শ্রমিক ছাঁটাই ও গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করে দিয়ে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে রাজধানীতে। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দিনকে দিন বেড়েই চলছে। তবে এর মধ্যেও কিছু পোশাক কারখানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তার সাথে কাজ করাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরার স্যার ডেবিট লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানার মালিক শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রেখে রাজধানী ছেড়ে পালিয়েছে। এ নিয়ে শ্রমিকরা মালিক পক্ষের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোন উত্তর পাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, এই মালিক নানা অজুহাতে তার গ্রামের বাড়ি পাবনায় পড়ে আছেন। শ্রমিকরা ফোন দিলেই নানারকম তালবাহানা করে এড়িয়ে চলছেন।
শ্রমিকরা জানিয়েছে, আগামীকালের মধ্যে আমাদের বকেয়া পরিশোধ না করলে আমরা শ্রমিক সংগঠনগুলো নিয়ে ও বিজিএমইএসহ কারখানার মালপত্র বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি বিজিএমইএ আমাদের পাশে থাকবে।
এদিকে মিরপুরের আজমত গার্মেন্টস নামে এটি কারখানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ পোশাক কারখানাটি চালু করার আগে সকল শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছে এবং এই কারখানাটির ভিতরেই শ্রমিকদের সার্বক্ষণিক থাকার ব্যবস্থা করেছে। সেইসাথে খাওয়া ও যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। তবে এর মধ্যে অনেক শ্রমিক কারখানাটির ভিতরে বন্দী দশা কাটাতে চাচ্ছেন না। তারা বলছেন, আমরা কাজ শেষ হলে বাসায় ফিরতে চাই। তবে মালিকপক্ষ বলছে, তাদের সাথে কথা বলেই কারখানাটিতে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন যদি কেউ বের হতে চায় তবে সে আর প্রবেশ করতে পারবে না।
এদিকে দক্ষিণ খান এলাকার একাধিক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাধিক পোশাক কারখানায় দুই শতাধিক পোশাক শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিষয়টি পোশাক শ্রমিক সংগঠনগুলোকে জানালে তারা মালিক পক্ষের সাথে সমঝোতা করার চেষ্টা করে।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছু এক পোশাক কারখানার মালিক জানান, আমাদের সামনে যে সংকট আসছে তা প্রণোদনা দিয়ে উত্তরণের কোনো সম্ভাবনা নাই। যার ফলে অনেকে প্রণোদনা পেয়েও নিতে অনীহা।
আরেকটি সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বিজিএমইএ। এইজন্য দফায় দফায় পোশাক কারখানা মালিকদের সাথে বসে আলোচনা করছে বিজিএমইএ।