ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ ১ আষাঢ় ১৪৩৩
১৬ বছরে একদিন পাঠদান না করেও তিনি শিক্ষক
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 30 September, 2021, 8:43 PM

১৬ বছরে একদিন পাঠদান না করেও তিনি শিক্ষক

১৬ বছরে একদিন পাঠদান না করেও তিনি শিক্ষক

নিয়মিত পাঠদানের শর্তে নিয়োগ পেলেও একজন শিক্ষক ২০০৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্য ন্ত একদিনও শ্রেনি কক্ষে পা ফেলেননি। অথচ তিনি এখনো শিক্ষক হিসেবে বহাল আছেন। বিস্ময়কর এমন ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী মহিলা ডিগ্রী কলেজে।

জানা গেছে, নামমাত্র নিয়োগের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগের দাবি করা সালমা বেগম ঢাকায় পরিবারসহ বসবাস করেছেন। তার সন্তানরাও ঢাকায় পড়াশোনা করছে। সালমা খাতুনের স্বামী হুমায়ুন কবির গাজীপুরের গাছা এলাকা অবস্থিত টিআরজেড (TRZ Garments Industry Limited) এর ফাইনান্সের জিএম হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে প্রায় ১৬ বছর ধরে ঢাকায় অবস্থান করলেও ২০১৯ সালে কলেজটি ডিগ্রী স্তরে এমপিওভুক্ত হওয়ার পর হঠাৎ করে আলোচনায় আসে সালমা খাতুনের নাম। তিনি এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা শুরু করেন। তবে খবরটি শুনে আশ্চর্য হন তার সহকর্মীরা। কারণ কোনোদিন যাকে তারা প্রতিষ্ঠানে দেখেননি তিনি কিভাবে শিক্ষক পদে বহাল আছেন সেটি জেনে।

তথ্য বলছে, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সালমা বেগম ২০০৫ সালে নিয়োগ পাওয়ার দাবি করলেও মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ইএমআইএস সেল, বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তালিকা কোথাও তার নাম নেই।

অন্যদিকে এই পদে নিয়মিত পাঠদান, জাতীয় ও উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষকসহ সব শিক্ষা কার্য্ক্রমে অংশ নিয়েছেন মো. ওয়ালি উদ্দিন। কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে যুক্ত থাকলেও কলেজের অধ্যক্ষ তাকে কৌশলে সালমা খাতুনের পরে নিয়োগ দেখিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অবশ্য মো. ওয়ালি উদ্দিনের শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত পাঠদানসহ কলেজের কার্যক্রমে শুরু থেকে যুক্ত থাকার বিষয়টি একাধিক শিক্ষক, গভর্নি বডির সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, শুধু এই ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগেই নয় কলেজটির একাধিক বিষয়ে শিক্ষক এমপিও নিয়ে চলছে যাচ্ছে তাই অবস্থা। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে চাকরি করেছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং শাহীন স্কুল এন্ড কলেজে। অথচ তিনিও ডিগ্রীর শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। সেক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদানসহ সকল শিক্ষা কার্যদক্রমে যুক্ত শিক্ষকরা এমপিও বঞ্চিত হচ্ছেন। যেমন- নিয়োগ পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে কলেজটিতে দর্শন বিভাগে নিয়মিত পাঠদান করে আসছিলেন শিউলি আক্তার। কিন্তু এই বিভাগে ডিগ্রী স্তরে এমপিও পেয়েছেন কোনোদিন কলেজে না আসা শহিদুল ইসলাম।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এসবের পেছনে পুরো কলকাঠি নাড়ছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুর রহমান। কলেজটির ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক আব্দুস সালাম মোল্লা মারা যাওয়ার পরও কৌশলে তার ইনডেক্স (নম্বর ৩০০৯০১৩) ব্যবহার করে সাত বছর বেতন ভাতা উত্তোলন করেন অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক বীণা পাণি অধিকারী। অবৈধভাবে সরকারের ৬লাখ ৮৮হাজার ৮৭৭টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সাল থেকে অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত রয়েছে।

এদিকে নিয়োগের পর থেকে কলেজে পাঠদানসহ কোনো কার্যলক্রমে সালমা বেগমের অংশ না নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে কথা বললে তিনি প্রথমে কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। পরে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকায় পরিবার নিয়ে ছিলাম কারণ আমার স্বামী অসুস্থ। প্রায় ১৭ বছর ধরে নিয়োগ পেলেও কোনো বিল ভাতা না পাওয়ায় আমাকে জীবন বাঁচানোর জন্য থাকতে হয়েছে। তার মানে এই না যে কোনোদিন কলেজে যাইনি। প্রিন্সিপাল স্যার যখন বলেছে তখন কলেজে গিয়েছি।’

সালমা বেগমের সঙ্গে কথা বলার সময় পাশে থাকা তার ভাই ফোন নিয়ে প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রিন্সিপাল যখন আসতে বলছে তখন আমার বোন ঢাকা থেকে এসে ক্লাস করেছে। আবার ঢাকায় চলে গেছে।’

১৬ বছরে এভাবে কতবার আসা যাওয়া করেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা তো হিসেব রাখা হয়নি। তবে আসছে মাঝেমধ্যে। এসব নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বললে বেশি ভালো হবে।’

জানা গেছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি নানা অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করতে সুবিদখালী মহিলা কলেজে যায় মাউশির বরিশালের আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম। তারাও সালমা বেগমসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে কোনোদিন পাঠদানসহ কলেজ আঙ্গিনায় আসেননি বলে জানতে পারেন। তদন্তকালে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কলেজটির অধ্যক্ষকে প্রতিনিধি দলের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে। মাউশিতে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনেও বিষয়টির উল্লেখ আছে বলে জানা গেছে।

কলেজ সূত্র বলছে, কোনোদিন শ্রেণিকক্ষে না পাওয়া গেলেও তদন্তের দিনে (৬ ফ্রেব্রুয়ারি) কলেজে উপস্থিত ছিলেন সালমা বেগম। সেটাই তার কলেজে প্রথম যাওয়া। তবে তদন্ত শেষে আবার তিনি পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় ফিরে আসেন। এতদিন সেখানেই অবস্থান করছিলেন। কিন্তু করোনা কমে আসায় গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হলে সালমা বেগমকে ক্লাস নেয়ার সুযোগ করে দেন কলেজটির অধ্যক্ষ। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অন্য শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজটির একাধিক শিক্ষক বলেন, ‘সালমা খাতুনসহ আরো কয়েকজন শিক্ষকের কথা আমরা ডিগ্রির এমপিওভুক্ত হওয়ার পর জেনেছি। এদের কোনোদিন কলেজে আমরা দেখেনি। অথচ অধ্যক্ষ এদের এমপিও করানোর চেষ্টা করতেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার সময় থেকে বেতনভাতা ছাড়া একই বিষয়ে পাঠদানসহ কলেজের সব কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এমন শিক্ষকরা এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এটি খুবই দুঃখজনক।’

নিয়মিতদের বাদ দিয়ে অনিয়মিত শিক্ষককে এমপিও করার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ শোনা গেল কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি গাজী আতাহার উদ্দিন আহমেদের কণ্ঠেও। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কলেজটা শুধু এই অনিয়মের জন্য পিছিয়ে আছে। কেউ দিনের পর দিন কলেজে ক্লাস করেছেন তাকে বাদ দিয়ে আরেকজনকে এমপিও করা হচ্ছে। আবার এক বিষয়ে শিক্ষক পাবে দুইজন সেখানে তিন-চারজন নিয়োগ দিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সময়। অধ্যক্ষকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তবে আমি চাই নিয়ম অনুযায়ী যারা প্রাপ্য তারা যেন এমপিওভুক্ত হয়।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status