বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বেল্লাল রাঢ়ী (১৮) নামের এক যুবককে গাছের সঙ্গে শেকলে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় মাতব্বরদের উপস্থিতিতে সালিশ বিচারে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে তাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘুরানো হয়।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের মেয়ারচর গ্রামে শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। বেল্লাল মেয়ারচর গ্রামের আলম রাঢ়ীর ছেলে। তার পরিবারের দাবি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী জসিম আকনের পরিবার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বেল্লালকে আটক করে শারীরিক নির্যাতন ও পাতানো শালিস বিচার করেছে।
তবে স্থানীয়রা জানান, জসিম আকনের মেয়ের সঙ্গে বেল্লালের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বেল্লাল ওই মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে গেলে তাকে আটক করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ আনে জসিম আকনের পরিবার। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জসিম আকনের বাড়ির বাগান থেকে বেল্লাল রাঢ়ীকে আটক করে মেয়ের দুই ভাই। বাড়ির ওঠানে একটি গাছের সঙ্গে শেকল দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জসিম আকনের বাড়িতে সালিশ বিচারে বসেন স্থানীয় মাতব্বররা। বেল্লালকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানোর রায় দেওয়া হয়। এরপর বেল্লালকে জুতার মালা পড়িয়ে জসিম আকনের বাড়ির এলাকায় ঘুরানো হয়।
বেল্লালের বড় ভাই ছালাম রাঢ়ী জানান, জসিম আকনের পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব বিরোধ ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে জসিম আকনের বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বেল্লালকে ধরে নিয়ে যায় স্বপন, রিপন ও তাদের চাচাতো ভাই নুরুজ্জামান। এরপর বেল্লালকে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। শুক্রবার সকালে সালিশ বিচারে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হয়। শালিস বৈঠকেই শালিসদারদের হাতে ৪০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ছালাম।
তিনি অভিযোগ করেন, জসিম আকনের টাকা আছে। এলাকায় তারা প্রভাবশালী। শালিসদাররা সবাই জসিম আকনের পক্ষে কথা বলেছেন। আমার কথা কেউ শোনেননি। জসিম আকন যে শাস্তির কথা বলেছেন, সালিশদাররা সেই শাস্তি আমার ভাইকে দিয়েছেন।
সালিশ বিচারে অংশ নেয়া মামুন চৌকিদার বলেন, মেয়ের অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সালিশ বসিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। মেয়ের বাড়িতে আটক থাকা বেল্লালকে মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন সালিশদাররা। এখানে কোনো জরিমানার টাকা আদায় করা হয়নি।
শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বেল্লালের বড় ভাই ছালাম তার কাছে এসে ঘটনার কথা বলেছেন। তাকে পুলিশের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাটি শোনার পর তিনি বেল্লাল রাঢ়ীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বেল্লাল তাকে জানিয়েছেন, জসিম আকনের মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে জসিম আকনের দুই ছেলে আটকে নির্যাতন করে ও পরদিন বিচার করে।বেল্লাল রাঢ়ী মামলা দায়ের করতে রাজি না হওয়ায় কোন আইনি পদক্ষেপ নেয়া যায়নি।