|
বেতন সামান্য ২৭ বছরে ২৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ যাচাই করছে দুদক
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বেতন সামান্য ২৭ বছরে ২৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ যাচাই করছে দুদক অভিযোগে বলা হয়, অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে গাড়ি, বাড়ি, জমি, প্লটসহ নানা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি যেন আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। সূত্র জানায়, জিয়াউর রহমান ঢাকার খিলগাঁওয়ের আনসার সদর দপ্তরে বিভাগীয় হিসাব ও কল্যাণ শাখায় কেরানি পদে কর্মরত। এর আগে তিনি আরও ছোট পদে কর্মরত ছিলেন। দুদকে পেশ করা অভিযোগে আরও বলা হয়, জিয়াউর রহমান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের আনসার সদস্যদের জিম্মি করে অনৈতিকভাবে তাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন। ভুয়া বিল-ভাউচারে অর্থ বরাদ্দ করিয়ে, জাল-জালিয়াতি করে আনসার সদস্যদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এভাবে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের কেরানি মো. জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, তার নামে অবৈধ সম্পদ নেই। রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার টেংরা নামক গ্রামে বিলাসবহুল যে বাড়িটি নির্মাণ করেছেন, সেটি তার ভাইয়েরা মিলে পারিবারিকভাবে নির্মাণ করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি জমি-ফ্ল্যাট ক্রয় করেননি। তার নামে কোনো প্রাইভেটকার নেই। অভিযোগে তার নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ওই সব সম্পদের মালিকানা স্বীকার করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আনসার সদস্য বলেন, জিয়াউর রহমান আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুটে নিয়েছেন। অর্থ আত্মসাতে অনেকের সঙ্গে তার যোগসাজশ রয়েছে। নিজের দুর্নীতি এড়াতে তিনি এখন চাকরি ছাড়ারও পাঁয়তারা করছেন। কারণ, এখন তিনি যে পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন, তাতে তার আর চাকরির প্রয়োজন নেই। অভিযোগে জিয়াউর রহমানের মালিকানাধীন সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে তিনি রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার টেংরা নামক গ্রামে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করে তিনতলা আলিশান পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। নাম দেওয়া দেয়েছে 'মৃধাবাড়ি'। অভিযোগে বলা হয়, জমির মূল্যসহ বাড়িটির নির্মাণ খরচ হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। কালুখালী উপজেলার টেংরা এলাকায় তার নামে আরও একটি বাড়ি রয়েছে। নিজ এলাকায় ১০-১৫ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন, যার মূল্য ৬০-৭০ লাখ টাকা। ওই এলাকার বাজারের পাশে বাগপাড়া মমিন মিস্ত্রির বাড়ির সামনে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ২০ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন, যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় তার স্ত্রীর নামে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। দুটি প্রাইভেটকার রয়েছে তার নামে। এর মধ্যে আধুনিক মডেলের 'নোয়া' গাড়িটি কেনা হয়েছে ২৫-২৬ লাখ টাকায়। অ্যালিয়েন ব্র্যান্ডের নতুন একটি গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। তিনি প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা গাড়িচালককে বেতন দেন। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পদমদি এলাকায় তার বোনের বাড়ির পাশে ৫০-৬০ লাখ টাকা মূল্যের জমি ক্রয় করেছেন। কালুখালী উপজেলার হেলেনচা এলাকায় আরেক বোনের বাড়ির পাশে ১৫-২০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। এই জমির মূল্য প্রায় ৫০-৬০ লাখ টাকা। দুদকে পেশ করা অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকটি ব্যাংকে নামে-বেনামে জমা রেখেছেন বিপুল অঙ্কের টাকা। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের কল্যাণ শাখায় জালিয়াতি করে অর্জন করেছেন ওই সব টাকা। অবৈধ উপায়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতে তিনি নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন। এর মধ্যে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আনসার সদস্য থেকে শুরু করে কর্মকর্তা পর্যন্ত অনেকের অসুস্থতার কাগজপত্র তৈরি করে দু-তিন লাখ টাকা বরাদ্দ করিয়ে নেন। পরে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা যার নামে অসুস্থতার কাগজপত্র তৈরি করেন তাকে দেন, বাকি অর্ধেক টাকা তিনি নিজের পকেটে তোলেন। অভিযোগে বলা হয়, কেরানি জিয়াউর রহমানের কাছে বিভিন্ন ডাক্তারের জাল সিল ও প্যাড রয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসুস্থ উল্লেখ করে টাকা বরাদ্দ করানোর কাজ করেন। এভাবে আনসার বাহিনীর কল্যাণ ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অনেক কর্মকর্তা অফিসের গাড়িতে চলেন, নিজের গাড়ি কেনার টাকা নেই। এ ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান একজন সাধারণ কর্মচারী হয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাফেরা করেন। অফিসের বাইরে গাড়ি রেখে হাঁটতে হাঁটতে অফিসের ভেতর প্রবেশ করেন, আবার অফিস থেকে বের হয়ে একটু হেঁটে নিজের গাড়িতে ওঠেন। তার দুটি মেয়ে রাজধানীতে স্কুলে ব্যক্তিগত গাড়িতেই আসা-যাওয়া করে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
