ট্রেন্ড আসে ট্রেন্ড যায়। যা তাঁকে মানায়, এর মধ্য থেকে তা-ই তিনি বেছে নেন। কখনো কখনো একই কাটের পোশাক পরেন বছরের পর বছর। অন্যকে কীভাবে সুন্দর দেখাবে—এই ভাবনা থেকেই সৌন্দর্যচর্চাকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন। ভালোবাসেন রান্না করতে। বন্ধুদের নিয়ে ঘুড়তে যাওয়ার প্রতি আছে বিশেষ দুর্বলতা। আছে স্বামী, সংসার আর আছে দুটো রাজপুত্র। যার কথা বলছি, তিনি আর্টিস্ট বিপুলের উদ্যোক্তা সুফিয়া আকতার বিপুল।
মানুষ শুধুমাত্র চাকরির পিছনে হন্যে হয়ে ঘোরে। আর তাই লেখাপড়া করতো শুধুমাত্র একটা ভাল চাকরির আশায়। অধিক পুঁজি এবং অনিশ্চিত আয়ের জন্য পড়ালেখা শেষ হওয়ার পরই মানুষের একমাত্র কাজ ছিল চাকরি করা, আর তা যদি হয় সরকারি চাকরি তাহলে সোনায় সোহাগা। কিন্তু এই ধারনার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে, যখন ব্যবসার মাধ্যমে মানুষ তার ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে সরকারের মোট আয়ের একটা বড় অংশ আসে ব্যবসা থেকে। ছেলে-মেয়ে উভয়কেই সমান হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা খুব কমই ব্যবসাকে পেশা হিসবে গ্রহণ করেছে। তারপরও বর্তমানে মেয়েরাও ঘরে বসে না থেকে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। নারী পুরুষ উভয়ই অবদান রাখছেন দেশের উন্নয়নে, নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সাথে সাথে অন্যের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করছে।
অনেক ধরনের ব্যবসার মধ্যে বর্তমানে পার্লার ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে মেয়েরা সৌন্দর্য বিষয়ক ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন বিভিন্ন পরব পর্বন বিয়ে ও আচার অনুষ্ঠানের দিনটিতে নিজেদেরকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলার ব্যাপারেও মেয়েরা যথেষ্ট সচেতন। বিয়ের দিনের তো কথাই আলাদা এদিনটিতে সব মেয়েরাই চায় যে জীবনের সব থেকে বেশি সুন্দর সাজের দিন হোক সেটা, তাকে যেন দেখতে অপরূপ সুন্দরী লাগে।
সুফিয়া আকতার বিপুল লেখাপড়া শেষ করে চাকুরীতে না গিয়ে চেয়েছেন নিজে কিছু করতে। চাকরির প্রতি তার ছিল অনীহা। নিজে কিছু করার তাগিদ অনুভব করতে থাকেন, সব সময় তার মাথায় একটাই চিন্তা ঘুরপাক খায়, সবাই চাকুরী করলে তাহলে চাকুরী দিবে কে? আর এই চিন্তা থেকেই সুফিয়া আকতার বিপুলের উদ্যোক্তা হওয়ার ভূত ঘাড়ে চাপে। ছোটবেলা থেকেই সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি সুফিয়া আকতার বিপুলের ছিল দারুণ আগ্রহ। নিজের ছোটবেলার স্বপ্ন পুরনের জন্য শুরু করেন নিরলস প্রচেষ্টা। ছোট বেলা থেকেই বউ সাজানোর ব্যাপারে ছিল ভীষণ আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকেই মূলত মেকাপ আর্টিস্ট হওয়া। বাস্ মেকআপের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। হয়ে যান মেকআপ আর্টিস্ট বিপুলের, সৌন্দর্য মেকওভার স্টুডিও এর প্রতিষ্ঠাতা।
এর আগে সুফিয়া আকতার বিপুল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের একজন ক্যাডেট। যার স্বপ্নের আর একটি ছিল আকাশে উড়বেন, ছিলেন একজন মিডিয়া কর্মী যিনি একসময়ে বিবি রাসেল এর মডেল হিসাবে মঞ্চে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। ২০০৮ থেকে শুরু করলেন সৌন্দর্য বুটিক এবং সৌন্দর্য কালচারাল একাডেমি নামে দুটি প্রতিষঠান এবং সফলতা তার কাছে খুব দ্রুত ধরা দেয়। নতুন করে সব প্রতিকুলতা পেরিয়ে, একজন ইনটারন্যাশনাল সার্টিফাইড মেকআপ আর্টিস্ট হিসাবে প্রশিক্ষণ নেন UK বেজড মেকআপ আর্টিস্ট সেলিনা মুনির এর কাছ থেকে। ২০২০ সালে মিরপুর ডিওএইচএস এ তিনি নতুন করে শুরু করেন সৌন্দর্য মেকওভার নামে একটি স্টুডিও। তার এসিস্ট্যান্ট হিসাবে আছেন মিডিয়ার সবার পরিচিত লোপস সরকার।
সুফিয়া আকতার বিপুল আপুর এই সৌন্দর্য মেকওভার স্টুডিও এর নতুন পথযাত্রায় সবার সহযোগিতা একান্ত কাম্য এবং সকলের আসার আমন্ত্রণ জানানো হলো।