|
পাঁচশ বছর ধরে মরক্কোর দুই শহর স্পেনের দখলে
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() পাঁচশ বছর ধরে মরক্কোর দুই শহর স্পেনের দখলে এই জবরদখল চলছে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে। স্বাধীনতার পর শহর দুটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জোর দাবি জানিয়েছে আসছে মরক্কো। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের সেই দাবির প্রতি সম্মান জানায়নি স্পেন। মরক্কোর অধিবাসীরা অধিকৃত শহর দুটিকে এখনো যথাক্রমে ‘সেবতাহ’ ও ‘মেলিলাহ’ নামে ডাকে। তবে ইউরোপ ও অবশিষ্ট বিশ্বে এর পরিচিতি ‘সেউটা’ ও ‘মেলিল্লা’ বলে। আফ্রিকার মূল ভূখণ্ড থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে বেশ আগেই বিদায় নিয়েছে ইউরোপ। কিন্তু এই শহর দুটিতে নিজেদের দখল জিইয়ে রেখেছে। তবে নিজেদের এলাকায় ইউরোপের এই রাজনৈতিক বাস্তবতা কখনোই স্বীকার করেনি মরক্কো। সেউটা ও মেলিল্লা ছাড়াও ভূমধ্যসাগরের জিব্রাল্টার প্রণালির ভেতর আরও ছোটে ছোট চারটি ভূখণ্ডের মালিকানা হস্তান্তরের জন্য স্পেনের কাছে দাবি করে আসছে দেশটি। ভূখণ্ড নিয়ে ঐতিহাসিক এই বিবাদ নতুন করে আলোচনায় আসে সম্প্রতি। গত মাসে মরক্কো থেকে একদিনে আট হাজার মানুষ সীমান্ত ডিঙ্গিয়ে সেউটা ও মেলিল্লায় ঢুকে পড়ে। এই অভিবাসীদের সিংহভাগই ছিল মরক্কোর নাগরিক। স্পেন তাদেরকে ‘অবৈধ’ হিসাবে আখ্যায়িত করে। ওই ঘটনা রাতারাতি স্পেন এবং মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। স্পেন সঙ্গে সঙ্গেই ওই দুই ভূখণ্ডে বাড়তি সৈন্য পাঠায়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ঘটনাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মরক্কোর মধ্যে ‘নজিরবিহীন সংকট বলে’ বর্ণনা করেন। স্পেনের বিরুদ্ধে পালটা প্রচারণা শুরু করে মরক্কোর জনগণ। টুইটারে এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে হাজারো মানুষ স্লোগান তোলে- ‘উপনিবেশবাদ নিপাত যাক।’ সেউটা ও মেলিল্লা স্পেনের নয়, মরক্কোর।’ এই দুই এলাকার ওপর মরক্কোর মালিকানা দাবিকে যৌক্তিক মনে হওয়া স্বাভাবিক। এই ভূখণ্ড দুটো আফ্রিকায়। কিন্তু এগুলোর ওপর যাদের মালিকানা সেই স্পেনের অবস্থান ইউরোপে। সেই বিচারে সেউটা এবং মেলিল্লার ওপর স্পেনের মালিকানা ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের আদর্শ একটি নমুনা। এবং জমির মালিকানা নিয়ে অন্য সব বিরোধের মতো এখানেও রয়েছে ইতিহাস, আবেগ আর অহংকার। ইতিহাস বলছে, অষ্টম শতাব্দীতে ইউরোপের ইবেরিয়ান উপদ্বীপ অর্থাৎ স্পেন ও পর্তুগাল দখলে মুসলিম মূর সম্রাটদের অভিযান শুরু হয়েছিল সেউটা থেকে। ইউরোপে মুসলমানদের সেই সাম্রাজ্য টিকে ছিল ৮০০ বছর। পরে খ্রিস্টানরা ইউরোপ থেকে মূর মুসলিমদের বিতাড়িত করার পর পর্যায়ক্রমে সেউটা এবং মেলিল্লা দখল করে নেয় স্পেন। পঞ্চদশ শতাব্দিতে স্পেন যখন ভূমধ্যসাগরের অন্য তীরে মেলিল্লা কব্জা করে, ঠিক একই সময়ে ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকায় গিয়ে পৌঁছান। যে ঘটনার ভেতর দিয়ে শুরু হয় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় স্পেন এবং ইউরোপীয়দের উপনিবেশবাদী শাসনের দীর্ঘ ইতিহাস। মেলিল্লা দখলের প্রায় দুশ’ বছর পর সপ্তদশ শতাব্দীতে সেউটাও দখলে নেয় স্পেন। ১৯৫৬ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে মরক্কো স্বাধীনতা পেলেও সেইটা এবং মেলিল্লার নিয়ন্ত্রণ ছাড়েন স্পেন। মরক্কো এবং আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশের শত চেষ্টাও কাজে আসেনি। মুসলমানদের কাছে সেউটা এবং মেলিল্লা ইউরোপীয় খ্রিষ্টান শক্তির কাছে তাদের পরাজয় এবং অপমানের স্মৃতি-চিহ্ন। আরবরা, বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকার মুসলিম আরবরা মনে করে সেউটা এবং মেলিল্লা মুসলমানদের জায়গা, তা সে যতদিন ধরেই অন্যের দখলে থাকুক না কেন। মরক্কোর একজন ঐতিহাসিক লিখেছেন, ‘পুরনো সেই ক্ষত এখনো সারেনি এবং তা সারবেও না যতদিন না ওই দুই ভূখণ্ড আবারও মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসে।’ এমনকি আরবি উইকিপিডিয়ায় এই দুই শহরের পরিচিতি লেখা হয়েছে, স্পেন নিয়ন্ত্রিত মরক্কোর শহর। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
