আতংকের জনপদ লক্ষ্মীপুর সদরে তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন। হামলা, মামলা আর নির্যাতনের ভয়ে সাধারণ মানুষ চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে। এ ইউনিয়নের শান্ত পরিবেশ অশান্তের দিকে যাচ্ছে। কাদের শেল্টারে অশান্ত হচ্ছে, কারা এ সন্ত্রাসী বাহিনীকে মদদ দিচ্ছে বলে জনেমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। গেল সাপ্তাহে নূরমোহাম্মদ বাহিনীর হামলায় জখম প্রাপ্ত হলেন চারজন। এবার এ বাহিনীর হামলায় থেকে রেহায় পাননি এক ইউপি সদস্য। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) রাত দেড়টায় জেলা সদরের তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে মোল্লারহাট বাজারে এছহাক মাওলানা জামে মসজিদের গেইটের সামনে হামলা ঘটনা ঘটে।
হামলা শিকার নুরুল আমিন তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হয়। তিনি জানান, প্রচন্ড বৃষ্টির কারণে তেওয়ারীগঞ্জ বাজারে আটকা পড়েন। বৃষ্টি শেষে রাত দেড়টায় বাড়ীর উদ্দ্যেশে রওয়া দিলে মোল্লারহাট বাজারে এছহাক মাওলানা জামে মসজিদের গেইটের সামনে পৌঁছিলে পূর্বে থেকে ঔঁৎপাতিয়ে থাকা নূরমোহাম্মদ সহ তার বাহিনীর সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় তাদের সাথে থাকা লোহার রড, ষ্টিলের টর্চ লাইট ও কাঠের রোল দিয়ে আমাকে উপর্যপুরী মারতে থাকে। একপর্যায়ে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বাহিনীর প্রধান নূর মোহাম্মদ আমাকে টেনে হিসড়ে পাশে থাকা কচুরী পানাওয়ালা পুকুরে ফেলে দিয়ে প্রাণের হত্যার উদ্দেশ্যে গলাটিপিয়ে পানির নীচে ধরে রাখে। পরে আমাকে মৃত ভেবে তার ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তিনি বলেন এ হামলায় বাহিনীর প্রধান নূর মোহাম্মদ সহ আবুল বাশারের ছেলে করিম, নূরমোহাম্মদের ছেলে সোহাগ, আবুল বাশারের ছেলে রহিম, ইব্রাহিম, মোসলেহ উদ্দিন, কালাম মিয়ার ছেলে হাদিস মাঝি ও সোলতান আহম্মদের ছেলে ফারুক সহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫জন অংশগ্রহণ করে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে নূর মোহাম্মদ রাস্তার পাশের কয়েকটি সরকারী গাছ কাটলে ফরেষ্ট অফিসার তার করাত কুড়াল আমার কাছে জিম্মায় দিলে সে জোরপূর্বক হত্যার ভয় দেখিয়ে এ গুলো নিয়ে যায় এবং আমাকে দেখিয়ে নিবে বলে হুমকি দেয়। বিষয়টি ফরেষ্ট অফিসারকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি তারা।
নুরুল আমিনের স্ত্রী কহিনুর বেগম জানান, আমার স্বামী তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হয়। নূর মোহাম্মদ আওয়ামীলীগ সভাপতি বলে প্রভাব বিস্তার করিয়া তার দলীয় লোক দ্বারা এলাকার রাস্তার পাশে সরকারী গাছ কাটিয়া নেয়, পল্লী বিদ্যুতের লাইন টানার নামে রাস্তার পাশের সরকারী গাছের অর্ধেক কাটিয়া ফেলে এবং বিভিন্ন প্রকার সুতানাতা বিষয় নিয়ে এলাকার নিরিহ মানুষদেরকে মারধর, টাকা দাবীসহ অত্যাচার নির্যাতন করে বেড়ায়। উক্ত বিষয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগিরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার স্বামীকে জানায়। এসব বিষয় ডাক দোহাই দিলে নূর মোহাম্মদ শুনেনা উল্টো আমার স্বামীর সাথে খারাপ ভাষায় গালমন্দ ঝগড়া বিববাদে লিপ্ত হয়ে আমার স্বামীকে মারার জন্য উদ্যত্ত হয়ে থাকে। তিনি এ হামলার বিচারের দাবী জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ নজির জানান, নূর মোহাম্মদ তেওয়ারীগঞ্জের ৭ও ৮ নং ওয়ার্ড থেকে ৫০/৬০ জন লোক নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে দিনে রাতে এ বাহিনীর আতংকে আমরা ঘুমাতে পারিনা। তিনি ৭ও ৮ নং ওয়ার্ড স্বাধীন করে নিজে আধিপত্য বিস্তার করবে এবলে নিরিহ মানুষের উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে আতংক বিরাজ করছে। তিনি বলেন এখনই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে পুরো ইউনিয়ন ব্যাপী এ বাহিনী নির্যাতন চালাবে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।