ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ৫ মে ২০২৬ ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
গোলাপি বল নিয়ে কেন এত ভয়, সংশয়?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 18 November, 2019, 8:18 PM

গোলাপি বল নিয়ে কেন এত ভয়, সংশয়?

গোলাপি বল নিয়ে কেন এত ভয়, সংশয়?

এই প্রথম গোলাপি বলে টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। উভয় দলেই চলছে এই বল নিয়ে বিস্তর আলোচনা। কী আচরণ করবে এই বল, কতটা সুইং করবে, কীভাবে ব্যাটিং করতে হবে গোলাপি বলের বিরুদ্ধে ইত্যাদি নানা প্রশ্ন নিয়ে কথা বলছেন খেলোয়াড়রা। গোলাপি বল নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা গুঞ্জন, সেটা বোঝা গিয়েছিল বিরাট কোহলির ১৩ই নভেম্বরের এক সংবাদ সম্মেলনে। এরপর আজিঙ্কা রাহানে গোলাপি বল দিয়ে অনুশীলন করে রীতিমতো ভীতি প্রকাশ করেছেন।

বিরাট কোহলি বলেছিলেন, 'শুরুতে খানিকটা দেখে-শুনে খেলতে হবে, লাল বলে যতটা সহজে আপনি বলের সাথে মানিয়ে নেন গোলাপি বলে তেমনটা হবে না। তেমন শট খেলাও কঠিন হবে। সিম অনেক বেশি নড়াচড়া করে, বিশেষত যেসব মাঠে সুইং হয় সেসব মাঠে খেলা অনেক কঠিন হবে, যদি ঘাস থাকে তো কথাই নেই। এটা বেশ বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। তবে মানিয়ে নিতে হবে। কারণ টেস্ট ক্রিকেটে এখন নতুন উপায় অবলম্বন করা হচ্ছে, সেখানে এই খেলাটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে।'

একদিন ব্যাট করেই বলের আচরণে একটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোহলি, 'এটা বেশি সুইং করে, এটায় বাড়তি ল্যাকার থাকবে (বলের ওপরের চকচকে রঙের স্তর)। ল্যাকার হচ্ছে সেই পদার্থ - যার কারণে নতুন লাল বা গোলাপী বলে ঔজ্জ্বল্য থাকে। উইকেটের সাহায্য ছাড়াও বল সাধারণত সুইং করে দুটো উপাদানের ওপর নির্ভর করে, যার একটি সিম, আর আরেকটি হলো বলে ল্যাকারের পরিমাণ। ল্যাকার যতো কমতে থাকে তত ঔজ্জ্বল্য কমতে থাকে। যে কারণে পুরোনো বল দিয়ে যেসব বোলার সুইং করাতে পারেন - তাদের কদর থাকে বাড়তি।

অন্যদিকে আজিঙ্কা রাহানে বলেন, 'আমরা এমন কিছু দিয়ে কখনো খেলিনি, আমরা অপেক্ষা করছি কী হয় আসলে, কীভাবে খেলবো তা ভেবে আমি খুব উত্তেজিত। এই বলের মুভমেন্ট লাল বলের চেয়ে অনেক বেশি। মানিয়ে নেয়াটাই ব্যাপার। আশা করছি সবাই দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে। আমরা এখন সম্পূর্ণ অন্য ফরম্যাটে খেলব। টেকনিক্যাল স্কিলও একটা ভুমিকা রাখবে। মানসিকভাবে গোলাপি বলের সাথে মানিয়ে নেয়াটাই বড় কথা।'

ইডেন টেস্টের জন্য ৭২টি বল অর্ডার করেছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড। যা ইতিমধ্যে পৌঁছেও গেছে। ভারতের ঘরোয়া লিগ দুলীপ ট্রফিতে গোলাপি বল দিয়ে খেলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন টেস্ট ব্যাটসম্যান চেতেশ্বর পুজারা বলেছেন, 'যত খেলব ততই পেস ও বাউন্সের সাথে আমরা মানিয়ে নিতে পারব। দুলীপ ট্রফিতে খেলেছি এই বল দিয়ে। তাই আমি কিছুটা হলেও জানি ঠিক কী করতে হবে।'

মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৫ই নভেম্বর প্রথমবার গোলাপি বলে খেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। জাতীয় লিগে খুলনা-রংপুরের ম্যাচ শেষে মিরপুরের মাঝের উইকেটে গোলাপি বল দিয়ে নেট করতে নামেন ইমরুল কায়েস ও মেহেদি হাসান মিরাজ।অনুশীলনের জন্য ইমরুলদের জন্য আনানো হয়েছে কুকাবুরার গোলাপি বল, ভারতে তাদেরকে খেলতে হবে এসজি বলে। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে গোলাপি এসজি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটা ব্যবহারেরই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।

প্রথমবার গোলাপি বলে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইমরুল কায়েস বলেন, 'গোলাপি বল সুইংটা একটু বেশি করে বলে আমার কাছে মনে হলো। যেহেতু আমি প্রথমবার অনুশীলন করলাম, হয়তো এরপর আরেকটু ভালো করে বুঝতে পারব আসলে কী হয়। মিরপুরের উইকেট একটু কঠিন ছিল। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় গোলাপি বল সুইং বেশি করে। লাল বলে উজ্জ্বলতাটা নষ্ট হতে একটু সময় লাগে। কিন্তু গোলাপি বলে আমি যতটুক খেললাম আমার কাছে মনে হয় যে উজ্জ্বলতাটা দ্রুত কমে। তবে যতক্ষণ থাকবে সুইংটা একটু বেশি করবে।'

তবে বাংলাদেশের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো গোলাপি বল দিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, 'খুব ভালো হতো গোলাপি বলে যদি দুই দিনের একটা ওয়ার্ম আপ ম্যাচ খেলা যেত। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সঙ্গে আমার সময়ে অ্যাডিলেডে টেস্টের আগে গোলাপি বলে একটা দুইদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিলাম আমরা। প্রথম ও দুই টেস্টের মধ্যে মাত্র তিনদিনের ব্যবধান ছিল বলে কিছু খেলোয়াড়ের মধ্যে বেশ উদ্বেগ ছিল। আমাদের একেবারে নির্দিষ্ট করে সূর্যাস্ত এবং আঁধার নামার মাঝের সময়টায় ব্যাট করতে হবে। এই সময়টা বল দেখতে খুব সমস্যা হয়।'

গোলাপি বলে খেলার শঙ্কার মূল কারণ বাংলাদেশ ও ভারতের সিম বোলারদের মানের পার্থক্য। ভারতের বোলিং লাইন আপে এখন মোহাম্মদ শামি, ইশান্ত শর্মা, উমেশ ইয়াদাভের মতো বিশ্বমানের পেস বোলার আছেন যারা দুই দিকে বল সুইং করানো ও ব্যাটসম্যানদের মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে বল করে সুবিধা নিতে পারেন উইকেটের। কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম টেস্টে লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ তৈরির জন্য ২ পেস বোলার নিয়ে নামে এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের এক ইনিংসে করা রানের চেয়েও ১৩০ রান কম করে দুই ইনিংসে অল-আউট হয়ে যায়।

রাতের অন্ধকারে লাল বল দেখা বেশ কঠিন। বিশেষত যখন সেটা আকাশে ওঠে। তাই ২০০০ সাল থেকেই গোলাপি বলের পরিকল্পনা চলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নানা বৈঠকে। শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে গোলাপি বল তৈরি করা হয় এবং সেটি দিয়ে ধীরে ধীরে খেলা শুরু করা হয়। ২০১৫ সালের ১৭ই নভেম্বর প্রথমবারের মতো অ্যাডেলেডে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দিবা রাত্রির টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ম্যাচে ৩ উইকেটে অস্ট্রেলিয়া জয় পায়। চলতি বছরের শুরুতেই নিউজিল্যান্ডের কাছ থেকে দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলার প্রস্তাব পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বিসিবি তখন সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status