বিদ্যূৎ বিভাগের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ
মুহাম্মদ ইউসুফ খাঁন, সীতাকুন্ড
প্রকাশ: Monday, 25 November, 2019, 11:17 PM
বিদ্যূৎ বিভাগের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ
‘গত কয়েক মাস পূর্বেও মিটার প্রতি বিদ্যুৎ বিল প্রদান করেছি ২-৩’শ টাকা, কিন্তু ইতিমধ্যে এক লাফে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩-৪ গুন। এ ছাড়া মাঝে মাঝে বকেয়া বিল আদায়ের নামে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে ভুতুড়ে বিলের কপি’। এ ধরনের শত শত অভিযোগের উপর ভর করে চলছে বাড়বকুন্ড বিদ্যুৎ বিতরন বিভাগ।
অথচ শত অভিযোগ থাকলেও সমস্যা হতে নিস্তার না পাওয়ায় অধিক বিলের ভারে সর্বশান্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা। আমাদের প্রতিনিধি নিজেও ভূতুড়ে বিলের উপর রীতিমত হতবাক। গত ৩ মাস ধরে তেরো'শ চৌদ্দ'শ টাকার বিদ্যূৎ বিল পরিশোধ করেছেন আমাদের সিনিয়র সংবাদকর্মী মুহাম্মদ ইউসুফ খাঁন নিজেও।
৩/৪ মাস পূর্বে তা ছিল সর্বোচ্চ ছয়শ'ত কিংবা সাড়ে ছয়শ'ত। বিদ্যুৎ বিভাগের ভূতুড়ে বিলের মামলার হয়রানি হতে বাঁচাতে সংবাদ সম্মেলন করে সরাসরি অভিযোগ তোলে ধরেছেন ক'য়েকজন গ্রাহক।
গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন,‘ বিদ্যুৎ বিল বিতরনকারীরা অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের সুযোগ দিয়ে অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থকে হালাল করবার মানসে কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিভিন্ন সময় চাপিয়ে দেয়া হয় ভুতুড়ে বিল যারা বৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী। মিটারের ধারে-কাছে না গিয়ে অদৃশ্য শক্তির বদৌলতে প্রদান করা হচ্ছে আধ্যাত্নিক সব বিল। এমনি করে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে বাড়বকুন্ড বিদ্যূৎ বিতরন বিভাগের উপর। এ ব্যাপারে সরকারের নজরধারী ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা কামনা করছেন গ্রাহকগণ। অতিরিক্ত বিল প্রদান প্রসঙ্গে অফিসে অভিযোগ করলে গ্রাহককে বিল কমানোর মিটার পরিবর্তনের উপদেশ দেয়- কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনকারী গ্রাহক বলেন,‘ মিটারে রিডিং রয়েছে এক রকম অথচ বিল করা হয়েছে আরেক রকম। বিদ্যুৎ বিভাগের নিকট রিডিং পাওনা থাকা সত্ত্বে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে অধিক বিল কাগজ। এ ছাড়া যথা নিয়মে মিটার চলছে এবং বিলও পরিশোধ করা হচ্ছে এরপরও মিটার নষ্ট দেখিয়ে বিগত ১৭ ইউনিটের জন্য প্রায় ৬৩ হাজার টাকা বকেয়া বিল দিয়ে মামলার হুমকি দিচ্ছে সহকারী ইঞ্জিনিয়ার।
আর এভাবে এক অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চাকুরীর সুবাদে চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা ঘুষ বানিজ্যসহ নানাণ অনিয়ম দূর্নীতি। সীতাকুন্ড উপজেলা জুড়ে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ ঘাটতির সাথে প্রতিনিয়ত চলছে বিদ্যুৎ এর অস্বস্তিকর ভেল্কিবাজী।সরকার যথেষ্ট পরিমানে বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিৎ করলেও কিংবা শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সহিত জনসাধারনকে বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিৎ করলেও ঘন ঘন বিদ্যূৎ চলে যাওয়ায় অতীষ্ঠ এলাকাবাসী ও স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীগণ। অথচ দিনের পর দিন কর্মচারীদের অবৈধ কর্মকান্ডে গ্রাহক ভোগান্তি চরম আকার ধারন করলেও দেখছে না উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। গ্রাহক ও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সংবাদকর্মী বলেন, অপকর্ম করার পরও নিজ দায়িত্ব পালনে সততা অবলম্বন করে থাকেন বলে জানান বাড়বকুন্ড বিদ্যুৎ বিতরন বিভাগের উপ- সহকারী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র ভৌমিক।
এ বিষয়ে বাড়বকুন্ড বিদ্যুৎ বিতরন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খোরশেদ আলম বলেন,‘ অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সব সময় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আর গ্রাহক হয়রানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাও ছাড় দেয়া হবে না এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি চোখে পড়লে জনসাধারণ প্রতিহত করবে বলে জানান তিনি।।