ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২৬ ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
কিস্তির চাপে গৃহবধূর গলায় দড়ি, পালালেন এনজিও কর্মীরা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 15 September, 2020, 10:48 PM

কিস্তির চাপে গৃহবধূর গলায় দড়ি, পালালেন এনজিও কর্মীরা

কিস্তির চাপে গৃহবধূর গলায় দড়ি, পালালেন এনজিও কর্মীরা

Save

Save

পাবনার ফরিদপুরে কিস্তির জন্য চাপ দেয়ায় এনজিও কর্মীদের উপস্থিতিতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক গৃহবধূ।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সদর ইউপির হাঙ্গড়াগাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সাবিনা খাতুন একই গ্রামের দিনমজুর হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, ২০১৯ সালের আগস্টে স্ত্রী সাবিনা খাতুনের নামে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নেন হাফিজুল ইসলাম। সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন অ্যান্ড প্রাক্টিসেস (সিদীপ) নামে এক এনজিওর ভাঙ্গুড়া অফিস থেকে এ ঋণ তোলা হয়। ঋণ নেয়ার পর থেকেই নিয়মিত মাসিক কিস্তি পরিশোধ করছিলেন সাবিনা। সবশেষ তাদের ২৫ হাজার ৪২০ টাকা বাকি ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বামী হাফিজুল ইসলামের কাজকর্ম না থাকায় কষ্টে সংসার চলছিল।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশের কারণে পাঁচ মাস ধরে কিস্তি দিচ্ছিলেন না সাবিনা। একপর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে তার বাড়িতে এসে কয়েক মাসের কিস্তির পুরো টাকা পরিশোধ করার জন্য চাপ দেন সিদীপ এনজিওর ভাঙ্গুড়া শাখার ব্যবস্থাপক মাহমুদুল ইসলাম ও মাঠকর্মী আরিকুল ইসলাম। এ নিয়ে স্বামী হাফিজুল ইসলামের অনুপস্থিতে সাবিনার সঙ্গে এনজিও কর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তার তিন বছরের সন্তান ঘরে কান্নাকাটি করছিল। এ অবস্থায় সাবিনা টাকা আনার কথা বলে ঘরে গিয়ে গলায় দড়ি দেন। এরপর বেশ কিছুক্ষণ সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজনরা ঘরে ঢুকে সাবিনাকে ঝুলতে দেখেন। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক দেখে এনজিও কর্মীরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

সাবিনার জা শেলী খাতুন জানান, ঝুলন্ত সাবিনাকে নামিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি আরো জানান, এনজিও কর্মীরা তার ভাসুরের স্ত্রীর কাছে কিস্তির টাকা চাইলে দেরি হবে বলে জানানো হয়। এ নিয়ে সাবিনাকে নানাভাবে কটূক্তি করেন তারা। তখন তাদের বাড়ির উঠানে রেখে সাবিনা ঘরে গিয়ে গলায় দড়ি দেন।

অভিযোগের বিষয়ে সিদীপের ব্যবস্থাপক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ওই গৃহবধূ নিজে থেকেই কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য আমাদের ডেকেছিল। তাই তার বাড়িতে যাওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে তার সঙ্গে আমাদের কোনো কথা কাটাকাটি হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করেই ওই গৃহবধূ সবার অজান্তে নিজ ঘরে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

ভাঙ্গুড়া থানার এসআই নাজমুল কাদের বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে কিস্তির জন্য চাপ দেয়ার কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে এনজিওর বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ফরিদপুর থানায় করতে হবে।

ভাঙ্গুড়ার ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, কিস্তি দিতে না পারায় গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কিস্তির জন্য চাপ দেয়া আইন বিরোধী কাজ করেছেন অভিযুক্ত এনজিও কর্মীরা। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পাদনা:খালেদ সুজন

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status