বন্যায় ডুবে গেছে দেশের বিভিন্ন জেলা। রাজধানী ঢাকার চারপাশেও বাড়ছে পানি প্রবাহ। রাজধানীর ডেমরা এলাকায়ও ঢুকে পড়েছে বানের পানি।
জানা গেছে, বহ্মপুত্র-যমুনার পানি নেমে যুক্ত হচ্ছে পদ্মায়। আর যমুনা-পদ্মার পানি নেমে যুক্ত হচ্ছে মেঘনায়। এ কারণে মধ্যাঞ্চল ও নিম্ন-মধ্যাঞ্চলে দিন দিন বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ইতিমধ্যে বালু নদীর পানি বিপদসীমা পার করেছে। তবে বুড়িগঙ্গার পানি বিপদসীমার এখনো বেশ নিচে আছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম, মেঘালয় এবং হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমেছে। তবে এখন পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টির পানি আরও অন্তত ২৪ ঘণ্টা উজান থেকে আসতে থাকবে। ফলে এই সময়টায় ব্রহ্মপুত্রে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।
আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত বহ্মপুত্র অববাহিকার দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত অনেক কমে আসতে পারে। কিন্তু ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৬৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে। এতে ৩০ জুলাইয়ের পর চতুর্থ দফায় বন্যা শুরু হতে পারে। সাধারণত একদিনে ৩০০ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টি হলে তা অন্তত ১০ দিনব্যাপী বন্যার সৃষ্টি করে।
মূলত গত ২৬ জুন থেকে দেশে বন্যা চলছে। পরে ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফা বন্যা শুরু হয়। আর তৃতীয় দফার বন্যাটি শুরু হয়েছে ২১ জুলাই। পানি ও বন্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বন্যার মূল কারণ দু’টি। এগুলো হচ্ছে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন রাজ্যে ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পানি। দেশের ভেতরে অতিবৃষ্টিও বন্যার সৃষ্টি করে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৮টি বড় নদী ২৭টি স্থানে বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে, পদ্মা, গঙ্গা, মেঘনা, যমুনা, বহ্মপুত্র, ধরলা, ঘাগট, করতোয়া, গুড়, আত্রাই, ধলেশ্বরী, বালু, শীতলক্ষ্যা, কালিগঙ্গা, আড়িয়ালখা, পুরাতন সুরমা, তিতাস।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ মুহূর্তে দেশের ৩০টি জেলা বন্যা উপদ্রুত এবং মোট ৩২টি বন্যা কবলিত। জেলাগুলো হচ্ছে-কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নাটোর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, শরিয়তপুর, রাজবাড়ি, ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লালমনিরহাট, নীলফামারী, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেণী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী। এগুলোর সুনামগঞ্জে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থিতিশীল আছে। পরের ১৬টিতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।