ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে চাঁদা দাবি
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 7 September, 2021, 8:30 PM

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে চাঁদা দাবি

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে চাঁদা দাবি

যশোরের অভয়নগরে স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই কথিত মানবাধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজন স্থানীয় সাংবাদিক বলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাহাবুবুর রহমান (৪০) ও অনিক বাঘা (২৬)। তাঁদের বিরুদ্ধে ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে আজ সকালে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে অভয়নগর থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার মাহাবুবুর রহমান অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া গ্রামের বাশার মোড়লের ছেলে ও অনিক বাঘা একই উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের নাসির বাঘার ছেলে। দুজনই ‘মানবাধিকার’ নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে আসছেন এবং এই সূত্রেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা। এর মধ্যে মাহাবুবুর দুটি পত্রিকা ও একটি অনলাইন পোর্টালের অভয়নগর প্রতিনিধি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।


মামলার এজাহারে বলা হয়, ভুক্তভোগী কিশোরী অভয়নগরের নওয়াপাড়ার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ছোটবেলা থেকে তার সাংবাদিকতা করার শখ। এই সূত্রে আসামি মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখান থেকে মাহাবুবুরের সহযোগী অনিক বাঘার সঙ্গেও তার পরিচয় হয়। মাহাবুবুর ওই ছাত্রীকে সাংবাদিকতায় সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং সেই সূত্রে ওই ছাত্রীর সঙ্গে ফেসবুকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে থাকেন। হঠাৎ করে একদিন তিনি মেসেঞ্জারে মেয়েটিকে ‘সাংবাদিকতার ফরম’ পূরণ করার জন্য দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জন্মনিবন্ধনের সনদ নিয়ে তাঁর বাড়িতে যেতে বলেন। তবে মেয়েটি তাঁর বাড়িতে যেতে রাজি না হওয়ায় তিনি তাকে চলিশিয়া গ্রামের তাঁর মাছের ঘেরে দেখা করতে বলেন। গত ২১ আগস্ট দুপুরে মেয়েটি মাহাবুবুরের ঘেরে গেলে তিনি ওই ছাত্রীকে জোর করে এ সময় ধর্ষণ করেন। এ সময় ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও তিনি মুঠোফোনে ধারণ করেন। সেই সঙ্গে ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাহাবুবুর রহমান (৪০) ও অনিক বাঘা (২৬)। বিকেলের দিকে আদালতে তাঁরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


পরে ভিডিও ডিলিট করার কথা বলে মাহাবুবুর মেয়েটিকে উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারের কাঁচাবাজারের পেছনের একটি স মিলে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে মাহাবুবুর রহমান ও অনিক বাঘা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। মেয়েটি চাঁদার টাকা দিতে অপারগ হওয়ায় মুঠোফোনে ধারণ করা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও মেয়েটির বাবা ও ছোট বোনের মেসেঞ্জারে পাঠান মাহাবুবুর। টাকা না দিলে এসব আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

পরে ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ মাহাবুবুর রহমান ও অনিক বাঘাকে গতকাল সোমবার বিকেলে আটক করে থানায় নেয়। আজ সকালে মামলা হলে সেই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শামীম হাসান বলেন, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত মাহাবুবুর রহমান ও অনিক বাঘাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিকেলের দিকে আদালতে তাঁরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওসি আরও জানান, যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ওই স্কুলছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে। এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status