ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৯ জুন ২০২৬ ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
সেই করোনার কারণেই আম্ফানে প্রাণহানি কম
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Friday, 22 May, 2020, 10:41 AM

সেই করোনার কারণেই আম্ফানে প্রাণহানি কম

সেই করোনার কারণেই আম্ফানে প্রাণহানি কম

সুপার সাইক্লোন আম্ফানের দাপটে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর মধ্যে শুধুমাত্র কলকাতাতেই মারা গেছে ১৫ জন। এছাড়া হাওড়ায় সাতজন, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৮ জন, পূর্ব মেদিনীপুরে ছয়জন এবং হুগলিতে দুইজন মারা গেছে।

অধিকাংশ লোকই বাড়ির দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার ধারণা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আম্ফান আসার আগে থেকেই উপকূলবর্তী সব এলাকায় মাইকিং করেছে পুলিশ। সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয় জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। এতকিছুর পরও মৃত্যু এড়ানো যায়নি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুধবার পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে, তাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হওয়ার কথা। সেখানে ৭২ জনের মৃত্যু খুব বেশি সংখ্যা নয়। তাদের মতে, লকডাউনে মানুষ ঘরে থাকার কারণে মৃতের সংখ্যা কমেছে।

তবে প্রশাসনের ধারণা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে। তবে সে সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি পৌঁছাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভারতে করোনা মহামারির সংক্রমণ এড়াতে মার্চের শেষ থেকে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। চতুর্থ দফায় লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করা হয়। ফলে দেশটিতে এখনও লকডাউন চলছে।

লকডাউনের কারণে কাজে যেতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। অধিকাংশই বাড়িতে আটকে আছেন। একমাত্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা শ্রমিকরাই এই পরিস্থিতিতে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেছেন। সুন্দরবন থেকেও বহু শ্রমিক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমিকের কাজ করতে যান। তাদের অনেকেই কিছুদিন আগে গ্রামে ফিরেছেন। তাদের কেউ এখনও আটকে রাস্তায়। কিন্তু অধিকাংশ লোকই এখন বাধ্য হয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন।

জেলেরাও মাছ ধরতে বেরতে পারেননি। জঙ্গলে মধু আনতে যেতে পারছেন না সুন্দরবনের বহু মানুষ। মাছের মিন ধরা থেকে কাঁকড়া শিকার-সবই বন্ধ। শুধু তাই নয়, কলকাতা শহরেও কার্যত সকলে গৃহবন্দি। অফিস এখনও খোলেনি। ফলে ঝড়ের সময় প্রায় সকলেই বাড়িতে ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কারণেই বহু মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন।

অতীতে দেখা গেছে, আম্ফানের চেয়ে অনেক কম গতির ঝড়েরও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বিপদ সংকেত থাকা সত্ত্বেও মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়েন জেলেরা। সাধারণ কালবৈশাখীর পরেও খবর পাওয়া যায় বহু জেলে নিখোঁজ। কখনও নৌকা উল্টে তাদের মৃত্যুর খবর আসে। জঙ্গলে হারিয়ে যান বহু মানুষ।

শহর মফস্বলে রাস্তায় থাকা মানুষরা গাছ চাপা পড়ে মারা যান। দোকানের ওপর গাছ বা ল্যাম্প পোস্ট পড়ে অনেকের মৃত্যু হয়। যাত্রী বোঝাই বাসের ওপর গাছ পড়ে যায়, বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বহু মানুষের।

তবে লকডাউনের জেরে গত কয়েক মাস ধরে রাস্তাঘাটে বাস নেই। জেলেরা নৌকা তুলে রেখেছেন। শহরের অধিকাংশ মানুষ বাড়িতে বসে কাজ করছেন। বহু মানুষ কাজ হারিয়ে গৃহবন্দি। বুধবার দুপুর থেকে শহরে এবং গ্রামে রাস্তাঘাটে কার্যত কোনো লোক দেখা যায়নি।

তবে আম্ফানে প্রাণহানি তুলনামূলক কম হলেও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ঘর হারিয়ে, সম্পত্তি হারিয়ে দিশেহারা মানুষ। সবমিলিয়ে অপূরণীয় ক্ষতি করে গেছে আম্ফান। তবে স্বস্তি একটাই-অন্তত প্রাণে বেঁচে গেছেন তারা।সূত্র: ডয়চে ভেলে

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status