ঈদ উপলক্ষে প্রবাসী এক নারীর কাছে টাকা ধার চেয়ে না পেয়ে তাকে গলাকেটে হত্যা করে লাশ বাথরুমে রেখে পালিয়ে যান হত্যাকারী। গতকাল শুক্রবার সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় গলাকাটা অবস্থায় রহিমা বেগম নামে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানান হত্যাকারী আবদুল জলিল ওরফে কালু (৩৯)। কালু ২০০৭ সালে সিলেটের গোয়ালাবাজারে একইভাবে সংঘটিত হওয়া অন্য একটি হত্যা মামলারও আসামি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের কটালপুর গ্রামের মৃত আখলু মিয়ার স্ত্রী যুক্তরাজ্য প্রবাসী রহিমা বেগম ওরফে আমিনা (৬০) তার চার সন্তানসহ যুক্তরাজ্যে থাকতেন। গত দুই বছর ধরে গোয়ালাবাজারের করনসী রোডে নিজস্ব বাসায় তিনি বসবাস করছেন। তার পাশের হেলাল ভিলায় ভাড়া থাকতেন নগরীকাপন গ্রামের আবদুল জলিল ওরফে কালু।
পাশাপাশি বাসা হওয়ায় পরিচিতির সুবাদে কালু গত মঙ্গলবার প্রবাসী রহিমা বেগমের কাছে ঈদ উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা ধার চান। রহিমা বেগম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে কালুকে তাড়িয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রহিমা বেগমকে খুন করার পরিকল্পনা করেন তিনি। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি মঙ্গলবার রহিমার ঘরে লুকিয়ে থাকেন। কিছু সময় পর সুযোগ বুঝে পেছন থেকে রহিমার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে রহিমা বেগম মাটিতে পড়ে যান। পরে ঘরে থাকা বটি দিয়ে তার গলা কাটেন কালু। পরবর্তীতে কালু ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান।
এদিকে, রহিমা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মঙ্গলবার বিকেল থেকে বন্ধ থাকায় দেশে থাকা তার আত্মীয়রা বৃহস্পতিবার রাতে রহিমা বেগমের বাসায় আসেন এবং বাসাটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে গভীর রাতে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে দরজার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে বাথরুমের মেঝেতে রহিমা বেগমের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এ সময় রহিমা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরে শুক্রবার সকাল ১০টায় সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওসমানীনগর (সার্কেল) রফিকুল ইসলাম, ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া পুলিশ ইনভেস্টিগেশন অব ব্যুরো (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দুটি টিম ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এদিকে, শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় একটি হত্যা মালমা দায়ের করেন নিহত রহিমার ছোট ভাই আবদুল কাদির। মামলা দায়েরের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ। এক পর্যায়ে শুক্রবার রাত সোয়া ৩টার দিকে গোয়ালাবাজারস্থ হেলাল ভিলা (করনসী রোড) থেকে আবদুল জলিল কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে কালু তাকে ৫ হাজার টাকা ধার না দেওয়ায় রহিমা বেগমকে গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেন। আজ শনিবার পুলিশ তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রহিমা বেগমের মোবাইল ফোন ও এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বনিক বলেন, ‘আসামি আবদুল জলিল কালুকে গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তি মতে টাকা ধার না দেওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে সে একাই প্রবাসী মহিলাকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। ইতিমধ্যে খুনের আলামত জব্দ করা হয়েছে।’