ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১১ মে ২০২৬ ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ
আধিপত্য প্রমাণের চেষ্টায় প্রাণহানি
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 14 November, 2021, 12:22 PM

আধিপত্য প্রমাণের চেষ্টায় প্রাণহানি

আধিপত্য প্রমাণের চেষ্টায় প্রাণহানি

স্থানীয় সরকারের তৃণমূলের প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিএনপিবিহীন নির্বাচনী মাঠে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত এবং মনোনয়নবঞ্চিত (স্বতন্ত্র) চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নিজেদের অধিপত্য ধরে রাখায় তৎপর। সেইসঙ্গে দল ও দলীয় নেতাদের কাছে এলাকায় নিজের প্রভাব কতটুকু তা প্রমাণের চেষ্টার কমতি নেই কারো।

মূলত এসব কারণেই উৎসবমুখর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এতো নৃশংস হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাব এবং ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারাটাও এজন্য অনেকাংশে দায়ী। সেইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে না নেয়ায় সহিংসতা বেড়েই চলেছে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, এতো সহিংসতা হওয়ার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইউপি নির্বাচনে সব সময় একটু ঝগড়াঝাঁটি হয়েই থাকে। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে তারা এই নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন না। এতো লোকের মৃত্যুর পর এটা কিভাবে ঝগড়াঝাঁটি হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দেখে মনে হচ্ছে, মারামারি করে যে জিতে আসতে পারবা সে আমার। আগামী নির্বাচনে তোমাকে আমার কাজে লাগবে।

কেন এই সহিংসতা জানতে চাইলে ড. আহমেদ বলেন, এটা তো নির্বাচনী সহিংসতা না, এটা ক্ষমতা দখলের সহিংসতা। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্যই তাদের নির্বাচিত হওয়া দরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে এ পর্যন্ত দুই ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নির্বাচনী সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী সহিংসতায় মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের।

এর মধ্যে নরসিংদীতে ৩ জন, কুমিল্লায় ২ জন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে একজন করে মারা গেছেন। এর আগে ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের ভোটে মারা যান ৬ জন। এরপর থেকে ভোটের মাঠের প্রচারণায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে আরো ২৪ জনের। সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্যমতে, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে সহিংসতায় কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বাহুরখলা ইউনিয়নের হিরারচর গ্রামের মৃত মুদাফর আলীর ছেলে সানাউল্লাহ ডালি (৬০) ও মানিকচর ইউনিয়নের বল্লবেরকান্দি গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে শাওন আহমেদ (২৫) মারা গেছেন। মানিকচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহুরখলা ইউনিয়নের খিলারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষে তাদের মৃত্যু হয়।

নরসিংদীর রায়পুরায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে তিনজন মারা গেছেন। নিহতরা হলেন, বাঁশগাড়ী এলাকার দুলাল মিয়া (৪৫), সালাউদ্দিন (৪১) ও জাহাঙ্গীর মিয়া (২৬)। বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়েছেন আশরাফুল হক সরকার। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন নির্বাচন করেন মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে। নির্বাচন ঘিরে এই দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এই তিনজনের মৃত্যু হয়।

এছাড়া কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকূল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। সাধারণ সদস্য প্রার্থী আনোয়ারা বেগম ও আবু বক্কর সিদ্দীকের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে আক্তারুজ্জামান পুতু (৩২) মারা যান। দুই প্রার্থীই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতেও দুই ইউপি মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মোহাম্মদ শফি (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। দুই সদস্য প্রার্থীই আওয়ামী লীগ সমর্থক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এসব মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশের কাজ পুলিশ করছে। আমাদের বিশাল এলাকা নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে। ইউপি নির্বাচন গোষ্ঠী-গোষ্ঠীর নির্বাচন, আধিপত্যের নির্বাচন, এখানে সব সময়ই একটু ঝগড়াঝাঁটি হয়েই থাকে। যেটা হয়েছে বেশ কয়েকটি জায়গায় হতাহতের ঘটনা আমরা দেখছি। পুলিশ যথার্থভাবে চিহ্নিত করেছে, দোষীদের ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে ফেলেছে। যারা এই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যের পর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।

অভ্যন্তরীণ বিবাদে কেন এই প্রাণক্ষয়? সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এ বিষয়ে বলেন, এখানে নির্বাচিত হতে পারলে তো নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা, লুটপাটের ভাগিদার হওয়া যাবে। ফলে তারা সর্বশক্তি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এখানে আধিপত্যের লড়াইয়ে যে টিকে থাকতে পারবে সেই সুবিধাগুলো পাবে। ফলে এটাকে ভোটের সহিংসতা না বলে আধিপত্যের লড়াইয়ের সহিংসতা বলাই ভালো। আর নির্বাচন কমিশন তো নিজেদের অবস্থান আগেই নষ্ট করে ফেলেছে। এই ধরনের সহিংসতা বন্ধে তাদের কোনো ধরনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তাদের কেউ মাঠেও নেই।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status