ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
লকডাউনে থাকা উহান দেখালেন দুই নির্মাতা, গা শিউরে ওঠা প্রামাণ্যচিত্র
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 14 April, 2020, 4:09 PM

লকডাউনে থাকা উহান দেখালেন দুই নির্মাতা, গা শিউরে ওঠা প্রামাণ্যচিত্র

লকডাউনে থাকা উহান দেখালেন দুই নির্মাতা, গা শিউরে ওঠা প্রামাণ্যচিত্র

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে এসে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে সর্বপ্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। তারপর চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে উহান শহর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। উহান থেকে ছড়িয়ে যাওয়া করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত সারাবিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ১৯ লাখ ২৫ হাজার তিনশ ৮৪ জন এবং মারা গেছে এক লাখ ১৯ হাজার সাতশ ১৮ জন।

জানুয়ারিতে লকডাউন হওয়ার পর থেকে ৫০ দিনের উহান শহর প্রামাণ্যচিত্র আকারে তুলে ধরেছেন সেখানকার দু'জন চলচ্চিত্রকার। তাতে তারা দেখানোর চেষ্টা করেছেন, গত দুই মাসে উহান শহরের মানুষের জীবন কেমন ছিল।

চলচ্চিত্রকার দু'জনের একজন হলেন লিন ওয়েনহুয়া এবং অন্যজন সাই কাইহাই। শুরুতেই দেখা যায়, উহানের ফাঁকা রাস্তায় নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন এই দু'জন চলচ্চিত্রকার।

প্রামাণ্যচিত্রে লিন ওয়েনহুয়া বলেন, উহান তার নিজের শহর। এখানেই জন্মেছেন তিনি। এই শহরে তার অনেক স্মৃতি। অন্যদিকে উহান শহরে বেড়ে উঠেছেন সাই কাইহাই। তার স্ত্রী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের নার্স।

করোনা আক্রান্ত একজনের স্ত্রী তাকে দেখিয়েছেন করোনাভা্ইরাসে আক্রান্ত হলে মানুষের ফুসফুস কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তা দেখে আঁতকে উঠেছেন সাই কাইহাই। তবে তিনি জানিয়েছেন, তার স্ত্রীর পেশার সবাই করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সারিয়ে তোলার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

একদিন বাড়িতে ফিরে তার স্ত্রী কাঁদতে থাকেন। ওই সময় সাই কাইহাই তার স্ত্রীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ত্রী উল্টো তাকে দূরে থাকার আবেদন জানান।

২৩ জানুয়ারি উহান শহরে কোনো ধরনের গণপরিবহন ছিল না। তবে প্রাইভেট কার এবং অল্প কিছু মানুষ রাস্তায় ছিলেন। ৯৫ শতাংশ মানুষই মাস্ক পরে ছিল। সব ধরনের গণপরিবহণের কাউন্টার ছিল বন্ধ। তবে স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের তৎপরতা ব্যাপক বেড়ে যায়।

২৪ জানুয়ারি স্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছে দিতে যান সাই কাইহাই। এ সময় তিনি স্ত্রীর কাছে জানতে চান, হাসপাতালে আসলে কী ঘটছে? স্ত্রী তাকে জানান, প্রত্যেকের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নিউইয়ার ইভের রাতের খাবারের জন্য আমরা ইনস্ট্যান্ট নুডলস রেখেছি। জ্বরসহ এসব লক্ষণের রোগীকে চিকিৎসার জন্য সাতটি হাসপাতাল চিহ্নিত করা হয়েছে।

৩০ জানুয়ারি সাই কাইহাই-এর স্ত্রীর কাশি হতে শুরু করে। ওই সময় তাকে ঘর থেকে বাইরে থাকার অনুরোধ করেন তার স্ত্রী। এমনকি পার্সোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট পরে থাকার পরেও নিষেধ করেন সেখানে থাকতে।

সাই কাইহাই জানান, বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলেও সবাই ব্যবস্ততার কথা বলছিল। কেউ তার স্ত্রী সাহায্যের জন্য রাজি হয়নি। স্ত্রীকে কোনো হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পেরে সাই কাইহাই ভয় পান। ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি অনলাইনে অর্ডার দিয়ে করোনার বিভিন্ন উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ পান।

ওই দিনই করোনা আক্রান্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান  লিন ওয়েনহুয়া। আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় রাস্তায়। ওই নারী জানান, তার স্বামী গুরুতর অসুস্থ। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে স্বামীর পুষফুসের রিপোর্ট ওই নির্মাতাকে দেখান তিনি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status