|
পাহাড়ি গুহায় লাদেনের সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতার গল্প
নতুন সময় ডেস্ক
|
|
পাহাড়ি গুহায় লাদেনের সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতার গল্প "তারা শহীদ হয়েছেন। এখন তারা বেহেশতে। আমাদের জীবনেও যদি এরকম কিছু ঘটে আমরাও খুব খুশি হবো। আমরাও তাদের পথ ধরে বেহেশতে যেতে পারবো। কিন্তু আমি তো তখনও তরুণ। আমার সন্তানদের ফেলে আমি এখনই স্বর্গে যেতে চাই না। যেতে চাই, কিন্তু এখন না, আরো পরে যেতে চাই। আমি তো তাদেরকে আমার মনের কথা বলতে পারিনি। তবে সত্যিই আমি বেশ ভয় পেয়ে যাই," বলেন মি. আতওয়ান। লম্বা দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি আবদেল বারি আতওয়ানকে নিয়ে তারা যখন গুহায় গিয়ে পৌঁছাল তখন মাঝ রাত। সেখানে পৌঁছে খুব লম্বা এক ব্যক্তির দেখা পেলেন তিনি। তার মুখে দাড়ি। তিনি ওসামা বিন লাদেন। "আরব সংস্কৃতি অনুসারে তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন। বুকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন গুহার ভেতরে যেতে। গুহাটি বেশ গরম ছিল। দুটো ঘর। একটা বসার। সেখানে ছিল প্রচুর ইসলামি গ্রন্থ, কোরানোর ব্যাখ্যা দেওয়া বই। লোকজন বসেছিল মেঝের ওপর। ওসামা বিন লাদেনও সেখানে বসলেন। একটা বন্দুক ছিল তার কোলের ওপর। তারা আমাকে খুব মিষ্টি চা খেতে দিল।" "হঠাৎ করেই গুহার বাইরে প্রচুর গুলির শব্দ হতে লাগলো- রকেট পড়ার শব্দ, বিমান বিধ্বংসী বন্দুক দিয়ে গুলি করার শব্দ। মনে হচ্ছিল যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সবাই তার কালাশনিকভটি ধরল এবং গুহার বাইরে চলে গেল। ওসামা বিন লাদেনও তাদের সঙ্গে বাইরে চলে গেলেন। আমি তখন গুহার ভেতরে একা।" প্রায় ২০ মিনিট পর তারা সবাই গুহায় ফিরে এল। ভেতরে প্রচণ্ড নিরবতা। আবদেল বারি আতওয়ান তখন ভয় পেয়ে গেছেন। ওসামা বিন লাদেন তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন। বললেন, "আমাদের এটা করতে হয়েছে, কারণ কেউ যদি আপনাকে অনুসরণ করে থাকে। তিনি বললেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের সময়, যখন আপনি তার অংশ ছিলেন, তখনকার দিনগুলি যেরকম ছিল সেটা আমরা আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছি।" আবদেল বারি আতওয়ান বললেন: "আমি তাকে বললাম, আমি তো কখনো পিএলওর হয়ে যুদ্ধ করিনি। অন্য কোন ফিলিস্তিনি সংগঠনের সাথেও আমি কখনো জড়িত ছিলাম না। আমি একজন ফাইভ স্টার সাংবাদিক- হিলটন, শেরাটন হোটেলে থেকেছি। আমরা মনে হয় আপনারা একজন ভুল মানুষকে এখানে নিয়ে এসেছেন। তিনি হাসলেন। তারপর আমরা কিছুক্ষণ গল্প করলাম।" এর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর আবার একই ঘটনা ঘটল। তখন সবাই গুহা ছেড়ে চলে যেতে চাইল। সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান তাদেরকে বললেন কেউ একজন তার সঙ্গে থাকার জন্য। ওসামা বিন লাদেন তখন তার সঙ্গে গুহার ভেতরে থেকে গেলেন। "আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু আমার প্রতি তিনি বেশ দয়া প্রদর্শন করেছেন। তিনি বেশ আতিথ্য দেখিয়েছেন। আমি যে একটি সশস্ত্র সংগঠনের খুব নিষ্ঠুর এক নেতার সামনে দাঁড়িয়ে আছি সেটা তিনি আমাকে একটুও বুঝতে দেননি। তিনি খুব মৃদুভাষী ছিলেন। বেশ বিনয়ী। একেবারে সাধারণ মানুষের মতো।" রাতের আহারে যা ছিল এর পর তাদেরকে রাতের খাবার পরিবেশন করা হলো। কিন্তু একজন সৌদি ধনকুবেরের সঙ্গে তিনি কী ধরনের খাবার খেতে পারেন সে বিষয়ে তার কোন ধারণা ছিল না। "আমি খুব হতাশ হয়ে গেলাম। খাবার হিসেবে যা দেওয়া হলো তার মধ্যে ছিল পচে যাওয়া চিজ- বেশ লবণাক্ত। পচা গন্ধ আসছিল। সঙ্গে ডিম ভাজা। আলু ভাজা। আলুগুলো ছিল নরম। তেল ছিল না। ভেবে দেখুন- লন্ডন থেকে যাওয়া একজন সাংবাদিক, যে তার ব্লাড প্রেশার এবং কোলেস্টরেল নিয়ে চিন্তিত তাকে কীনা এসব খাবার খেতে দেওয়া হয়েছে!" সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু হয় রাত দু'টায়। তিনি সাক্ষাৎকারটি রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা নিষেধ করল। বলল, রেকর্ড করা যাবে না।, লেখা যাবে। "আমার জন্য এটা খুব বোরিং ছিল- যেন একটা শিশুকে ক্লাসে কেউ ডিকটেশন দিচ্ছে আর আমি লিখে যাচ্ছি। তিনি যে উত্তর দিচ্ছিলেন সেটাই লিখে রাখছিলাম। আমি তাদের কথা শুনছিলাম। আমি কোন সমস্যা তৈরি করতে চাইনি। কারণ তারা তো আমার সঙ্গে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারতো।" কেমন ছিল সেই গুহা সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষ হলে আবদেল বারি আতওয়ান বিছানায় চলে গেলেন। কিন্তু ঘুমাতে পারলেন না। "তারা আমাকে একজন অতিথির সম্মান দিচ্ছিল। সেখানে ওসামা বিন লাদেনও ঘুমাচ্ছিলেন। দুটো বিছানা ছিল। তিনি একটাতে ঘুমাচ্ছিলেন। আমি অন্যটাতে। "এটা ঠিক বিছানা ছিল না। ছিল গাছের কিছু ডালপালা দিয়ে বানানো একটা বিছানার মতো। একটা ম্যাট্রেসও ছিল। মনে হচ্ছিল হাজার হাজার বছর ধরে ওটা ব্যবহার করা হচ্ছে। যখনই আমি বিছানায় পাশ ফিরছিলাম টের পাচ্ছিলাম যে আমার পিঠে কিছু একটা লাগছে।" তিনি বলেন, "কাঠির মতো কিছু একটা। হাত দিয়ে টেনে দেখলাম সেটা একটা বন্দুক। তার পর দেখলাম একটা বাকশো। সেটা ভর্তি ছিল হ্যান্ড গ্রেনেড। আমি অস্ত্রশস্ত্রের ওপর শুয়েছিলাম। খুব ভয় পেয়ে গেলাম। যদি ঘুমিয়েও থাকি, আমি হয়তো আধা ঘণ্টা বা ৪০ মিনিটের মতো ঘুমিয়েছিলাম।" আবদেল বারি আতওয়ান খুব সকালেই বিছানা ছেড়ে উঠে গেলেন। ফজরের নামাজে ইমামতি করলেন ওসামা বিন লাদেন। সাংবাদিক আবদেল বারি দাঁড়িয়েছিলেন পেছনের একটি কাতারে। এক সময় তার সেখান থেকে চলে আসার সময় হলো। তিনি লন্ডনে ফিরে এলেন এবং সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হলো। এর পাঁচ বছর পর ২০০১ সালের মে ও অক্টোবর মাসে তাকে আবারও ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু দু'বারই তিনি সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
দেশ বদলায়, মানুষ বদলায়,তবুও বদলায় না ৮০-তে পা রাখা ছাহেরা বেগমের দুঃখভাগ্য
শফিকুল ইসলাম বেবুকে সদস্য সচিব করে কুড়িগ্রাম জেলা ক্রিড়া সংস্থার ৭ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠিত
শেরপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহে ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে র্যালি ও আলোচনা সভা
ফুলবাড়ীতে উন্নত ভুট্টা বীজে বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি
