ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৬ মে ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
তারুণ্যদীপ্ত এক সব্যসাচী মানুষের গল্প
সালাহ্ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী
প্রকাশ: Saturday, 13 February, 2021, 1:02 PM

তারুণ্যদীপ্ত এক সব্যসাচী মানুষের গল্প

তারুণ্যদীপ্ত এক সব্যসাচী মানুষের গল্প

অনেক বছর আগের কথা। সম্ভবত তখন আমি রুশ বার্তা সংস্থায়। সেসময় মোবাইল ফোন ছিলোনা। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ল্যান্ডফোন, যেগুলো আমরা টিএন্ডটি ফোন হিসেবে জানতাম। এক সকালে একটা কল এলো। অপরপ্রান্তে অচেনা একজন। জাপানী দূতাবাসের মিডিয়া শাখার বড়কর্তা। নাম মুজতবা আহমেদ মুরশেদ। তাঁর কথা বলার স্টাইলটার মাঝেই কেমন এক জাদুকরী ব্যাপার আছে। বিশুদ্ধ বাংলায় থেমে-থেমে কথা বলা এই মানুষটাকে টেলিফোনের অন্যপ্রান্ত থেকেই বোঝা গেলো, লেখাপড়া জানা প্রচণ্ড রকম গুণী একজন ব্যক্তিত্ব। সবচাইতে বড় কথা হলো, তাঁর ভেতর অহংকারের ছিটেফোটাও নেই। একদম শিশুদের মত সরল-সহজ। সেই থেকে আমাদের পরিচয় অতঃপর সম্পর্কের পালা শুরু হলো। আজও অব্যাহত আছে - আগের মতোই, কিংবা আরো অনেক বেশী গভীরভাবে।

মুরশেদ ভাই একাধারে কবি, সাহিত্যিক, গল্পকার, উপন্যাসিক, বক্তা, এবং সফল উপস্থাপক। দীর্ঘ অনেকগুলো বছর জাপান, জার্মানীসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক উপদেষ্টা দায়িত্ব পালনের সুবাদে তিনি খানিকটা কূটনীতিকও। দেশ-বিদেশ সম্পর্কে ওনার জ্ঞানের পরিধিটা এতোটাই বিস্তৃত যে, মুরশেদ ভাইর সাথে কথা বলা মানেই নতুন কিছু শেখা। আমি প্রতিনিয়ত তাঁর কাছ থেকে শিখছি - শিখি। মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ব্যাপারেও মুরশেদ ভাইর জুড়ি নেই। আজ থেকে ১৮ বছর আগে একদিন মুরশেদ ভাই আমায় বললেন উপন্যাস লিখতে। আমি নির্দ্বিধায় বললাম, আমি যেহেতু সাংবাদিক, তাই আমার প্রতিটি লেখাই একটা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে থেমে যায়। আমরা কোনোকিছু লেখার আগেই এর শেষ প্যারাগ্রাফটা প্ল্যান করে নিই। তাই আমায় দিয়ে উপন্যাস হবেনা। মুরশেদ ভাই বললেন, ঢং রাখেন। আপনি উপন্যাস লিখতে পারবেন। এর মাঝে অনেকবার উপন্যাস লেখার চেষ্টা করে মাঝপথে থেমে গেছি। গত বছর নভেম্বর থেকে 'যমুনার নিষিদ্ধ বাঁকে' নামে একটা উপন্যাস লিখছি। এযাবৎ শখানেক পৃষ্ঠা লিখতে পেরেছি, এবং বারবারই মনে হয়েছে মুরশেদ ভাইর কথা। তিনি এক সপ্তাহেই একটা উপন্যাস লিখে ফেলেন। আর আমি তিনমাসেও এখনও মাঝপথে হাবুডুবু খাচ্ছি। জানিনা এই উপন্যাসটাও শেষতক শেষ করতে পারবো কিনা। যদি না পারি তো এটার এপিটাফে লিখে দেবো - মুরশেদ ভাই, আমাকে দিয়ে উপন্যাস হবেনা। জানি একারণে বন্ধুর কাছ থেকে একঝাঁক ভৎসর্না শুনতে হবে। তাতে আমার আপত্তি নেই। মুরশেদ ভাই যা এক সপ্তাহে লিখতে সক্ষম, সেটাই আমার কয়েক মাসেও হয়না। এটা আমার সীমাবদ্ধতা।

গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে মুরশেদ ভাই ক্রাউন এন্টারটেইনমেন্ট অফিসে আসেন। আমার আমন্ত্রণে। অনেক বছর পর ওনার সাথে দেখা। তখন তিনি বহুজাতিক বিমসটেক এর উপদেষ্টা। করোনা মহামারীর কারণে সেদিন ওনাকে বুকে জড়িয়ে ধরা হয়নি। হাত মেলানোও যায়নি। কিন্তু মনের কোলাকোলি হয়েছে গভীরভাবে। নাট্যকার হিসেবে মুরশেদ ভাইর জনপ্রিয়তা বহু বছর আগে থেকেই। বিটিভিসহ অনেক চ্যানেলেই ওনার লিখা নাটক প্রচারিত হয়েছে। এরমাঝে 'বাতাসের ঘর' নামের ধারাবাহিকতা ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পেয়েছিলো। আমি বরাবরই ওনাকে বলি আবারও নাটক লিখতে। কারণ, ওনার লিখা গল্পগুলো মৌলিক এবং চিত্রনাট্যের এক ধরনের ভিন্নতা আছে, যা দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কাটতে সক্ষম।

১৪ ফেব্রুয়ারী একটা বিশেষ দিন। ভালোবাসা যাদের কাছে অনেক দামী, তাদের কাছে দিনটার মানে অন্যরকম। এযেনো ভালোবাসাবাসির একটা দিন। প্রেমিক-প্রেমিকার উচ্ছাস কিংবা অনুভূতি প্রকাশের বিশেষ এক দিন। এদিনে তো খাঁটি প্রেমিকদেরই জন্মানো মানায়। আমার বন্ধু মুজতবা আহমেদ মুরশেদ এর আজ জন্মদিন ১৪ ফেব্রুয়ারী। কতোতম? দেহের বয়েস বাড়লেও মনের বয়েস কখনোই বাড়েনা। বরং কমে। মুরশেদ ভাইতো সারাখন মনের বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত। স্বপ্নের বিশাল ক্যানভাসে স্বপ্নের রঙ দিয়ে ছবি আঁকেন তিনি। একারণেই এদের বয়েসের সংখ্যা হয়না - হতে পারে না। অনেকেই, যারা মুরশেদ ভাইকে চেনেন - তারা বলবেন ওনার বয়েস ষাট পূর্ণ হলো। আমি বলবো, ওনার মনের গভীরের প্রেম আর সৃজনশীলতা আরো পরিণত হলো - আরো রঙ্গীন হলো। চিরকাল যেনো এভাবেই ভালোবাসা নামের মিষ্টি জগৎটায় ওনার পদচারণা আরো বিস্তৃত হয় - সমৃদ্ধ হয়। শুভ জন্মদিন প্রিয়  মুজতবা আহমেদ মুরশেদ ভাই!

লেখক
সালাহ্ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক, গবেষক, মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ও প্রভাবশালী ইংরেজী পত্রিকা ব্লিটজ সম্পাদক

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status