জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তিন দিন ধরে অনশন করছেন অনার্স পড়ুয়া এক ছাত্রী। তবে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে প্রেমিক ইলিয়াছ হক অন্তর।
ঘটনাটি ঘটেছে বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের খাসের গাঁও গ্রামে। অভিযোগ উঠেছে মেয়েটিকে শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছে প্রেমিক অন্তরের পরিবারের সদস্যরা।
অনশনকারী ছাত্রীর পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের গলাকাটি গ্রামের বাসিন্দা অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর (২২) (ইসমাইল হোসেনের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার) সঙ্গে প্রতিবেশী খাসের গাঁও গ্রামের শফিউল হকের ছেলে সেনা সদস্য ইলিয়াস হক অন্তরের নয় মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। প্রেমের এক পর্যায়ে তারা দেখাও করতেন। বেশ কয়েকবার ওই ছাত্রীর বাড়িতেও যান অন্তর। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অন্তর ওই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
গত শুক্রবার সকালে অন্তর ফোন করে ওই কলেজছাত্রীকে তার বাড়িতে দেখা করতে বলেন। ফোন পেয়ে ওই ছাত্রী অন্তরের বাড়িতে যান। কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে অন্তরকে বিয়ের জন্য চাপ দেন তিনি। অন্তর বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরেই ওই ছাত্রী বিয়ের দাবিতে সেখানে অনশন শুরু করেন। বিষয়টি মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান অন্তর।
অনশনকারী কলেজ ছাত্রীর ভাই দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমার বোনকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। তার নিরাপত্তা নিয়েও আমরা এখন শঙ্কিত। ’
অনশনকারী কলেজ ছাত্রী বলেন, ‘আমার সরলতার সুযোগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অন্তর আমার সব শেষ করে দিয়েছে। বাড়িতে ডেকে এনে সে এখন পালিয়েছে। তার বাড়ির লোকজন আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। জোড়পূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পায়তারা করছে। হয় বিয়ে না হয় আত্মহত্যা ছাড়া এখন আমার আর কোনো পথ নেই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি জানার পরই উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। মেয়েটি এখনো অনশন চালিয়ে যাচ্ছে।
বগারচর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম লিচু বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরই আমি ওই বাড়িতে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে কোনো সুরাহা না হওয়ায় মেয়েটির নিরাপত্তার স্বার্থে তিনজন চৌকিদারকে সেখানে পাহারায় রেখেছি। এছাড়া ইউএনও ও ওসিকে বিষয়টি অবগত করেছি। ’
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর ওই ছাত্রীকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে বলা হয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্রী ও তার পরিবার এখনো অভিযোগ দাখিল করেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’