করোনাভাইরাস শুধু মারবে না, জন্মের হারও কমিয়ে দেবে!
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 11 March, 2020, 9:03 PM
করোনাভাইরাস শুধু মারবে না, জন্মের হারও কমিয়ে দেবে!
চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে ১১৫টি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ২৮৪ জনের, আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬ জন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। নতুন এই ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ইতালি,ইরান,চীন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য সহ বিশ্বের অনেক দেশের নাগরিকেরা খাদ্য, পানীয়, স্যানিটাইজার, মাস্ক মজুত করছে। সব প্রস্তুতি নিয়ে তারা বাসায় সময় কাটানো শুরু করেছেন। অনেকে বাসায় বসেই অফিসের কাজকর্ম সারছেন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের অফিসের বদলে বাসায় বসে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। এই তালিকায় আছে গুগল, ফেসবুক ও নাসার মতো প্রতিষ্ঠানও।
আধিকাংশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্বের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন তারাঁ। তবে আশার কথা হচ্ছে করোনায় মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৫ থেকে ৫শতাংশ মাত্র। এই হিসেবেও যদি মরে তবুও সারা বিশ্বে এই ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা দাাঁড়াবে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে ২০ কোটি। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই মৃত্যু হবে ৫ লাখ থেকে এক কোটি মানুষের।
তবে যখন আমরা জনসংখ্যার উপর মহামারীগুলির প্রভাব সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন কেবল মৃত্যুর দিকে নয়, জন্মের দিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থতা, পৃথকীকরণ,মৃত্যু,গর্ভধারণ, গর্ভাবস্থা এবং জন্মের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে করোনা ভাইরাস। এই গবেষণা সার সংক্ষেপ হচ্ছে, কীভাবে মহামারী জন্মের হারকে প্রভাবিত করে এবং কীভাবে করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী জন্মের হারের চলমান সংখ্যাকে হ্রাস করবে সেটা নির্ণয় করা।
কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস খুব সম্ভবত মানুষের জন্মহার হ্রাস করতে পারে এবং এটা ব্যাপক হারে করতে পারে। তবে মহামারীটি অতিক্রান্ত হওয়ার পরে, চীন ব্যতীত অন্য দেশগুলিতে জন্মহার আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত যদি মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কম হয়, সরকার গুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যেমন অসুস্থতাজনিত ছুটি বাড়ানো বা বেকার বীমা সুবিধা বাড়ানো ইত্যাদি পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে নিতে হবে। তবে চিনের প্রকৃতিবিরোধী সতন্ত্র জনন নীতির কারণে সেখানে জন্মহার বাড়বে এমন প্রত্যাশা করা যায় না।
উচ্চ-মৃত্যুর ঘটনা এবং ভবিষ্যতের জন্মহার কমে যাওয়ার মাঝে একটা সম্পর্ক আছে। পূর্ববর্তী একাডেমিক গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে যে উচ্চ-মৃত্যুর ঘটনা দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, হিটওয়েভ এবং মহামারীর মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ৯ মাস পরও সেখানে জন্মহারের উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটেছছে। গবেষণায় দেখা গেছে হ্যারিকেন মারিয়া, হারিকেন ক্যাটরিনা এবং ২০১৫ সালের লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন এবং গিনিতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপুল সংখ্যাক মানুষের প্রাণহানীর পর সেখানে জন্মের হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কেটে গেলেও মানবজাতীর ওপর এর দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব রেখে যাবে। এই ভাইরাসের কারণে মানুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে, ভাইরাসটি যদি সত্যিই বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে আকারে দেখা দেয় এবং বিপুল মানুষের প্রাণহানী ঘটায় তবে অর্থনৈতিক ও সামজিক ভারসাম্যে যে বিপর্যয় ঘটবে সেটা কাটিয়ে উঠতে মানবজাতীর দীর্ঘদিন লেগে যেতে পারে।