প্রথম নিয়োগই ছিল বিতর্কিত। রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগও। তারপরও প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ায় পাঁচ মেয়াদে টানা এগারো বছর ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে রয়েছেন প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। এই ব্যক্তিকেই ষষ্ঠ মেয়াদে আরও তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করেছে ওয়াসা বোর্ড।
আবেদন করার যোগ্যতা না থাকলেও দুহাজার নয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে অধিষ্ঠিত হন প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। বিতর্কিত ওই নিয়োগের মেয়াদ শেষ হলে আরও চারবার তাকে পুনর্নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যার কোনটিই বিধিসম্মত নয়। এভাবেই টানা পাঁচ মেয়াদে এগারো বছর ধরে ওয়াসা প্রধানের দায়িত্বে তাকসিম।
শুধু নিয়োগেই ঝামেলা নয়, দুর্নীতিরও অভিযোগ রয়েছে তাকসিমের বিরুদ্ধে। গেল বছর টেন্ডার জালিয়াতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করে পনেরো দিনের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন দিতে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন। কিন্তু বছর গড়ালেও জমা পড়েনি সেই প্রতিবেদন।
আলোচিত এই প্রকৌশলীকে ষষ্ঠ মেয়াদে আরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পুনর্নিয়োগ দিতে সুপারিশ করেছে ওয়াসা বোর্ড। বারো সদস্য নিয়ে গঠিত এই বোর্ডের কয়েকজন বিরোধিতা করলেও বেশিরভাগ সদস্যই ছিলেন তাকসিমের পক্ষে।
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড সদস্য হাসিবুর রহমান মানিক জানান,'সবার সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করেছ। কেউ তার পক্ষে বলছে। কেউ বিরোধীতা করছে।'
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন,'তার যোগ্যতা আছে। তিনি ভালো লোক। কাজ করেছেন। প্রয়োজনে আবারও আসতে পারেন।'
এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত মিললেই আরও তিন বছরের জন্য ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হতে যাচ্ছেন তাকসিম এ খান।