সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ৭০০ টাকা দামের সোলার প্যানেলের ব্যাটারি চুরিতে বাধা দেয়ার কারণে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় গ্রামপুলিশকে। শনিবার (০৮ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ র্যাব ক্যাম্প সিপিসি-৩-এর অধিনায়ক লে. কমান্ডার সিঞ্চন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গত ৬ মে রাতে তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের বোরোখাড়া গ্রামে আব্দুর রউফ নামের এক গ্রামপুলিশকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পরপরই র্যাব অপরাধীদের ধরতে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতায় ক্লুলেস খুনের মোটিভ বের হয়ে আসে।
এ ঘটনায় শনিবার ভোরে হলহলিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিম ও বোরোখাড়া গ্রামের এনামুল হককে আটক করে র্যাব। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে তারা।
র্যাব জানায়, আটককৃত এনামুল হক ও আব্দুল হেকিম র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ৫ মে রাত সাড়ে ১০টায় আটককৃত এনামুল হক ও আব্দুল হেকিম ও পালাতক সোহেল মিয়া বোরোখাড়া গ্রামের পাশে একটি হাওরের খোলা জায়গায় আড্ডা দেয়ার পর একই গ্রামের সফদর আলীর ধানের খলা থেকে ধান চুরি করে। তারপর এনামুল সোহেল ও আব্দুল হেকিমকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার জন্য সামনে এগিয়ে দেয়। সে সময় সুহেল মিয়া জানায় তার সৌরবিদ্যুতের সোলার প্যানেলের একটি ব্যাটারির দরকার। তখন আব্দুল হেকিম বলে বোরোখাড়া গ্রামের চৌকিদার আব্দুর রউফের বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের ব্যাটারি আছে। এ কথা বলার পর তারা তিনজন রউফের দরজাবিহীন বাড়িতে ব্যাটারি চুরির জন্য প্রবেশ করে।
ব্যাটারি প্যানেলের সংযোগ লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে আসার সময় গ্রাম পুলিশ রউফ চুরির বিষয়টি টের পেয়ে ঘুম থেকে ওঠে সজাগ হয়ে যান। এ সময় রউফ চোর চোর বলে চিৎকার করলে আব্দুল হেকিম ও এনামুল হক ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর ব্যাটারি নিয়ে পালিয়ে যায়। আটককৃতদের তাহিরপুর থানায় হস্তান্তর করছে র্যাব পলাতক সুহেলকে গ্রেফতার করতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।