নরসিংদীতে পুলিশের নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
হাতকড়া পর অবস্থায় সকাল ৯টার দিকে সুজন সাহার মরদেহ হাজিপুর এলাকার হাড়ি দোয়া নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে শহরের ব্রাহ্মণদি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সুজনের বাবা অজিত সাহার দাবি, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার মৃত্যু হলে হাতকড়া পরা অবস্থায় মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়।
তবে পুলিশ বলছে, সুজনকে গ্রেপ্তারের পর থানায় নেয়ার সময় তিনি পুলিশের ওপর হামলা করে এবং পালিয়ে যেতে নদীতে ঝাঁপ দেন।
সুজন শেকেরচরে একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন।
নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, সুজনের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। এ সব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, থানায় আনার সময় সুজন পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল ও কনসস্টেবল মাইনুলকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে তিনি পালিয়ে যাওয়ার জন্য নদীতে ঝাঁপ দেন।
আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে ১ নভেম্বর পুলিশের বিরুদ্ধে ৫৫ বছর বয়সী তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে। হারাগাছের নতুন বাজার বছি বানিয়ার তেপতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাজুল ইসলাম হারাগাছ নয়াটারী দালালহাট গ্রামের বাসিন্দা।
মঙ্গলবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
তাজুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হারাগাছ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, নয়া বাজার বছি বানিয়ার তেপতি থেকে তাজুল ইসলামকে মাদকসহ আটক করে পুলিশ। এ সময় তিনি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে মারধর করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তাজুল ইসলাম। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানা ঘেরাও করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা ইটপাটকেল ছুড়ে মারার পাশাপাশি পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে।