শঙ্কা আল–জাজিরা জানায়, অমিক্রন ধরনের সংক্রমণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা করোনা মহামারির চতুর্থ ঢেউয়ে প্রবেশ করেছে; তবে হাসপাতালগুলোতে এখনো চাপ তৈরি হয়নি বলে জানান দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জো ফাহলা। শুক্রবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জো ফাহলা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার নয়টি প্রদেশের মধ্যে সাতটিতে নতুন এই ধরনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আশা করা হচ্ছে, এ ধরন খুব বেশি মানুষের প্রাণ নিতে পারবে না। তিনি দেশবাসীকে টিকার দুই ডোজই নেওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, এটিই অমিক্রনের বিরুদ্ধে সেরা সুরক্ষা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
