ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২২ জুন ২০২৬ ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
রপ্তানির পর নিজেরাই পেঁয়াজ সংকটে, গণমাধ্যমের আক্ষেপ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 8 December, 2019, 11:24 AM

রপ্তানির পর নিজেরাই পেঁয়াজ সংকটে, গণমাধ্যমের আক্ষেপ

রপ্তানির পর নিজেরাই পেঁয়াজ সংকটে, গণমাধ্যমের আক্ষেপ

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সবচেয়ে বেশি আলোচিত কৃষিপণ্যের নাম পেঁয়াজ। আকাশছোঁয়া দাম হওয়ায় বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ ও কদর। দফায় দফায় দাম বেড়ে যাওয়ায় হালি কিংবা জোড়া হিসেবেও বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। চলতি বছরের শুরু ত্থেকেই পেঁয়াজ সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় বন্ধুদেশ ভারত থেকে আমদানি করা হয় পেঁয়াজ। ভারতের বাজারে তখন পেঁয়াজ সাধ্যের ভেতরেই ছিল। তবে হঠাৎ করেই সেখানে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেলে কারন হিসেবে বাংলাদেশে রপ্তানিকেই দোষ হিসেবে দেখছেন তারা। পেঁয়াজ রপ্তানিকে কেন্দ্র করে আক্ষেপের শেষ নেই গনমাধ্যমেরও।

ভারতের বহুল প্রচারিত জনপ্রিয় বাংলা পত্রিকা ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ প্রকাশিত করেছে পেঁয়াজ রপ্তানির ঝাঁজ কেমন। পত্রিকাটি লিখেছে, ”রাজ্যে সারা বছর পেঁয়াজের যা চাহিদা তার ৬৫ শতাংশেরও বেশি উৎপাদন করে পশ্চিমবঙ্গ। তার পরেও পেঁয়াজের জন্য তাকে হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হয় ভিন্‌রাজ্যের দিকে! সৌজন্যে ‘সংরক্ষণ ব্যবস্থা’। এ রাজ্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা যদি মহারাষ্ট্রের মতোও করা যেত, তা হলে এই দুর্দিনের মুখ দেখতে হত না রাজ্যবাসীকে। বরং এই সঙ্কটের সময়ে ত্রাতার ভূমিকা নিতে পারত ‘বাংলার পেঁয়াজ’। এমনটাই মত, এ বঙ্গের পেঁয়াজ চাষি ও ব্যবসায়ীদের একাংশের।”

পেঁয়াজে উৎপাদনের প্রধান উৎস মহারাষ্ট্র। পশ্চিমবঙ্গের ৭০ শতাংশ পেঁয়াজ আসে মহারাষ্ট্রের নাশিক থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ দক্ষিণ ভারত থেকে আসে। কিন্তু এ রাজ্যেও তো পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। রাজ্যের চাহিদা মেটাতে তার ভূমিকা কী? সরকারি টাস্ক ফোর্সের এক সদস্য জানাচ্ছেন, প্রতি বছর এ রাজ্যে ৮ লক্ষ মেট্রিক টনের কাছাকাছি পেঁয়াজ লাগে। এখন বিভিন্ন জেলায় পেঁয়াজ উৎপাদন হয় প্রায় ৫ লক্ষ মেট্রিক টন। অর্থাৎ রাজ্যে তিন লক্ষ মেট্রিক টন ঘাটতি। সেই ঘাটতির অংশটুকুই তো আমদানি করলে হয়ে যাওয়া উচিত? তা হলেই তো পেঁয়াজের দাম সারা বছর নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা?

কিন্তু পেঁয়াজ চাষিদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের যা চাহিদার প্রায় সবটাই ভিন্‌রাজ্য থেকে আমদানি করা হয়। কারণ, এ রাজ্যের সিংহ ভাগ পেঁয়াজই রফতানি করা হয় প্রতিবেশী বাংলাদেশে। কী বলছেন ওই চাষিরা? তাঁদের দাবি, আগে হুগলি, নদিয়া, বাঁকুড়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় পেঁয়াজ চাষ হত। এখন প্রায় সব জেলাতেই কম-বেশি পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে। সে কারণে উৎপাদনের পরিমাণও বেড়েছে। কিন্তু চাষ করলেই তো হল না, ওই পেঁয়াজ সংরক্ষণও তো করতে হবে!

মুর্শিদাবাদের চাষিদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পত্রিকাটি আক্ষেপ প্রকাশ করে লিখেছে, ”রাজ্যের পেঁয়াজ রফতানি হয়ে যায় বাংলাদেশে। আর নিজেদের পেঁয়াজ আমদানি করতে হয় ভিন্‌রাজ্য থেকে। গত ফেব্রুয়ারিতে মুর্শিদাবাদ রাজ্যে পেঁয়াজের যে ফলন হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে চলে গিয়েছে। জুন-জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশেও এ রাজ্যের পেঁয়াজ রফতানি হয়েছে। তবে, এ দেশে পেঁয়াজ সঙ্কট শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, পেঁয়াজ ব্যবসায়ী কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এক। অর্থাৎ যে ব্যবসায়ী বাংলাদেশে এ রাজ্যের পেঁয়াজ রফতানি করছেন, তিনিই আবার অন্য সময় মহারাষ্ট্র এবং দক্ষিণ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে। চাষিদের কথায়, ‘বিষয়টা কেমন হল বুঝলেন! আমাদের পেঁয়াজ কম দামে কিনে বাংলাদেশে রফতানি করে এক বার মুনাফা। আবার ভিন রাজ্যের পেঁয়াজ এখানে আমদানি করে সেখান থেকেও লাভ লুটছেন ওঁরা। সরকার বসে বসে দেখছে।’

এদিকে দেশে চলমান পেঁয়াজ সংকটের জন্য ভারতকে দায়ী করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, ভারত আগে না জানিয়ে হঠাত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা যে শিক্ষা পেলাম ভবিষ্যতে আর কখনো এ রকম সংকট হবে না। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর আমাদের শিক্ষা হয়ে গেছে। তারা আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে তাতে কোনো কোনো সময় পেঁয়াজের সংকট থাকে, কীভাবে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, তা আমরা জেনে গেছি। দ্রুতই পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলেও জানান তিনি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status